উজিরপুরে কলেজ ছাত্র হত্যায় প্রেমিকের বাড়িতে তান্ডব

শাকিল মাহমুদ বাচ্চু/সরদার মাইনুল, উজিরপুর ॥ উজিরপুরে প্রেমিকের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় প্রেমিকার বাড়ীর চারটি ঘর ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে শান্ত করতে পুলিশকে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করতে হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১০ জন। গ্রেপ্তার হয়েছে ৪ জন। হারতা ইউনিয়নের জামবাড়ি গ্রামে এ হত্যার ঘটনায় একটি ও হামলা-ভাংচুর অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের ঘটনায় একটিসহ পৃথক দুইটি মামলা হয়েছে। ওই গ্রামের ওই গ্রামের সুপেন মিস্ত্রির ছেলে সুখদেব মিস্ত্রির (২২) লাশ সকালে উদ্ধার করা হয়। সুকদেব ঢাকার তীতুমির কলেজের অনার্স প্রথমবর্ষের ছাত্র ও সাম্প্রতি ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের রাজধানীর গুলশান শাখায় যোগদান করেছিলো।

প্রত্যক্ষদর্শী আঃ রহিম সরদার বলেন, গত সোমবার সুকদেব বাড়িতে আসে। রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় এক কৃষক মাঠে যাওয়ার সময় দশরথ সমদ্দারের বাড়ির পুকুর পাড়ে তার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে।
স্থানীয়রা জানায়, একই গ্রামের দশরথ সমদ্দারের কণ্যা হাবিবপুর কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মিতুর সাথে সুখদেবের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু উভয় পরিবার সে সম্পর্ক মেনে নেয়নি। এমনকি মিতুর পরিবারের পক্ষ থেকে নানা সময় হুমকি দিয়েছিলো। সুখদেবের লাশ মিতুর বাড়ির পাশ থেকে উদ্ধার হয়। তাই সুখদেবকে হত্যা করার দায় প্রেমিকা মিতুর পরিবারকে দেয় এলাকাবাসী। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দশরথ সমাদ্দারের বাড়ির উপর চড়াও হয়। তারা ভাংচুর ও লুটপাট করে চারটি ঘর, একটি মন্দির এবং দুইটি খড়ের পালায় অগ্নিসংযোগ করে। ঘরে আগুন দেয়া অবস্থায় অবরুদ্ধ থাকা ৩ কলেজ ছাত্রী সহ ৫ জনকে পুলিশ উদ্ধার করেছে।
উজিরপুর মডেল থানার ওসি মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে হারতা পুলিশ ক্যাম্প ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে আহতদের উদ্ধার করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যা মামলায় দশরাথ সমদ্দার (৭৫), তার স্ত্রী আলোমতি সমদ্দার (৬০), কন্যা মিতু, কনক, নমিতা ও ছেলে সজল সমদ্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অপরদিকে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আলোমতি সমদ্দার মামলা করেছেন।
সুখদেবের বাবা সুপেন মিস্ত্রি দাবি করেন, মিতুর সাথে প্রেম করার অপরাধে তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
প্রেমিকা মিতুর বাবা দশরাথ সমাদ্দার জানান, এই হত্যাকান্ডের সাথে আমরা জড়িত না। আমাকে নিঃস্ব করা জন্য ষড়যন্ত্র করে আমাদেরকে ফাঁসানো হয়েছে।