উদ্বোধনের অপেক্ষায় শেবাচিমের আইসিইউ ভবন

রুবেল খান॥ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) তিন দিন পূর্বে হস্তান্তর করেছে গনপূর্ত বিভাগ। পরে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে রোগী পর্যবেক্ষন, চেতনানাশক যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য মালামাল। এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় দক্ষিণাঞ্চলবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশিত শেবাচিম হাসপাতালের আইসিইউ ভবন।
গনপূর্ত মেডিকেল কলেজ উপ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিধান মজুমদার পরিবর্তনকে জানান, স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী তারা এক সপ্তাহের মধ্যেই আইসিইউ’র সকল কার্যক্রম শেষ করেছেন। তবে ভবনের বাইরে কিছু সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ এখনো চলছে। যা ২/১ দিনের মধ্যে শেষ হবে।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে আইসিইউ ভবন পরিদর্শন করেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. মু. কামরুল হাসান সেলিম ও উপ পরিচালক ডা. মো. শহীদুল ইসলাম। এসময় পরিচালক আইসিইউ চালুর লক্ষে চলমান সকল কার্যক্রমের খোঁজ খবর নেন। সেই সাথে দ্রুততার সাথে আধুনিক এবং উন্নতমানের এই আইসিইউ’র কার্যক্রম শুরুর জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন।
পরিদর্শন কালে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মু. কামরুল হাসান সেলিম পরিবর্তনকে জানান, গনপূর্ত বিভাগ তাদের কাছে ইউনিটটি হস্তান্তরের পর পরই সেখানে তারা প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছেন। সেখানে ১৬ রোগীর পর্যবেক্ষন মনিটর (পর্দা) লাগানো হয়ে গেছে। চেতনানাশক মেশিনও প্রস্তুত করা হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে ইউনিটে শয্যা স্থানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পূর্ব পাশে পেছনের অংশে স্থাপন করা হয় দ্বিতল আইসিইউ ভবন। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ এবং যন্ত্রপাতির অভাবে চালু করা সম্ভব হচ্ছিল না আইসিইউ। ফলে এক প্রকার পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকতে গিয়ে ভবনটির বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে যায়। এমন অবস্থায় সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী সফরকালে ভবনটিতে সিসিইউ স্থাপনের নির্দেশ দেন।
তার দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী এবং সাবেক মেয়র প্রায়ত এমপি শওকত হোসেন হিরণের সহযোগিতায় পরিচালক ডা. মু. কামরুল হাসান সেলিম আইসিইউ চালু করতে তৎপরতা শুরু করেন। পরিবর্তীতে বর্তমান স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এর সহযোগিতায় আইসিইউ কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছেন। সর্ব শেষে সাবেক চীফ হুইপ সাংসদ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ শেবাচিম হাসপাতাল উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির আইসিইউ কার্যক্রম দ্রুত চালুর জন্য তাগিদ দেন। তার নির্দেশ অনুযায়ী ইতোমধ্যে গনপূর্ত বিভাগ তাদের কার্য সম্পন্ন করে ভবনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করেন।
হাসপাতালের স্টোর কিপার পরিতোষ সরকার জানান, দ্বিতল ভবনের নিচ তলায় আইসিইউতে থাকবে ১৬টি শয্যা। এর মধ্যে ৮টি আইসিইউ শয্যা। বাকি ৮টিতে আইসিইউ সেবা গ্রহনে সুস্থ রোগীদের পর্যবেক্ষনে রাখা হবে।
তিনি জানান, আইসিইউ চালু করতে ইতোমধ্যে ৫টি ভেন্টিলেটর, ৫টি মনিটর, ইনফিউশন সিরিঞ্জ পাম্প ১টি, চেতনানাশক ৫ যন্ত্র, ডি-ফেব্লিলেটর ৫টি সহ আরো অন্যান্য যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে তারা পেয়ে গেছেন। এছাড়াও ১টি সেন্ট্রাল প্যাসেন্ট মনিটর সিক্সটিন-ডি-ওয়ান রয়েছে। যে মনিটরটি দিয়ে এক সাথে ১৬ জন রোগীকে পর্যবেক্ষন করা যাবে।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মু. কামরুল হাসান সেলিম জানান, আইসিইউ কার্যক্রম চালু করতে আমাদের এখন আর কোন বাধা নেই। কেননা আইসিইউ’র জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে এসে গেছে। তবে এখন আর অল্প কিছু যন্ত্রপাতির প্রয়োজন। তা খুব দ্রুত শেবাচিমে পৌছাবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন। এছাড়া ইতোমধ্যে চিকিৎসক এবং নার্সদের বিদেশ থেকে আইসিইউ চিকিৎসা সেবার বিষয়ে প্রশিক্ষন দিয়ে আনা হয়েছে বলে পরিচালক নিশ্চিত করেন।