উজিরপুরে যৌতুকের টাকা দিতে না পেরে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর আত্মহত্যা

উজিরপুর প্রতিবেদক ॥ উজিপুরে ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ১২ বছরের কিশোরী কন্যার বিয়ে হয়। বর পক্ষ ও স্থানীয় প্রভাব শালীদের দাবিকৃত ৩০ হাজার টাকা যৌতুক না দিতে পেরে বিষপান করে আত্মহত্যা করল নাজমা (১২)।
অভিযোগ ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ হারতা গ্রামের সালাম সিকদারের কিশোরী কন্যা নাজমার সাথে পার্শ্ববর্তী গ্রাম বানাড়ীপাড়া উপজেলার ব্রাহ্মন বাড়ী গ্রামের বেল¬াল খানের ছেলে ইয়ামিন’র(১৫) সাথে ২৭ বৈশাখ ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেনের উপস্থিতিতে স্থানীয় মোঃ রশিদ বাহাদুর, কৃষ্ণ বিক্রম, সালাম ফকির, ছেলের নানা আঃ হক, রাকিব, রুবেল সহ আরো অনেকে মিলে স্থানীয় ঈমাম আঃ হাই মুন্সিকে দিয়ে মৌখিক বিবাহ করান। বিবাহের এক মাস যেতে না যেতেই ছেলে পক্ষের ঘটক কৃষ্ণ বিক্রম ও সালাম ফকির ছেলে ইয়ামিনকে দিয়ে ৩০ হাজার টাকা যৌতুক চাইতে বাধ্য করে। মেয়ের বাবা সালাম সিকদার দিনমজুর হওয়ায় টাকা দিতে অস্বীকার করে। এক পর্যায় গত ৫ জুন ইয়ামিনের মহাজন কৃষ্ণ কান্ত বিক্রম ও সালাম ফকির মেয়ে নাজমাকে ডেকে বলে তোর বাবাবে বলিস ইয়ামিনকে ৩০ হাজার টাকা দিতে। না দিলে তোদের মৌখিক বিয়ে ভেঙ্গে দিব। তোদের বিয়ের কোনো প্রমাণ থাকবে না। তাদের কথা শুনে ৬ জুন দুপুরে নাজমা কাপড় চোপড় নিয়ে ইয়ামিনের বাড়ীতে উপস্থিত হয় এবং আশ্রয় প্রার্থনা করে। যৌতুকের ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। মেয়েটি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে ছেলের পরিবার অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। যার ফলে মেয়েটি বিকাল ৩ টায় ছেলের ঘরে বসে বিষ পান করে। প্রতিবেশিরা মেয়েটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হারতা নিয়ে গেলে স্থানীয় পল্ল¬ী চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করে। মৃত্যু খবর পেয়ে উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ লাশটিকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। লাশটি ময়না তদন্ত শেষে ৭ জুন মেয়েটির বাড়ীর পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়। মেয়েটির মৃত্যুর পর থেকে স্থানীয় প্রভাব শালীরা মেয়ের বাবা সালাম সিকদারকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং কোন প্রকার মামলা না দেওয়ার জন্য হুমকী দেয়। এ ব্যাপরে উজিরপুর মডেল থানার নুরুল ইসলাম পিপিএম’র কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান। মেয়েটির মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।