উজিরপুর হাসপাতালে ৩য় শ্রেনীর কর্মচারির দৌরাত্ম্য ডাক্তারদের জিম্মি করে চলছে সার্টিফিকেট বাণিজ্য

উজিরপুর প্রতিবেদক ॥ উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে মেতে উঠেছে হাসপাতালের ৩য় শ্রেনীর কর্মচারি মোঃ জুয়েল মৃধা। তার অত্যাচারে উজিরপুর হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ঝাড়–দার পর্যন্ত সকলেই অতিষ্ঠ। তার পিতা নওশের আলী মৃধা স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের এক সচিবের অফিসের ৩য় শ্রেনীর কর্মচারি ও উজিরপুর উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী কর্মি হওয়ার কারনে ওই প্রভাবের ভয় দেখিয়ে জুয়েল মৃধা উজিরপুর হাসপাতালের সকল ষ্টাফদের রক্তচক্ষুর নিচে রেখে যা খুশি তাই করে যাচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্ত ভোগিরা অভিযোগ করেছেন। সর্বদাই হাসপাতালের মধ্যে চলাফেরা ও আচার আচরনে মনে হয় সেই হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। এছাড়া যুবদলের কর্মি হয়েও থানা পুলিশের সাথেও তার রয়েছে বিশেষ সক্ষতা। তার প্রভাবে ১৬ আগস্ট সাতলা এলাকার একটি হামলার ঘটনায় ভর্তিকৃত আহত রুগীদের ও স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ এ,কে,এম,সামুদ্দিনের অজান্তে আইনগতভাবে অসম্পুর্ন মেডিকেল সার্টিফিকেট দিয়ে বেকায়দায় পরেছেন ডাঃ সাগর রায়। হামলায় আহত ভর্তিকৃত রুগী, মামলার বাদী ও হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, ১৩ আগষ্ট বৃহস্পতিবার রাতে উজিরপুরের সাতলা বাজারে একটি হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত ৪ জন রুগী রাত ১১ টার পরে উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরের দিন ১৪ আগষ্ট আহতদের পক্ষে জনৈক জালাল বিশ্বাস বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে উজিরপুর থানায় একটি মামলা নং ১৩/১৫,জি,আর,২১৬/১৫ দায়ের করেন। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মনিরুল ইসলাম পরের দিন ১৫ আগষ্ট (সরকারি ছুটি) তরিঘরি করে ৩১৮৪ নং স্বারকে উজিরপুর হাসপাতালে আহতদের জখমের বর্ননা সহ মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদানের জন্য চিঠি লেখেন। উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ একেএম সামসুদ্দিন ও মেডিকেল অফিসার ডাঃ সাগর রায় অভিযোগ করে বলেন পূর্বেই আসামী পক্ষের সাথে যোগাযোগ করে (পুলিশ ও ডাক্তার ম্যানেজের নামে) মোটা অংকের টাকা নিয়ে ওই চিঠি প্রাপ্তির সাথে সাথে পরের দিন ১৬ আগষ্ট রবিবার হাসপাতালের টিএইচও ডাঃ সামসুদ্দিনকে না জানিয়ে ৩য় শ্রেনীর কর্মচারি জুয়েল মৃধা প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ ভাবে ডাঃ সাগর রায়কে বাধ্য করে অসম্পুর্ন ৩টি মেডিকেল সার্টিফিকেট (জখমি সনদ পত্র) লিখিয়ে নিয়ে থানায় জমা দিয়ে আসে। এ ব্যাপারে উজিরপুর থানার এস,আই,ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন একদিনের মধ্যেই জুয়েল মৃধা মেডিকেল সার্টিফিকেট থানায় জমা দিয়ে যাওয়ায় ঘুষ বানিজ্য হতে পারে বলে তাদেরও সন্দেহ হয়েছিলো। অন্যদিকে মামলার বাদী জালাল বিশ্বাস ওই মেডিকেল সার্টিফিকেট বাতিল করে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে নতুন ভাবে মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদানের জন্য লিখিত ভাবে আবেদন করেছেন বলে ডাঃ সামসুদ্দিন স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জুয়েল মৃধার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এক কথায় নিজেকে নির্দোশ দাবী করেছেন।