উজিরপুরে মা-বোনের মাঝ থেকে ঘুমন্ত শিশুকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

উজিরপুর প্রতিবেদক ॥ মা ও বোনের কাছ থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় তুলে নিয়ে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ সেপ্টম্বর গভির রাতে উজিরপুর উপজেলার নতুন শিকারপুর বাসষ্টান্ড সংলগ্ন স্থানে ঘটনাটি ঘটেছে। তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অজ্ঞাত ব্যক্তির যৌন নিপিড়নের শিকার শিশুটি এখন মৃত্যু শয্যায় বলে জানিয়েছেন
হাসপাতালের চিকিৎসক। শিশুর মা সিমা বেগম জানায়, রোববার রাতে তার স্বামী কামরুল ইসলাম বাড়িতে ছিলেন না। তিনি এবং তার দুই মেয়ে ঘরে ঘুমানো ছিলেন। মা ও বড় বোনের মাঝে ঘুমানো ছিলো ছয় বছরের ঐ শিশুটি গভীর রাতে ঘরের পিছের দরজা খুলে ঘুমিয়ে থাকা শিশুটিকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী জালাল হাওলাদারের ঘরের পিছনে বাগানে নিয়ে যৌন নিপিড়ন করে অজ্ঞাত ব্যক্তি। সিমা বেগম আরো জানায়, ফজরের আযানের সময় ঘুম থেকে জেগে দেখেন তার মেয়ে বিছানায় নেই। এর কিছুক্ষন পরই সে কাঁদতে কাঁদতে বাগান থেকে বাড়ীতে আশার সময় রক্তমাখা অবস্থায় মেয়েকে দেখতে পেয়ে সামনে ছুটে যান। পরে মায়ের কান্না এবং আর্তনাদের শব্দে বাড়ীর অন্যান্য লোকজন ছুটে আসে। পরবর্তীতে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালের গাইনী বিভাগের ভর্তি করে দেয়া হয়। হাসপাতালে শিশুটির গোপনাঙ্গে প্রাথমিক ভাবে সফল অস্ত্রপচার সম্পন্ন করা হয়েছে। যৌন নিপিড়নের ফলে শিশুটির যৌনাঙ্গ ক্ষত বিক্ষত এবং প্রচন্ড পরিমানে রক্ত ক্ষরনের ফলে তার অবস্থা এখনো আশংকাজনক বলে দাবী করেছেন গাইনী বিভাগের চিকিৎসকরা। এদিকে খবর পেয়ে সকালে জেলা পুলিশের সদর সার্কেল এএসপি সুদিপ্ত সরকার সহ উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এসময় তারা সেখান থেকে শিশুর রক্তমাখা জামাকাপাড় উদ্ধার করেছেন বলে জানান থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন। তবে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত কাউকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ। ধর্ষককে পরিবার এমনকি শিশু নিজেও চিনতে না পারায় তদন্ত এবং গ্রেফতার কার্যক্রমে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। অপরদিকে যৌন নিপীড়নের শিকার ৬ বছর বয়সি শিশু’র সাথে আলাপকালে সে জানায়, রাতে তাকে মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে ভয় দেখিয়ে মুখ বেধে তাকে যৌন নিপীড়ন করে। তবে সে ঐ লম্পটকে চিনতে পারেনি বলে দাবী করেছে। ধর্ষকের বর্ননা দিতে গিয়ে শিশুটি জানায়, একজন লম্বা, মোটা, কালো, দাড়িওয়ালা লোক তাকে মুখ চেপে ধরে ঘুমানো অবস্থায় তুলে নিয়েছিল। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ইতিপূর্বে তাদের এলাকায় সহ পার্শ্ববর্তী গ্রামে এ রকমের ঘটনা একাধিক ঘটেছে।
অপরদিকে ঘটনার পরে যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুটির বাড়ী পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সোহরাব হোসেন। এসময় তিনি বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন এবং এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন। এছাড়া শিশুর পরিবারকে চিকিৎসার জন্য নগদ দুই হাজার টাকা অর্থ সহায়তা করেন।