উজিরপুরে মেধাবী ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা

উজিরপুর প্রতিবেদক॥ উজিরপুরে প্রেমের আগুনে জ্বলে পুড়ে বার্ণ ইউনিটে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে এক মেধাবী ছাত্রী। উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের নরসিংহা গ্রামের হানিফ ফকিরের মেয়ে বড়াকোঠা ইউনিয়ন ইনষ্টিটিউশন এর নবম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী রাবেয়া আক্তার(১৫) গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় নিজ ঘরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এ সময় তার আত্মচিৎকারে পরিবারের লোকজনসহ এলাকাবাসী এগিয়ে এসে আগুন নিভানোর আগেই শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে প্রথমে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পরে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রাবেয়া আক্তারের সাথে একই গ্রামের ফজলুল হক ফকিরের ছেলে বড়াকোঠা ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ইলিয়াস(১৮) এর সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। এ কারণে কিছুদিন পূর্বে উভয় পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। গত ১ সপ্তাহ পূর্বে ইলিয়াস রাবেয়ার সাথে সম্পর্ক রাখবে না বলে জানিয়ে দিলে রাবেয়া ইলিয়াসের মায়ের কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিল। আত্মহত্যার খবর শুনতে পেয়ে ইলিয়াস ও তার পরিবারের লোকজন গা ঢাকা দিয়েছে। এ ব্যাপারে ঐ স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মারুফা খানব বিউটি জানান, মেয়েটি অত্যন্ত মেধাবী, চটপটে ও হাসিখুশি ছিল। এ ধরণের বিষয় ওর মধ্যে ছিল তা বোঝা যায়নি কখনও। মেয়ের চাচা তাহের ফকির বার্ণ ইউনিট থেকে জানান, রাবেয়ার শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। ডাক্তার বলেছেন ৪০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া রোগী ঝুঁকিপূর্ণ। তবে একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই পারে সুস্থ্য করতে। তিনি আরো জানান, আমরা দরিদ্র, অর্থ সংকটের কারণে সুচিকিৎসা করাতে পারছি না। উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম পিপিএম জানান, বিষয়টি জেনেছি তবে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি।