উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ করতে ২০৩০ সালের উদ্ভট ভিশন ঘোষনা করেছে খালেদা জিয়া-খাদ্যমন্ত্রী কামরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ খাদ্য মন্ত্রী এ্যাড. কামরুল ইসলাম-এমপি বলেছেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের ২০২১ সালের ভিশনকে বাধাগ্রস্থ করতে ২০৩০ সালের একটি উদ্ভট ভিশন ঘোষনা করেছে। তারাই বর্মতান সরকারের উন্নয়ন থামিয়ে দিতে দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলা বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বাঁধা গ্রস্থ করতে পারেনি। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশাল নগরীর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে “নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ বাস্তবায়নে জনসচেতনতা” শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. সহিদুজ্জামান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় খাদ্য মন্ত্রী এ্যাড. কামরুল ইসলাম আরো বলেন, আমরা যখন তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে এগুচ্ছিলাম তখন যারা এর বিরোধীতা করেছিলো। আজ তারাই সব থেকে বেশি তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশে পদ্মা সেতু নির্মানের অর্থ ফিরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন ছাড়াই আমরা পদ্মা সেতু নির্মান করছি। আমরা আগুন সন্ত্রাস দেখেছি। তার পরেও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আমরা এগিয়ে চলেছি।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদিয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ. ওয়াদুদ দারা, বরিশাল-২ আসনের এমপি এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস, বরিশাল-৩ আসনের এমপি এ্যাড. শেখ মো. টিপু সুলতান, বরিশাল সদর-৫ আসনের এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ, খাদ্য বিষয়ক চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুল হক ও বরিশালের জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান।
এরপর বেলা ১২টার দিকে বরিশালের জেরা প্রশাসক এর সম্মেলন কক্ষে বোরো সংগ্রহ অভিযানকে সামনে রেখে “খাদ্যশস্য সংগ্রহ বিষয়ে খাদ্য বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি অতিথি হিসেবে অংশগ্রহন করেন মন্ত্রী কামরুল ইসলাম-এমপি।
জেরা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কোন খাদ্য সংকট নেই। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমান খাদ্য মজুদ আছে। জনগনকে কোন ভাবেই খাদ্য সংকটে পরবে না। কিন্তু তার মধ্যেও একটি অসাধু চক্র সরকারকে বিপদে ফেলতে ষড়যন্ত্র করছে। তারা মিথ্যার প্রচারনা চালিয়ে জনগনকে বিভ্রান্তিতে ফেলার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার কখনই ষড়যন্ত্রকে ভয় পায়নি, আর পাবেও না। তাই খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সততা, ন্যায়-নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যেতে বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে বোরো ধান সংগ্রহ চলছে। দেশের মধ্যে সব থেকে বেশি ধান-চল সংগ্রহ হয় উত্তর বঙ্গে। সব থেকে কম সংগ্রহ দক্ষিণ বঙ্গে। এখানে সংগ্রহের পরিমান মাত্র ৬ হাজার মেট্রিক টন। এটা আমাদের কাছে কোন বিষয়ই নয়। বরিশাল অঞ্চলে ধান-চাল সংগ্রহ কম হওয়ার অন্যতম কারন হচ্ছে এখানে রাইস মিল এর সংখ্যা কম। যে কারনে উৎপাদন ভালো হলেও সংগ্রহ নেই। কেননা আমরা মিল মালিকদের কাছ থেকেই ধান-চাল সংগ্রহ করে থাকি। এ অঞ্চলে সংগ্রহ বাড়াবার লক্ষে নতুন করে কেউ মিল চালু করতে আগ্রহী হলে তাকে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করবো।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের সংগ্রহ নি¤œমুখি। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহ পূর্বেও ভালো সংগ্রহ ছিলো। হাওর অঞ্চলে বণ্যা এবং জলাবব্ধতা সহ বিভিন্ন কারনে কিছু পরিমান বোরো ফসলের ক্ষতি হয়েছে। সেই ক্ষতিকে পুঁজি করে কিছু অসাধু মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা কৃত্তিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে বাজার উর্ধ্বোমুখি করে তুলতে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের এবারের বোরা ধান সংগ্রহের লক্ষমাত্রা এক কোটি ৫১ লাখ মেট্রিক টন। সেখানে হয়তো বিভিন্ন কারনে হাওর অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৮/১০ লাখ মেট্রিকটন ধানের ক্ষতি হতে পারে। তাতে করে সংগ্রহতে তেমন ক্ষতি হবে না।
খাদ্য মন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, হাওর অঞ্চলে ফলনের ক্ষতির কারনে যাতে খাদ্য ঘাটতি না হয় সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আমরা বিদেশ থেকে চাল সংগ্রহ করছি। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গনমাধ্যমে আমরা টেন্ডারের মাধ্যমে কোটেশন আহ্বান করেছি। আমরা চাই দেশের জনগন ঘরের টেবিলে বসে নিরাপদ খাদ্য খেতে পাক। কিন্তু সরকারের বিরোধীতাকারি একটি মহল সরকারকে বিপদে ফেলতে একটি মহল অপপ্রচার এবং ষড়যন্ত্র করছে। তাই খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, এবার বোরো ধান সংগ্রহে কোন প্রকার অনিয়ম পেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাবির্ক) মো. জাকির হোসেন প্রমূখ।
এদিকে এর পূর্বে সকাল ৯টায় বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন এর আয়োজনে “নিরাপদ খাদ্য: খাদ্যে ভেজাল ও দূষণ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন” এই শ্লোগান নিয়ে নগরীতে এক র‌্যালী বের করা হয়। জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে থেকে বের হওয়া র‌্যালীটি নগরীর সার্কিট হাসাউ চত্ত্বরে এসে শেষ হয়।