উজিরপুরে কলেজ ছাত্র হত্যায় পরিবারে শোকের মাতমের সাথে মামলার খড়গ

উজিরপুর প্রতিবেদক॥ উজিরপুরের হারতায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে মেধাবী কলেজ ছাত্র শুকদেব মিস্ত্রী হত্যাকান্ডে পরিবারের মাঝে বইছে শোকের সাথে মামলার বোঝা। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সাথে গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তারা। গত ৪ মার্চ হারতায় জামবাড়ী গ্রামে সুপেন মিস্ত্রীর ছেলে তিতুমীর কলেজে অধ্যয়নরত সুকদেব মিস্ত্রীর লাশ পড়েছিলো। মেধাবী ছাত্রকে হত্যা করা এলাকার সাধারণ মানুষ বিষয়টিকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। ক্ষুব্ধ হয়ে আক্রমন করে প্রেমিকার পরিবারের উপর। আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় ঘরবাড়ি। ফলে হত্যা মামলা রুজু হওয়ার সাথেই ঘর পোড়া মামলায়ও আসামী করা হয় শুকদেবের স্বজন ও শত শত এলাকাবাসীকে। সরেজমিনে গতকাল নিহত শুকদেবের বাড়ীতে গেলে দেখা যায় উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে বার বার মূর্ছা যাচ্ছে মা। বাবা সুপেন মিস্ত্রী ও ভাই বোন কথা বলার মত শক্তি টুকু হারিয়ে ফেলেছে। এলাকার বয়োবৃদ্ধরা জড়ো হয়ে শুনছে শুকদেবের লিখিত ডায়েরী। ডায়েরী থেকে জানা যায়, ২০১১সাল থেকে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে, মিতু তখন ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। শুকদেবের এস এস সি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল চেয়েছিল মিতু। তাইতো মিতুর দেয়া উপহারে শার্ট পড়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় শুকদেব কথা দিয়ে ছিল ভাল ফলাফলের কথা। ফলাফল ভাল ও করেছিল শুকদেব। ২০১২সালের ৩০মে ভরা জোসনায় রাতের বেলায় সিঁদুর পড়িয়ে মিতুকে জীবনসাথী হিসাবে নিয়েছিল। কিছু দিন পরেই মিতুর পরিবারের মাঝে তাদের এ সম্পর্কের কথা জানাজানি হলে বাধা আসতে থাকে । শুকদেব খোলামেলা ভাবেই সে কথা গুলো লিপিবদ্ধ করে ছিল তার ডায়েরীতে। মিতুর বড় বোন কনকলতার বাধার কারণে কিভাবে লুকিয়ে প্রেম করতো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী জানান, অর্থবিত্তে মিতুদের পরিবার এগিয়ে। চারিত্রিক দিক দিয়ে বড় বোন কনকলতার চলাফেরা আচার আচরণ ছিল আপত্তিজনক। এলাকার প্রভাবশালীদের সাথে সখ্যতা গড়া এবং তাদেরকে ব্যবহার করায় পটু ছিল কনকলতা। মিতুর ভাই আনন্দ বর্তমানে ভারত প্রবাসী। তিনিও এলাকায় থাকাকালীন অবস্থায় বেশ কিছু অঘটন ঘটিয়েছে। পাশ্ববর্তী এক বিধবা গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত করায় এলাকাবাসীর চাপের মুখে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। হিন্দু অধ্যুষিত জামবাড়ীর সমদ্দার পরিবারে এ সব ঘটনাকে চাপা দিয়ে রেখে ছিল সাধারণ জনগন। কিন্তু গত ৪ঠা মার্চ শুকদেব হত্যাকান্ডে পূর্বের চাপা ক্ষোভ আর ধরে রাখতে পারেনি এলাকাবাসী। এরই জের ধরে জ্বালিয়ে দেয় দশরথ সমাদ্দারের বাড়ীঘর। আসামী করা হয় শুকদেবের পরিবার ইউ পি সদস্য সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গকে। এদিকে এ সব অভিযোগকে অস্বীকার করেন মিতুর মা আলোমতি সমদ্দার। এলাকাবাসীর দাবী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যা কান্ডের জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হোক। শুকদেব হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মনিরুল ইসলাম জানান, হত্যা রহস্য উদঘাটনে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অপরদিকে ঘরপোড়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই আনোয়ার হোসেন জানান, মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রকৃত আসামীদের কে গ্রেফতার করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উজিরপুর মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ নুরুল ইসলাম (পিপিএম) জানান এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। হত্যা কান্ডের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।