উজিরপুরে নিখোঁজ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির লাশ উদ্ধার

উজিরপুর প্রতিবেদক ॥ উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়ন থেকে নিখোঁজ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র নাথ রায়ের (৬৬) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে শিবপুর নবীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিল। শনিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার পদ্মডুবি এলাকা সংলগ্ন ঝনঝনিয়া নদীর শাখা ডাকুয়ার খাল থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকার কিছু লোকজন নৌকা যোগে যাওয়ার পথে শনিবার সকালে ডাকুয়ার খালে একটি মৃতদেহের হাত ও মাথা ভাসতে দেখে স্থানীয় কাছারিভিটা ও তরুর বাজারের ব্যবসায়ীদের খবর দেয়। লাশ পাওয়া গেছে এমন সংবাদে শিবপুর থেকে নিখোঁজ ধীরেন রায়ের পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে নদীতে ভাসমান মৃতদেহটি ধীরেন রায়ের সনাক্ত করে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উজিরপুর মডেল থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে উজিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমির হোসেন লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পুলিশের ধারণা ও নিহত’র পরিবারের দাবী তাকে অপহরনের পরে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। লাশ উদ্ধারকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমির হোসেন জানিয়েছেন, লাশটির দুই পা’য়ের সাথে ইট বোঝাই একটি বস্তা বাধা ছিলো এবং তার শরীরের বিভিন্নস্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাই ধারনা করা হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (১৭) আগস্ট মধ্যরাতে ধীরেন্দ্র নাথ রায় তার বড় ছেলের খালি ঘর থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় নিখোঁজ হয়। পরেরদিন শুক্রবার (১৮ আগস্ট) ভোরে তার বড় মেয়ে দীপালী রানী ওই ঘরে গিয়ে দেখতে পায় তার বাবা ধীরেন রায় ওই ঘরে নেই। তবে ঘরের মধ্যে তার জামা, গেঞ্জি, জুতা, মোবাইল ফোন সব এলোমেলো ভাবে পড়ে রয়েছে। অনেক খোঁজাখুজি করেও তার কোন সন্ধান না পেয়ে ওই দিন উজিরপুর মডেল থানায় ধীরেন রায়ের বড় ছেলে দিলীপ রায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি অপহরন মামলা দায়ের করেন। নিহত ধীরেন রায়ের স্ত্রী মৃনালিনি রায় অভিযোগ করে বলেন, শিবপুর নবীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে তার স্বামী সভাপতি ধীরেন রায়কে অপহরনের পর হত্যা করে নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার ছেলে দীপক রায় অভিযোগ করে বলেন, সাতলা গ্রামের উকিল উদ্দিন বালীর ছেলে আওয়ামীলীগের ক্যাডার ইকবাল বালী, শিবপুর গ্রামের মৃত যুদ্ধিষ্টির রায়ের ছেলে ওই বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আ’লীগ নেতা সুভাষ রায়, ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রাজাপুর গ্রামের মৃত ভদ্রকান্ত বিশ্বাসের ছেলে হরষিত বিশ্বাসসহ সাতলা ইউনিয়ন আ’লীগের ও যুবলীগের প্রভাবশালী কিছু নেতারা তার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: গোলাম সরোয়ার জানিয়েছেন মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়েছে এবং হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।