উদ্ভোধনের ২৯ দিনের মাথায় ডকে উঠল সরকারী নৌ-যান ‘এমভি বাঙ্গালি’

আর.এম মাসুদ ॥ উদ্ভোধনের এক মাস পূর্ন না হতেই ডকইয়র্ডে ফিরলো সরকারী নৌ-যান এমভি বাঙ্গালি । যাত্রা শুরু ২৯ দিনে মাত্র ১০ টি ট্রিপ দিয়েই নানা সমস্যা নিয়ে মঙ্গলবার সকালে সংস্কারের জন্য নারায়নগঞ্জ ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)’র যাত্রীবাহী নতুন জাহাজ ‘এমভি বাঙ্গালি’। সংস্কারকাজ শেষ করে আগামী জুনের আগে এটি আর যাত্রী পরিবহনে ফিরছেনা বলে নিশ্চিত করেছেন প্রকৌশলীরা।
বিআইডব্লিউটিসি’র বরিশাল দফতরের উপ-ব্যবস্থাপক গোপাল মজুমদার জানান, উদ্বোধনের পর ১১ এপ্রিল থেকে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যাত্রী পরিবহন শুরু করে এমভি বাঙ্গালি। এ পর্যন্ত জাহাজটি দিয়ে ৫ রাউন্ড (আসা-যাওয়া) ট্রিপ দেওয়া হয়েছে। বরিশাল-ঢাকা রুটে মোট ১০ বার চলাচলের পর গত সপ্তাহে এর ট্রিপ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক বিআইডব্লিউটিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল ইসলাম জানান, এমভি বাঙ্গালি জাহাজের ডেক যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত নিচতলার চারদিক আটকানো থাকায় যাত্রীদের উপস্থিতিতে স্থানটি অতিরিক্ত গরম হয়ে পড়ে। ফলে অসহনীয় গরমে ডেকযাত্রী ক্রমে হ্রাস পাচ্ছিল। নিচতলায় এই প্রচন্ড গরমের বিষয়টি যাত্রীরা লিখিতভাবে বিআইডব্লিউটিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, একইসাথে চেয়ার যাত্রীদের চেয়ারগুলো আরামদায়ক না হওয়ায় সেগুলো অপসারণ করে সোফা বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণীর কেবিনগুলোও শীততাপ নিয়ন্ত্রিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা রয়েছে। এছাড়া পাথরের সঙ্গে আঘাত লেগে প্রপেলার শ্যাবড ভেঙে গেছে। এ কারণে চলার সময় পুরো জাহাজে কম্পনের সৃষ্টি হচ্ছিলো। এসব কারণে এমভি বাঙ্গালীকে যাত্রীপরিবহন থেকে ক্লোজ করে নারায়নগঞ্জ ডকে পাঠানো হয়েছে। সংস্কার শেষে ১৫দিন পর আবার যাত্রী সার্ভিসে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে বিআইডব্লিউটিসি’র দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এমভি বাঙ্গালিকে জুনের আগে সার্ভিসে নামানো সম্ভব নয়। একই সময়ে এমভি মধুমতি জাহাজও উদ্বোধন করে দুটি জাহাজ একসঙ্গে সার্ভিসে নামানো হবে।
প্রসঙ্গত, কনস্ট্রাকশন অব প্যাসেঞ্জার ভেহিকেল ফর বিআইডব্লিউটিসি প্রকল্পের আওতায় বিআইডব্লিউটিসির তত্ত্বাবধানে ‘এমভি বাঙ্গালি’ ও ‘এমভি মধুমতি’ নামে দুটি জাহাজ নির্মাণ করেছে চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড। গত ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘এমভি বাঙ্গালি’ জাহাজটি উদ্বোধন করেন। অপরদিকে একই সঙ্গে তৈরি করা ‘এম ভি মধুমতি’ জাহাজটি জুনে বিআইডব্লিউটিসি’র বহরে যুক্ত হবে। জাহাজ দু’টির প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৭৫ দশমিক ৫০ মিটার। প্রস্থ ১২ দশমিক ৫০ মিটার। প্রতিটির যাত্রী ধারণক্ষমতা ৭৫০ জন এবং মালামাল পরিবহনের ক্ষমতা ২শ’ মেট্রিক টন। এ জাহাজ দুটি’র গতিবেগ ঘন্টায় ২০ ন্যটিক্যাল মাইল।