উজিরপুরে মিশুক চালকের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ

শাকিল মাহমুদ বাচ্চু, উজিরপুর ॥ উজিরপুর উপজেলার দক্ষিণ ধামুরা গ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত মিশুক চালক ফিরোজ তালুকদার বাবুর (৩৫) মৃতদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। গতকাল শনিবার সকালে ময়না তদন্ত শেষে লাশ নিয়ে এলাকায় ফিরে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী । বিক্ষোভ শেষে ধামুরা হাইস্কুল প্রাঙ্গণে শনিবার সকাল দশটায় নিহত বাবুর জানাযা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে ঘটনার দিন থেকে ধামুরা বন্দরের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও কালোব্যাচ ধারণ করেছে ব্যবসায়ীরা। একই সাথে বন্ধ রাখা হয়েছে ধামুরা-জয়শ্রীসহ উপজেলার ১৫টি রুটের মিশুক চলাচল।
উল্লেখ্য, চাঁদা চাওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে ধামুরা মিশুকস্ট্যান্ডে স্থানীয় সেভেনস্টার বাহিনীর প্রধান আওয়ামীলীগ নেতার পুত্র চঞ্চল সরদার ও তার সহযোগীরা মিলে মিশুক চালক ফিরোজ তালুকদার বাবুকে পিটিয়ে ও স্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত বাবুর পিতা আব্দুর রহমান তালুকদার বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে সন্ত্রাসী চঞ্চল সরদার, মহসিন সরদার, রনি সরদার, ইদ্রিস আলীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৭-৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনও আসামীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন উজিরপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন। তবে তাদের গ্রেফতারে জোর অভিযান চলছে।
এদিকে ময়না তদন্ত শেষে গতকাল শনিবার লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে সকালে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা হত্যাকারী আওয়ামীলীগ নেতার পুত্র সহ অন্যান্যদের বিচারের দাবীতে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
এছাড়া সকাল ১০টায় ধামুরা হাইস্কুল প্রাঙ্গণে নিহত বাবুর জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বরিশাল-২ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুস সহ হাজার মানুষের ঢল নেমে আসে।
জানাযা নামাজ শেষে সাংসদ এ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুস গ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, খুনি যেই হোক বা যে দলেরই হোক না কেনো তাকে গ্রেফতার করে উপযুক্ত বিচার করা হবে। পাশাপাশি পুলিশকে নির্ভয়ে মামলাটির তদন্ত ও আসামীদের গ্রেফতারের জন্য নির্দেশ দেন।
এদিকে হত্যা ঘটনায় মামলা হলেও প্রধান আসামী সেভেনষ্টার গ্রুপের প্রধান ধামুরা এলাকার প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী চঞ্চল সরদার গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। একই সাথে চঞ্চলের পিতা স্থানীয় আ’লীগ নেতা হওয়ায় মামলার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আ’লীগের বেশ কয়েকজন নেতার অভিযোগ শোলক ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হালিম সরদার তার পুত্রকে রক্ষায় তার বাহিনী দিয়ে মামলার বাদী ও সাক্ষীদেরকে হুমকি এবং ভয় ভীতি প্রদর্শন করছেন। এজন্য সন্তানকে হারিয়ে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে মামলা করেও আতংকে দিন রাত পার করছেন নিহতের বাবা ও তার স্বজনরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চঞ্চল তার পিতার আধিপত্য ধরে রাখতে আ’লীগের নাম ব্যবহার করে একের পর এক চাঁদাবাজি, নিরিহ মানুষদের মারধর, দলীয় নেতা-কর্মীদের লাঞ্ছিত  করাসহ বহু সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে বাপের ক্ষমতার জোরে পার পেয়ে যাচ্ছে। তবে মিশুক চালক হত্যার ঘটনায় আ’লীগ পুত্র সন্ত্রাসী চঞ্চলের বিচার করা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচী দেয়ার হুমকি দিয়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।