ঈদ বাজারে জুয়েলার্স ক্রেতা শূন্য

জুবায়ের হোসেন॥ ঈদ আনন্দ উপভোগে পোষাক বাজারে কম বেশি ভীড় থাকলেও জুয়েলারিগুলো একেবারেই ফাঁকা। ঈদের কেনাকাটার কোন প্রভাবই নেই নগরীর ছোট বড় অলংকার তৈরি কারক প্রতিষ্ঠানগুলোতে। উল্টো বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন ক্রেতাদের আনাগোনা অনেকাংশেই কম বলে জানিয়েছে একাধিক স্বর্ণকার। আগের তুলনায় স্বর্ণালংকারের প্রতি নারীদের ঝোক কমে যাওয়ায় বিগত কয়েক বছর থেকেই এমন অবস্থার তৈরি হয়েছে বলে জানান তারা। রমনীরা এখন আসল স্বর্ণালংকারের চাইতে এমিটেশনের প্রতি বেশি আকর্ষিত এবং তারা এখন স্বর্ণালংকার তৈরি না করে জমি ক্রয় করতেই বেশি আগ্রহী হওয়াতেও এখন বেহাল দশা বলেন স্বর্ণালংকার তৈরিকারকরা। তবে ঈদের পরে বিয়ের মৌসুম ওই সময় বেচাকেনা হবে বলেও জানান তারা। গতকাল সোমবার ঈদ উপলক্ষে নগরীর জুয়েলারীগুলোর বেচাকেনার খবর সংগ্রহকালে মনি জুয়েলার্স এর সত্ত্বাধিকারী আব্দুল গনি বাদল বিস্তারিত তথ্যে জানান, এ বছর কেন গত বেশ কয়েক বছর থেকেই ঈদের কেনাকাটায় নগরের রমনীদের তালিকায় নেই কোন স্বর্ণালংকার। এমনকি ছোট বড় কোন জুয়েলারিতে তেমন গয়না তৈরির বায়নাও নেই। বর্তমানে অলংকারের দাম এর বিষয়ে তিনি জানান, ২২ ক্যারেট এর স্বণের্র ১ গ্রামের দাম বর্তমানে ৩ হাজার ৮১৭ টাকা যার ভরি ৪৪ হাজার ৫২১টাকা, ২১ ক্যারেট এর স্বর্ণ প্রতি গ্রাম ৩ হাজার ৬৩৭ টাকা, ভরি ৪২ হাজার ৪২২ টাকা, ১৮ ক্যারেট এর স্বর্ণের গ্রাম ৩ হাজার ৬৭ টাকা এবং ভরি ৩৫ হাজার ৭৭৩টাকা। সনাতন স্বর্ণের গ্রাম ২ হাজার ৬৫ টাকা এবং এর ভরি ২৪ হাজার ৮৬টাকা। রুপা প্রতি গ্রাম ৯০ টাকা এবং ভরি এক হাজার ৫০ টাকা। বর্তমানে কোন অর্ডার নেই তবে ঈদের পর বিয়ের কিছু রেডিমেট গহনার অর্ডার আসবে বলেন তিনি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির বরিশাল অঞ্চলের আহবায়ক মোহাম্মদ আলী খান জসিম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে বিষয়ের সত্যতা স্বীকার করেন তিনি। একই সাথে তিনি বলেন ঈদ বাজারে গহনার বেচাকেনা একেবারেই শূণ্য। আর এই অবস্থা চলে আসছে বেশ কয়েক বছর ধরে। আগে ঈদে বাড়তি আয়ের কিছুটা দিয়ে অনেকেই স্বর্ণালংকার তৈরি করতেন। তবে এখন তা ইতিহাস। তবে ঈদের পরে কিছুটা বেচাকেনা হবে।