উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ভুলুর নারী কেলেংকারী পাঁচ লাখ টাকায় রফা!

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ খোরপোশের টাকা দিয়ে শেষ পর্যন্ত নারী কেলেংকারীর ঘটনা থেকে মুক্তি পেয়েছেন মেহেন্দিগঞ্জের উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম ভুলু। শনিবার থানায় বৈঠকের পরে পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাদের উপস্থিতিতে খোরশেদ আলম ভুলু ও খালেদা আক্তার মিমের সম্মতিতে সমস্যার সমাধান হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, মিমের সাথে মোট ৫ লাখ টাকায় রফাদফা করে দিয়েছেন আওয়ামীলীগের নেতারা। খোরশেদ আলম ভুলু জানিয়েছেন তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। একটি গ্রুপ তার মাথায় লবন রেখে নাকি বড়ই খেয়েছেন। ভুলুর দাবী ওই নারীর সাথে পাতারহাটের একাধিক আ’লীগ নেতার সম্পর্ক ছিলো। তারা ষড়যন্ত্র করে সব দোষ আমার উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। শনিবার থানায় সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র কামালউদ্দীন, উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. মুনসুর আহম্মেদ, উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি সুভাষ চন্দ্র সরকার, শহিদ শাহ, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল জব্বার কানন এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ফোরকান হোসেন। এ ব্যাপারে আব্দুল জব্বার কাননের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উভয়ের সম্মতিতে যার যার পথে চলে গেছে। এখন সমঝোতা কোন প্রক্রিয়ায় হয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে একই কাগজে খোরশেদ আলম ভুলু ও খালেদা আক্তারকে স্বাক্ষর করতে দেখেছি। আমি সভায় যেতে চাইনি। কিন্তু খালেদাকে আমাকে কাকুতী মিনতি করে বলেছে সবাই ভুলুর পক্ষে আমি যেন তার পক্ষে অন্তত যাই। খালেদার অনুরোধে আমি থানায় গিয়েছিলাম। থানার ওসি মেয়রকে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনিই এর সমাধান করেছেন। তবে পৌর মেয়র কামালউদ্দীন বলেছেন, এসবের মধ্যে আমি আসলে যাইনা। থানায় পরে কি হয়েছে তাও আমার জানা নেই। আমি এখন বরিশালে। ওসি ফোরকান হোসেন বলেন, আমি কোন বৈঠকে ছিলাম না। জরুরী কাজে বাজারে যাওয়ার সময় উপজেলা চেয়ারম্যানকে থানায় আসতে দেখেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু আমার জানা নেই। খালেদা আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এখন আমার কোন অভিযোগ নেই। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুন্দরী মহিলা খালেদাকে খোরশেদ আলম ভুলু বিয়ে করে বরিশালে বাসা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু গোপনে মেহেন্দিগঞ্জের একাধিক নেতার সাথে সম্পর্ক ছিলো এ মহিলার। বিষয়টি জানাজানি হলে সব নেতারা এক হয়ে সবকিছু চাপিয়ে দেন ভুলুর উপর।
উল্লেখ্য গত শনিবার খালেদা আক্তার নামে এক মহিলা ভুলুর স্ত্রী পরিচয়ে থানায় মামলা করতে যান। তার অভিযোগ খোরশেদ আলম ভুলু তাকে বিয়ে করেছেন কিন্তু ভরন পোষন দিচ্ছেন না।
বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে তার (মিম) স্বামী কবির হোসেনের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। পরে ভাইস চেয়ারম্যান কাজীর মাধ্যমে তাকে বিয়ে করে বরিশাল শহরে বাসা রেখে দেন। সেখানে নিয়মিত আসা যাওয়া করতেন খোরশেদ আলম ভুলু। কিছুদিন পূর্বে ভাইস চেয়ারম্যানের পরিবারের লোকজন বিষয়টি জেনে গেলে খালেদা আক্তারের বাসা ভাড়া সহ ভরণ-পোষণের খরচ দেওয়া বন্ধ করে দেন খোরশেদ আলম। এ ঘটনায় খালেদা বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে কোতোয়ালী থানার ওসি বিষয়টি মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসিকে জানান। গতকাল খালেদা আক্তার নিজেই হাজির হন মেহেন্দিগঞ্জ থানায়।
ওসি শেষ পর্যন্ত সমস্যার ভার ছেড়ে দেন পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যানের উপর।