উচ্চ পদ থেকে বদলী হওয়া কর্মকর্তার পূর্বের দপ্তরে নি¤œ পদে ফেরত !

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ উচ্চ পদ থেকে বদলী হয়ে আবার সেই দপ্তরে নি¤œ পদে ফিরে এসেছেন এক কর্মকর্তা। ঘটনাটি ঘটেছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ে। আর এই কান্ডটি করেছে ওই দপ্তরের সমাজসেবা কর্মকর্তা (রেজি.) মো. মোশারফ হোসেন। উচ্চ পদে থাকার চেয়ে অবাধে দুর্নীতি ও একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে পারার কারনে তিনি এই কান্ডটি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ওই দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাহবুব বদলি হয়। তখন সমাজসেবা কর্মকর্তা (রেজি.) মো. মোশারফ হোসেন ওই পদের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শুধু ওই পদ ছাড়াও ওই সময়ে একাই চারটি পদের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
কিন্তু তার ভিজিটিং কার্ডসহ উপ-পরিচালকগনের কার্যকালের বোর্ডে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত নয়, উপ-পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করেন।
ওই দায়িত্ব নেয়ার পর পরিবারকে ঢাকা পাঠিয়ে দেয়। পরে সরকারী বাসা ভাড়া দিয়ে ও বিদ্যুৎ বিলের জন্য দেয়া টাকা নিজে নেয়। আর নিজে জেলা দপ্তরের একটি কক্ষে অবস্থান করেন।
গত বছরে সে মেরামত খাতের বরাদ্ধ ৬০ লাখ টাকার বিল কাজ শেষ না হওয়ার পূর্বে পরিশোধ করে। এই জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু ইউসুফ মো. রেজাউর রহমান আপত্তি করেন। কিন্তু তার ঘনিষ্টজন প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজের সাথে সাবেক জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল আলমের ঘনিষ্ট সম্পর্ক থাকায় কোন আপত্তি টেকেনি। সাজ্জাদ পারভেজ জেলা প্রশাসককে গুছ করে বিল ছাড় করে।
ওই ঘটনার পর মোশারফ হোসেনকে বাগেরহাট সেফ হোমে উপ তত্ত্বাবধায়ক পদে বদলি করা হয়। কিন্তু বরিশাল জেলা কার্যালয়ে করা দুর্নীতি ও ৬০ লাখ টাকার কাজের অনিয়মে চাকুরি হারানোর ভয় এবং নিরাপত্তা হিসেবে জমা ১০ ভাগ টাকার জন্য আবার ফিরে এসেছেন একই পদে। এসে ওই ১০ ভাগ টাকা ছাড় করিয়ে দেয়। এছাড়া এ বছরে বরাদ্ধ পাওয়া টাকার কাজ নিজের পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছে।
ধুরন্ধর প্রকৃতির মোশারফ হোসেন তার অপকর্মের হাতিয়ার হিসেবে সদর আসনের এমপি জেবুন্নেছা আফরোজকেও ব্যবহার করেছে। অভিযোগকারীরা জানিয়েছে, বেতাগীর জোয়ার করুপা গ্রামের মৃত ময়জুদ্দিন মৃধার ছেলে মোশারেফ হোসেন বরিশালস্থ বাউফল সমিতিতেও রয়েছেন। ওই সমিতির সভাপতি জেবুন্নেছা আফরোজ। তার সাথে সু-সম্পর্ক রয়েছে প্রচার করে সে জেলা কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছে। নিজের অনুসারী ৪ কর্মচারী ছাড়া সকলের সাথে সব সময় দুর্ব্যবহার করেন। কিছুদিন পূর্বে অন্ধ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকে মারধরের চেষ্টা করে। এই সময় স্বয়ং উপ-পরিচালক মনোজ ঘরামী উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু মোশারফ এই এলাকার বাসিন্দা বলে তিনিও তাকে সমীহ করে। তাই কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলেও উপ-পরিচালক চুপ করে ছিলেন।
এই সুযোগ নিয়ে মোশারফ হোসেন বেশির ভাগ সময় ঢাকা থাকেন। সেখানে কেন্দ্রীয় দপ্তরে গিয়ে যাকে যেভাবে পারেন তুষ্ঠ করে এখানে এসে বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীদের ধমকান, উপস্থিত থাকলেও অনুপস্থিত করেন।
উপ-পরিচালক না হলেও তার ব্যবহৃত সরকারী যানবাহন মোশারফ তার পারিবারিক কাজে ব্যবহার করে। গত ১৭ জুলাই উপ-পরিচালকের গাড়ি নিয়ে সে নিজ গ্রাম বেতাগী যায়।
সরকারী যানবাহন পারিবারিক কাজে ব্যবহার করার নিয়ম না থাকলেও সে নিয়মিত পরিবার-পরিজন নিয়ে চলাচল করে।
এই অভিযোগ সম্পর্কে জানার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ০১৭১৫৬৩৫৮৬৬ নম্বরে একাধিকবার কল করা হয়। কিন্তু তিনি কল রিসিভ না করায় কথা বলা যায়নি।