উজিরপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

উজিরপুর প্রতিবেদক ॥ উজিরপুরের পূর্ব সাতলা গ্রামে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকালে গৃহবধুর ভাই বিশ্বনাথ পারুয়া বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। বুধবার গৃহবধু ঝর্ণাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিচ্ছে নিহতের শ্বশুর বাড়ীর লোকজন এমন অভিযোগ করে নিহতর গৃহবধুর ভাই বিশ্বনাথ ও তার পরিবার। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৫ বছর পূর্বে কুড়লিয়া গ্রামের মৃত রবীন্দ্র নাথ পারুয়ার কন্যা ঝর্ণার সাথে পূর্ব সাতলা গ্রামের মোহন সমাদ্দারের পুত্র পঙ্কোজ সমাদ্দারের বিবাহ হয়। বিবাহর পর থেকেই পঙ্কোজ সমাদ্দার ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। যৌতুকের টাকা দিতে গৃহবধু ঝর্ণা অস্বীকার করলে তাকে প্রায়ই নির্যাতন করতো পাষন্ড স্বামী ও তার পরিবার। বোনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ভাই বিশ্বনাথ পারুয়া ২৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনে দেয় এবং নগদ ১০ হাজার টাকা দেয়। বাকি টাকা না দেওয়ায় এক সন্তানের জননী গৃহবধু ঝর্ণাকে নির্যাতন করে হত্যা করে মুখে ডিটারজেন্ট পাউডার দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে চালিয়ে দিচ্ছে এমন অভিযোগ নিহত গৃহবধুর পরিবারের। এ ব্যপারে নিহত গৃহবধুর ঝর্ণার স্বামী পঙ্কোজ সমাদ্দার সাংবাদিকদের জানান, স্ত্রী ঝর্ণা ঘটনার দিন আমার পিতা মোহন সমাদ্দারকে গালিগালাজ করে। আমি ঘটনাটি শুনে আমার স্ত্রীকে মন্দ করি। সে (ঝর্ণা) অভিমান করে ঘরের ভিতর ঘুমিয়ে রয়েছে। হঠাৎ করে দেখি ঝর্ণা বমি করছে এবং মুখ থেকে ফেনা বের হচ্ছে। তাৎক্ষনিক চিকিৎসার জন্য আগৈলঝাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাটির দিন নিহতর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করে। বৃহস্পতিবার ময়না তদন্ত শেষে তার শ্বশুর বাড়ী শেষকৃত সম্পন্ন করা হয়েছে। নিহতর ভাই বিশ্বনাত পারুয়া জানান, যৌতুকের টাকার জন্য শেষ পর্যন্ত আমার বোনকে জীবন দিতে হলো। আমাদের পরিবারের কারোর জন্য অপেক্ষা না করে ঝর্ণার স্বামী ও পরিবারের লোকজন শেষকৃত সম্পন্ন করে। আমরা গরিব বিদায় এর বিচার কি হবে না? বিশ্বনাথ ও তার পরিবার এর সুষ্ঠ বিচারের জন্য উর্দ্ধতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ ব্যাপারে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: নুরুল ইসলাম(পিপিএম) জানান, নিহত গৃহবধুর ভাই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। ঘটনাটি সুষ্ঠ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।