উজিরপুরে কোটি টাকার ইউরিয়া সার জব্দ ॥ ৬ জন গ্রেফতার

উজিরপুর প্রতিবেদক ॥ উজিরপুরে অবৈধ পন্থায় আসা প্রায় কোটি টাকার ইউরিয়া সার জব্দ করেছে পুলিশ। সিন্ডিকেট চক্রের মুল হোতাসহ ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালা ও মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম সরোয়ারসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শিকারপুর বন্দরে সন্ধ্যা নদীতে নোঙ্গর করা অবস্থায় তমাল ও তমাল-১ ২টি কার্গো জাহাজ ও ২টি ট্রাক ভর্তি ইউরিয়া সার আটক করে। এ সময় সিন্ডিকেট চক্রের মূল হোতা শিকারপুর বন্দর ব্যবসায়ী মিন্টু খান এবং কার্গো জাহাজের মাষ্টার মজিবুর রহমান, সুকানী আর্শেদ আলম, ট্রাক ড্রাইভার জসিম উদ্দিন, রানা মাহমুদ ও দেলোয়ার হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদরে কাছ থেকে মেসার্স পোটন এন্টারপ্রাইজের ইউরিয়া সার চট্টগ্রাম থেকে শিকারপুর বাফার গোডাউনে মজুদ করার জন্য পাঠানো হয়েছিল। ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ঝুমুর বালা মিন্টু খানকে ট্রেড লাইসেন্স না থাকার অভিযোগে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেন। উল্লেখ্য মিন্টু খান ও এনায়েত হোসেন খান, মন্টু সেপাই, লুৎফুর রহমান জুয়েলসহ কতিপয় ব্যক্তি বহু বছর ধরে সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় অবৈধ ঘাট ও ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা ব্যবহার করে প্রতি বছর প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অবৈধ ট্রান্সপোর্টের নাম ব্যবহার করে ট্রাক প্রতি ২শ টাকা, বস্তা প্রতি ২ টাকা হারে চাঁদা আদায় করে নিচ্ছে। রুহুল আমিন সিকদারসহ একাধিক এলাকাবাসী জানান, ঐ স্থানে ১৯৮৩ সালে মাদারীপুর জুটমিল কর্পোরেশনের নামে শিকারপুর এলাকার গফুর সিকদার, করিম সিকদার, মজিবুর রহমান, আজিজ খানের কাছ থেকে এ.আর হাওলাদার ৬৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে যা সরকারের জুটমিলের নামে রেকর্ড হয়েছিল। পরে কোম্পানীর এমডি লুৎফুর রহমান ভোগ দখল করে ১৯৮৮ সালে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়ে তার শ্যালক আমিন হাওলাদারকে পাওয়ার অব এটর্ণি দেন। তিনি কিছুদিন ভোগ দখল করার পরে ২০০২ সালে অবৈধ ভাবে ঐ ৬৫ শতাংশ জমি মিন্টু খান, এনায়েত খান ও আশ্রাফ আলী খানের কাছে বিক্রি করেন। এদিকে ঐ জমির ৫১ শতাংশ মুল মালিক ১৪ জন থাকা সত্ত্বেও গফুর সিকদার, করিম সিকদার, মুজিবুর রহমান তিনজনে অবৈধ ভাবে বিক্রি করেন। তখন থেকেই একটি সিন্ডিকেট চক্র সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ভাবে গড়ে তোলেন বিশাল মালামাল লোড-আনলোডের ঘাঁটি। এখান থেকে অবৈধ পন্থায় সার, কীটনাশক, ধান,চাল,গম,কয়লা সিমেন্ট এমনকি ইট,বালি পাথর পর্যন্ত বিভিন্ন চোরাই পথে সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকার মালামাল চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তার অফিসে বিভিন্ন ডিলারের ও ট্রান্সপোর্টের ব্লাক রশিদ ব্যবহার করে মালামাল খালাস করতেন। উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম সরোয়ার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিকারপুর বন্দরে গিয়ে ২টি কার্গো জাহাজ ও ২টি ট্রাক ভর্তি ইউরিয়া সার জব্দ করি। জড়িত সন্দেহে ৬জনকে গ্রেফতার করা হয়। মালটি যে গোডাইনে খালাস করার চালান দেখানো হয়েছে মূলত ঐ ধরণের গোডাইন শিকারপুরে নেই। মামলা প্রক্রিয়াধীন। নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালা জানান, ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ না থাকায় মিন্টু খানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।