উন্নয়ন কর্মকান্ডে কর্দমাক্ত নগরী

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বর্ষা মৌসুমে খোড়াখুড়ির কারনে নগরীর গুরুত্বপূর্ন রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। বর্ষার মধ্যে রাস্তা খুড়ে পানির পাইপ লাইন স্থাপনের এমন উন্নয়ন কাজে জনগুরুত্বপূর্ন সদর রোড সহ আশপাশের কয়েকটি সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে গেছে। এই কারনে পথ চলতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পথচারীরা। এমনকি দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানাগেছে, নগরবাসীর বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরনে স্থাপন করা হয়েছে সার্ফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। প্লান্টের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য শুরু হয়েছে মূল পাইপ স্থাপন। এসব পাইপ নগরীর প্রধান চার সংরক্ষনাগারে (ট্যাংকি) সংযোগ দেয়া হবে। এসব পাইপ স্থাপনের জন্য রাস্তার পাশে মাটি খোড়া হচ্ছে। পরে সেই মাটি রাস্তার উপর রাখা হয়। এতে যানবাহনের পাশাপাশি জনসাধারনের চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় ভোগান্তি যন্ত্রনায় পরিনত করেছে। বর্ষার পানিতে মাটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। এসব রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে কিংবা যানবাহনের চাকায় কাদাপানি ছিটে নষ্ট হচ্ছে পথচারীদের জামা কাপড়।
বিশেষ করে নগরীর জন গুরুত্বপূর্ণ সদর রোড, রাজাবাহাদুর সড়ক, ফকিরবাড়ি রোড, বান্দ রোড, কাউনিয়া, নথুল্লাবাদ সহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কই এখন কর্দমাক্ত হয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে পাইপ স্থাপনের জন্য বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে যানবাহন চলাচল। ফকিরবাড়ি রোড এবং বান্দ রোড সহ ছোট আয়তনের রাস্তার দু’প্রান্ত থেকে আটকে রেখে দিনের পর দিন কচ্ছপ গতিতে চলেছে পাইপ স্থাপন। তবে এসব কিছুর জন্য সাধারন জনগন দায়ি করছেন অপরিকল্পিত নগর উন্নয়নকে। তারা বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে রাস্তা খুড়ে পাইপ স্থাপনে প্রতিটি রাস্তা কর্দমাক্ত’র পাশাপাশি পানি জমে অসহনীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের পূর্বে খোড়া-খুড়ি শেষ না করে কাজ সম্পন্নে বিলম্ব করায় এমন পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন তারা। এজন্য সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদারের পাশাপাশি বিসিসির অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন নগরবাসী।
তারা বলেন, নগর উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। এতে নগরবাসীর সুবিধা। কিন্তু এক রাস্তা মাস যেতে না যেতেই বার বার খোড়া-খুড়ি করা হচ্ছে। এতে অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী এবং পথচারীরা। কিন্তু সব পরিকল্পিতভাবে একবারে করার চেষ্টা করলে এমন ভোগান্তির শিকার হতে হয় না বলেও মন্তব্য করেন তারা। পাইপ স্থাপন সহ উন্নয়ন কাজ বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই সম্পন্ন করা উচিৎ ছিলো। সেই সাথে রাস্তার পাশে জমিয়ে রাখা মাটি তাৎক্ষনিক সরিয়ে ফেললে এমন পরিবেশ সৃষ্টি হতো না। এমনকি রাতে নিরব নগরীতে উন্নয়ন কাজ করা হলে তাতে কিছুটা হলেও ভোগান্তি কম হতো বলে মনে মন্তব্য করেন নগরবাসী। এদিকে বিসিসি কর্তৃপক্ষের বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিৎ বলে মনে করেন তারা।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার বলেন, বর্ষার কারনে একটু ঝামেলা হচ্ছে এটা সত্যি। তবে তার পরেও কিছু করার নেই। কেননা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারলে নগরবাসীর উপকার হবে। তবুও বিষয়টি দেখবেন বলে জানান তিনি।