উচ্চাদালতের নির্দেশের পরেও ঝুকি নিয়ে স্প্রীড বোটে চলছে যাত্রী পারাপার

রুবেল খান॥ বরিশাল নৌ-পথে ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে অবৈধ স্পিড বোট। প্রতিনিয়ত জীবন ঝুকি নিয়ে নৌ-পথে যাত্রী বহন করলেও সে দিকে নজর নেই প্রশাসনের। এমনকি স্পিড বোট চলাচল বন্ধে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞাও রয়েগেছে কাগজ কলমে। আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে দেখা যাচ্ছে না বিআইডব্লিউটিএ এবং পুলিশ প্রশাসনেরও কার্যকরি কোন পদক্ষেপ। অভিযোগ উঠেছে উচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা না হলেও অবৈধ স্পিড বোর্ট চলাচলে পুলিশ এবং বিআইডব্লিউটিএ’র রয়েছে বিশেষ আশির্বাদ। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে দেখাগেছে, বরিশাল নগরীর স্টিমার ঘাটের পাশেই দীর্ঘ বছর পূর্বে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্পিড বোট ঘাট। এখান থেকে প্রতিদিন শতাধিক স্পিড বোটে বেশ কিছু রুটে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। দেড় থেকে তিনশ টাকা ভাড়ায় ঝুকি নিয়ে পারাপার করছে উত্তাল কীর্তনখোলা, কালাবদর, তেঁতুলিয়া ও মেঘনা নদী। প্রায় সময় এসব স্পিড বোট পড়ছে দুর্ঘটনার কবলে। প্রান হানির আশংকা নিয়ে দীর্ঘ নৌ-পথ পাড়ি দিচ্ছে যাত্রীরা। এমনকি বিআউডব্লিউটিএ’র নিষেধাজ্ঞা না মেনে চলতি মৌসুমে ঝুকিপূর্ণ পয়েন্টেও যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে স্পিডবোটগুলো। যাত্রী বহনে এর বৈধ কোন কাগজপত্র না থাকলেও রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের একটি ট্রেড লাইসেন্স।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, যাত্রীদের প্রান হানির আশংকা এবং যাহাজ ব্যবসায় মন্দা ভাব কাটিয়ে উঠতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধে যাত্রীবাহী নৌ-যান এমভি উপকূল লঞ্চ মালিক কাজী ওয়াহিদুজ্জামান উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১০ জুন উচ্চ আদালতের দৌত বেঞ্চ স্পিডবোর্ট চলাচল বন্ধে নির্দেশ জারি করে করেন। পাশাপাশি তখনকার সময়ে বরিশাল মেট্রো পলিটন পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে আদেশ বাস্তায়নের নির্দেশ দিয়ে আদেশ জারি করেন। কিন্তু উচ্চ আদালতের আদেশের দুই বছর অতিবাহিত হলেও এই বিষয়ে কার্যকরি কোন পদক্ষেপ নেয়নি বরিশাল বিআইডব্লিটিএ কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসন। তাই শুধু মাত্র কাগজ-কলমেই সিমাবদ্ধ রয়েগেছে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা। সেই সাথে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আর্শিবাদেই বহাল তবিয়তে চলাচল করছে অবৈধ স্পিডবোট। পুলিশ প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই অবৈধ ভাবে স্পিডবোট চলাচল করছে বলেও নিশ্চিত করেছেন একাধিক স্পিডবোট চালকরা।
জানতে চাইলে বরিশাল লঞ্চ মালিক সমিতির একাধিক মালিকরা জানান, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্পিডবোট মালিক শ্রমিকদের কোন ক্ষতি হয়নি। তবে লঞ্চ মালিকদের অনেকটা ক্ষতি এবং ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তারা বলেন কীর্তনখোলা, লাহারহাট, ভেদুরিয়া, মেহেন্দিগঞ্জ ও ভোলায় অবৈধ ভাবে শতাধিক স্পিডবোট চলছে। অবৈধ ভাবে এসব রুটে স্পিডবোট চলায় লঞ্চের যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে। পাশাপাশি কয়েকটি লঞ্চের রোটেশনের বিপর্যয় ঘটেছে।
চরকাউয়া মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি ও চরকাউয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবি বলেন, একটা সময় বরিশাল থেকে ভোলা বেশ বাস যাত্রী ছিলো। এজন্য চরকাউয়া থেকে রোটেশন অনুযায়ী বরিশাল-ভোলা রুটে বাস চলাচল করত। কিন্তু গত প্রায় দুই বছর যাবত রুটটি বন্ধ রেখেছেন তারা। এর কারন হিসেবে বাস মালিক সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম ছবি বলেন, বরিশাল থেকে সরাসরি ভোলা রুটে অবৈধ স্পিডর্বো চলাচল করার ফলে বাসে যাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে। যার ফলে লোকসান এড়াতে তারা বরিশাল-ভোলা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন।
বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আবুল বাশার মজুমদার’র সাথে এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আলচনা কালে তিনি জানিয়েছেন, উচ্চ আদালত থেকে স্পিডবোর্ট বন্ধের নির্দেশনা তারা পেয়েছেন। আর এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং নৌ পুলিশকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু তারা এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে না। যার ফলে এখনো বরিশাল ভোলা সহ বিভিন্ন নৌ রুটে অবৈধ ভাবে স্পিডবোট চলাচল করছে।