উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মানের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেনীর ছাত্রদের কাছ থেকে ভবন নির্মান ব্যায় এর নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিগত কয়েক বছর থেকে ভবন নির্মানের অজুহাত দেখিয়ে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বাবদ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তির পর থেকে ভবন নির্মানের নামে টাকা নেয়া শুরু হয় । এরপর প্রতি বছর দিতে হয় ভবন নির্মানের নামে টাকা । একইভাবে ৯ম ও ১০ম শ্রেনীর ছাত্রদের কাছ থেকে একই অজুহাতে আবারও প্রায় জোর করেই টাকা আদায় করা হচ্ছে। বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক আলবার্ট রতœ’র নির্দেশে ওই টাকা তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দুই শ্রেনীতে পড়–য়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।
অভিযোগে তারা জানান, উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানুয়ারী মাসে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেনীতে ভর্তির সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিভিন্ন খাত মিলিয়ে ৩ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে স্কুল উন্নয়ন খাতে জন প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৭৫০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। এর পরেও নানা সময়ে বিভিন্ন খাত দেখিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। ভর্তির সময় সকল টাকা গ্রহনের পরেও ৯ম ও ১০ শ্রেনীর প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর প্রতি জনের কাছে বর্ধিত ভবনের নামে বা কলেজ ভবন নির্মানের নামে দেড় হাজার টাকা করে দাবি করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের পূর্ব পার্শে ১০ তলা এই ভবন নির্মানের জন্য এই টাকা নেয়া হচ্ছে বলে জানায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
অভিভাবকরা আরও জানান, বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেনীতে প্রায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের প্রতি জনকে ভর্তির সময় এবং উত্তীর্ন হয়ে পরবর্তী শ্রেনীতে ভর্তীর সময় এমন করে ৪/৫ বার শুধু বৈধ ভাবেই এমন উন্নয়ন খাতে টাকা আদায় করা হয়। বিগত কয়েক বছর থেকে উন্নয়ন খাতের এই চাদাবাজি চলে আসছে বলে জানিয়েছে তারা। এর পরেও বিদায়ী শ্রেনীর শিক্ষার্থী হওয়ায় ৯ম ও ১০ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শেষ বারের মত জোর করে টাকা আদায় করে নেয়া হচ্ছে। অভিভাবকরা বলেন বিদ্যালয় নিয়ম শৃংখলা ও বিভিন্ন খাত তৈরী করে চাদাবাজি করেছেন প্রধান শিক্ষক আলবার্ট রতœ । বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে ও নানা অজুহাতে জোর করে টাকা নেয়া হয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। দিতে অপারগতা জানালে বা প্রতিবাদ করলে নেয়া হয় শাস্তিমূলক নানা পদক্ষেপ। তাই বাধ্য হয়ে সব সহ্য করতে হয় শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয় প্রধান এর এমন কর্মকান্ড সনামধন্য এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির খ্যাতি দিনে দিনে নস্ট করে দিচ্ছে। এ বিষয়ে তারা শিক্ষা বোর্ডে একাধিক বার যোগাযোগ করে বিষয়গুলো অবৈধ জেনেও সংশ্লিষ্ঠ কেউ কোন পদক্ষেপ গ্রহন না কারায় আশাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
যদিও এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে উদয়ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলবার্ট রতœ বলছেন, কোন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নিয়মবর্হিভূত ভাবে টাকা নেয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি দেড় হাজার টাকা করে যে টাকা আদায় করা হচ্ছে তা প্রাতিষ্ঠানিক আইন মেনে এবং পূর্বনির্দেশনা অনুযায়ী। এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করলে তা ভিত্তিহীন । বিদ্যালয় এর উন্নয়ন এর প্রয়োজনীয় টাকা তো শিক্ষার্থীদেরই দিতে হবে বলে জানান আলবার্ট রতœ।