উজিরপুরে গুঠিয়ায় আল্লাহর নামের ষাঁড় বিক্রি করল ইউপি চেয়ারম্যান

উজিরপুর প্রতিবেদক॥ উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নে  আল্লাহর নামে ছেড়ে দেওয়া ষাঁড় বিক্রি করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান ডাঃ দেলোয়ার হোসেন। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সাধারণ মানুষের স্বাক্ষর পুঁজি করে কয়েক জন ইউপি সদস্য সাথে নিয়ে সামাজিক উন্নয়নকল্পে ছাড়া দুটি ষাঁড় ৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে ইউপি চেয়ারম্যান ডাঃ দেলোয়ার হোসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে গত ২৮ সেপ্টেম্বর এলাকার কয়েক জন গন্যমান্য প্রভাবশালীদের নাম স্বাক্ষর দেখিয়ে গত ২ অক্টোবর তড়িঘড়ি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পশু কর্মকর্তার অগোচরে গুঠিয়ায় উন্নয়ন কাজে ছেড়ে দেওয়া ২টি ষাড় গরু যার বাজার মূল্য দেড় লক্ষ টাকা। দেড় লক্ষ টাকা থাকলেও মুহুর্তেই স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী জামাল মোল্লার কাছে বিক্রি করে দেয়। বিষয়টি স্থানীয়রা জানতে পারলে তাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে সামাজিক উন্নয়নকল্পে  এ ষাড় বিক্রি করতে হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে খোলা বাজারে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে একাধিক গরু ব্যবসায়ীদের মাঝে দাম যাচাই বাছাই করে বিক্রি করা হয়। চেয়ারম্যানের একক সিদ্ধান্ত  ও স্বেচ্ছাচারীতায় ফুসে উঠেছে গুঠিয়া ইউনিয়নবাসী। এ ব্যপারে গরু ব্যবসায়ী জামাল মোল্লার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান আমি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে লিখিতভাবে ৬৬হাজার টাকায় ষাড় দুটি ক্রয় করেছি। লিখিত কাগজ দেখতে চাইলে সে কাগজে ষাড় ২টির দাম লেখা আছে ৬৫হাজার টাকা। ১হাজার টাকা কম লেখা কেন জানতে চাইলে তিনি কিছুই বলেননি। এ ব্যাপারে গুঠিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন ষাড় ২টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কৃষকদের ফসল নষ্ট করে আসছে। এ মর্মে গত ২৮অক্টোবর ৪১জন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বাক্ষরিত ১খানা দরখাস্ত আমার কাছে জমা দেয়। এরপর আমি একটি সভা ডেকে এর প্রতিকার হিসাবে ষাড় ২টি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেই। ৬৫হাজার টাকা বিক্রি করে এলাকার ৭টি মাদরাসায় বন্টন করে দিয়েছি। সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ইউনিয়নের ষাড় আমি বিক্রি করেছি। সরকারি কোন অনুমতি লাগে কিনা এমর্মে স্থানীয় সরকার আমাকে কোন প্রজ্ঞাপন জারি করে চিঠি দেয় নি। এ ব্যপারে ইউনিয়ন ইউপি সচিব বাসুদেবের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি ছুটিতে ছিলাম। ছুটি শেষে এসে ৪১জন মানুষের স্বাক্ষরিত ১টি আবেদন পেয়েছি। ষাড় ২টি কত দিন আগে ছাড়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি কিছুই জানিনা, এ বিষয়ে আমার কাছে কোন প্রশ্ন করবেন না।  এ বিষয় ইউ এন ও মোঃ সোহরাব হোসেন জানান এমর্মে আমার নিকট কোন আবেদন করে নাই। যদিও করে তাহলে উপজেলা পশু কর্মকর্তার তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।