উন্নয়ন মেলায় দর্শনার্থীদের ভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বর্তমান সরকারের গৃহীত সকল উন্নয়ন কার্যক্রম প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে তুলে ধরতেই নগরীতে অনুষ্ঠিত তিনদিন ব্যাপী উন্নয়ন মেলার দ্বিতীয় দিনে সাধারন দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে উন্নয়ন মেলায় সাধারন দর্শকদের মূল আর্কষনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বরিশাল সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের স্টলটি। বাংলাদেশে সরকারের যোগাযোগ ক্ষেত্রে সার্বিক উন্নয়নের কিছু বাস্তবচিত্র এই স্টলের সামনের অংশে তুলে ধরেছে দপ্তরটি। তাছাড়া উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বরিশাল-ভোলা মহাসড়কের লিংক রোডের বাস্তবচিত্রটি মেলা প্রাঙ্গনে উপস্থাপন করা হয়েছে। আর এর ফলে সাধারন জনগন বর্তমান সরকারের উন্নয়ন সম্পর্কে আরো বেশি ধারনা লাভ করছে। তাছাড়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের সকল কর্মকর্তারা আন্তরিকতার সাথে সেবাগ্রহীতাদের নানা তথ্য দিয়ে সেবা প্রদান করছে।
উন্নয়ন মেলায় সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের স্টলের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অফিস, এলজিইডির স্টলসহ অন্যান্য দপ্তরের স্টল গুলোতে সাধারন সেবাগ্রহীতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বরিশাল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে অনুষ্ঠিত মেলার দ্বিতীয় দিনে দুটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৩ টায় অনুষ্ঠিত সেমিনারের বিষয় ছিল “রুপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ উন্নয়নের মহাসড়কে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ এবং বিকেল সাড়ে ৫ টায় অনুষ্ঠিত সেমিনারের বিষয় ছিল আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনায় “কেমন বরিশাল চাই”। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবুল কালাম তালুকদারের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মোতালেব হাওলাদার। এতে প্রতিবেদন ্উপস্থাপন করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রিফাত মাহমুদ। এছাড়াও সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা মো. আক্কাস হোসেন।
এদিকে তিনদিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার দ্বিতীয় দিনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিষয় ভিত্তিক রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা। ষষ্ঠ শ্রেনী থেকে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের রচনা প্রতিযোগীতার বিষয় ছিল “ডিজিটাল বাংলাদেশ”। নবম থেকে দশম শ্রেনীর রচনা প্রতিযোগীতার বিষয় ছিল “উন্নয়নের রোল মডেল শেখ হাসিনার বাংলাদেশ”। এছাড়াও একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর রচনা প্রতিযোগীতার বিষয় ছিল “২০৪১ সালে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই”। এছাড়াও মেলার দ্বিতীয় দিনে বৌচি ও হাড়িভাঙ্গা খেলা এবং সন্ধ্যা ৭ টায় নৃত্য, প্যাকেজ পরিবেশনা, একক সঙ্গীত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। উন্নয়ন মেলায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সমাজসেবা, ফায়ার সার্ভিস, সিটি কর্পোরেশন, কৃষি বিভাগ, মৎসবিভাগ সহ সকল সরকারী-বেসরকারী দপ্তর এবং বিভিন্ন উন্নয়নমুলক সংস্থার অংশগ্রহনে মোট ১৬৭ টি স্টল রয়েছে। প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত রয়েছে সকলের জন্য। এদিকে উন্নয়ন মেলা নিয়ন্ত্রন ও যাবতীয় তথ্য প্রদানের জন্য রয়েছে নিয়ন্ত্রন কক্ষ। আর এই নিয়ন্ত্রন কক্ষ পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের একজন সহকারী কমিশনার সর্বদা নিয়োজিত রয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ১১ জানুয়ারী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনদিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।