উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় “মোরা”

রুবেল খান ॥ দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় “মোরা”। আজ মঙ্গলবার সকালে আঘাত হানতে পারে এই অঞ্চলে। গতকাল সোমবার বিকালে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ বাংলাদেশের উপকুলের মধ্যে পৌছে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে ৮নং সহ দেশের প্রত্যেকটি সমুদ্র বন্দরে মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। তাছাড়া নদী বন্দরে ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে গেলেও গতকাল বরিশাল-ঢাকা রুটের বড় ধরনের যাত্রীবাহী ৬টি লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। পাশাপাশি দুপুর থেকেই অভ্যন্তরীন রুটের ৩৭টি ছোট লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখে বিআইডব্লিউটিএ। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বরিশাল জেলায় গঠন করা হয়েছে ১০২টি মেডিকেল টিম। খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রন কক্ষ। পটুয়াখালী এবং বরগুনা উপকূলে সরকারি ছুটি বাতিলের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকাগুলোতে জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে জরুরী সভা। মাইকিং এর মাধ্যমে উপকূলের মানুষদের সাইক্লোন সেন্টার সহ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে দেখা গেছে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বরিশাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় “মোরা” ক্রমশই শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ঘন্টায় ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার শক্তির ঝড়ো হাওয়া নিয়ে আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা নাগাদ কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ও হাতিয়া হয়ে উপকূল রেখা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতরের পর্যবেক্ষকরা। আর তাই বরিশালের উপকূলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান জানান, গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টার সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী পায়রা এবং মংলা সমুদ্র বন্দরে ৮নং মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ওই সময় পায়রা বন্দর থেকে ঘূর্ণিঝড় “মোরা” ২৭০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ, দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থান করছিলো। ঘূর্নিঝড় ‘মোরা’র কারণে ৪ থেকে ৫ ফুট জলোচ্ছাস হতে পারে। পাশাপাশি বরিশালে ভাড়ী বৃষ্টিপাত এবং ঝড়ো হাওয়ার আশংকা রয়েছে। যে কারনে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য গতকাল সোমবার থেকেই বরিশাল সদর প্রত্যেকটি জেলা এবং উপজেলা পর্যায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। বিশেষ করে গতকাল বিকালে নগরীর জেলা প্রশাসনের সভা কক্ষে এক জরুরী প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়। সভায় জেলা উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রস্তুত থাকার জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার ২৩৬টি সাইক্লোন সেন্টার প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি গঠন করা হয়েছে ১০২টি মেডিকেল টিম।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় “মোরা”র মোকাবেলায় বরগুনা জেলায় সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বিশেষ করে জেলা এবং উপজেলা প্রশাসন ও হাসপাতালে চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ত্রান এবং অনুদান প্রস্তুত রাখার জন্য বরগুনা জেলা প্রশাসক নির্দেশ দিয়েছেন।

এছাড়া পটুয়াখালী জেলার ৩৫১টি সাইক্লোন সেন্টার প্রস্তুত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এক জরুরী প্রস্তুতি সভায় জেলা প্রশাসক এর নির্দেশে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সাইক্লোন সেন্টার প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়াও ভোলা, বরগুনা এবং পটুয়াখালীর মাছ ধরা জেলেদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসার নির্দেশনা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। সে অনুযায়ী গতকাল সোমবার বিকাল নাগাদ অধিকাংশ জেলে গভীর সমুদ্র থেকে তীরে ফিরে আসলেও বেশিরভাগ জেলে এখনো সাগরের মোহনায় রয়ে গেছেন বলে দাবী জানিয়েছেন জেলেরা।

অপরদিকে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু বলেন, আবহাওয়া অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী অভ্যন্তরীন রুটের ৩৭টি নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর বাইরে এমভি গ্রীন লাইন সহ বরিশাল-ঢাকা রুটের মোট ৬টি বড় ধরনের নৌযানও বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আদেশ বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।