ঈদ নিয়ে আতংকে বিএনপির নেতা-কর্মী বাবারা 

জুবায়ের হোসেন ॥ এতদিন পালিয়েছি আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর ভয়ে, আর এখন পালাচ্ছি একমাত্র শিশু সন্তানটির ভয়ে। টানা ৬ মাস পালিয়ে বেড়াচ্ছি। সামনের ঈদে সন্তানকে দেয়ার মত পোষাক কেনার অর্থও আমার কাছে নেই। একাধিক মামলার আসামি হয়ে জমানো পুঁজি সব শেষ। জামিন হয়েছে তবে এখন মনে হচ্ছে পালিয়ে ভাল ছিলাম। ঘরে ফিরে সন্তানের পোশাকের আবদারে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। কারন ৭ বছরের শিশু তো বুঝবে না কিছুই। বিএনপি সমর্থক বাবার যে এবার সন্তানকে ঈদ পোষাক কিনে দেয়ার সামর্থও নেই। উল্টো মাথার ওপরে রয়েছে বিশাল কর্যের বোঝা। তাই সন্তানের আবদার পূরনের ভয়ে পালাতে হবে। দীর্ঘ ৬ মাস পালিয়ে থাকা বরিশাল মহানগর যুবদলের এক কর্মী গতকাল বুকফাটা কষ্ট নিয়ে কথাগুলো বলেন।
এমন অবস্থা তার একারই নয় বলে তিনি আরও জানান, বরিশাল বিএনপির হাতে গোনা কিছু ধন্যাঢ্য নেতা ছাড়া ঈদের আগে অর্থাভাবে করুন জীবনযাপন করছে দলটির প্রায় সকল অংগ সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী। ছাত্রদলের কেউ কেউ এমন সমস্যায় পরলেও তাদের বেশির ভাগই অবিবাহিত তাই ঝামেলাও কম তবে বেশ খারাপ অবস্থায় অন্যরা। বেশি খারাপ অবস্থায় যুব ও শ্রমকি দলের নেতা কর্মীদের। কারন আন্দোলন সংগ্রামে প্রথম কাতারে থেকে বলির পাঠা হয়েছেন তারা। তাদের মধ্যে অনেকেই জেল খেটে বের হয়েছে কিছুদিন আগে, কেউ আছেন একাধিক নাশকতা মামলার জামিনের আসামি হিসেবে, কেউ আছে এখনও পালিয়ে, আবার কেউ কেউ এখনও টানছেন জেলের ঘানি। তবে যে যেই অবস্থানে থাকুক না কেন প্রায় প্রত্যেকেই আর্থিক দিক দিয়ে চলে গেছেন শূন্যের কোঠায়। দল ও সিনিয়র নেতাদের জন্য জরানো ঝামেলায় তারা হাত ছেড়ে দিয়ে গেছেন অনেক আগেই। তবে কখনই সঙ্গ ছাড়েনি যে পরিবার আজ তাদের অধিকার পূরনে অসহায় নেতা কর্মীরা।
তবে সিনিয়র নেতারা এখন আর কেউ খবর নেয় তো দূরের কথা দেখছেন না একবার ঘুরেও।
সূত্র অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপি’র টানা আন্দোলনে বরিশালের নেতারা পারেনি কোন ভূমিকা রাখতে। তাদের জোরালো আন্দোলনের পরিসীমা ছিল শহরতলির অলি গলি। তবে তাতেও রেহাই মেলেনি তাদের। একাধিক মামলার আসামি হয়ে পালাতে হয়েছে প্রায় সকলকেই। তাদের আফসেস্ পথে নেমে চরম বিপাকে পরেছে অংগ সংগঠনের নেতা কর্মীরা। সিনিয়র নেতারা তো আর্থিত চিন্তা মূক্ত তাই তারা পালিয়েও ছিলেন বহাল তবিয়তে। তবে একের পর এক মামলার ঘানি টেনে ও দীর্ঘদিন পালিয়ে থেকে বেহাল দশায় নেমে এসেছে দলের আন্দোলনের শক্তি কর্মীরা। শেষ মেষ নেতাদের আশা ছেড়ে বাচার চিন্তা করেছে পরিবারের মাধ্যমে। আর এতে করে ঐ সকল পরিবার গুলোও হয়ে গেছে ছিন্নভিন্ন।
বছরের পর বছর বিরোধি দলে থাকা, নিজ খরচে দলীয় কর্মসূচী পরিচালনা ও সর্বশেষ মরার ওপরে খারার ঘা হিসেবে ছিল শেষ টানা ৬ মাসের সব কিছুই। এখন পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভবিক হলেও এমন ভাবেই তারা বিপর্যস্ত যে এখন আর কিছুই করার মত অবস্থা নেই তাদের। পরিবারের কাছে বিএনপি নেতা কর্মীরা এখন বোঝায় পরিণত হয়েছে। সামনের ঈদ এখন অনিশ্চিত তাদের ও তাদের পরিবারের কাছে। কারন ঈদ আনন্দ উপভোগের নূন্যতম সামর্থ্য নেই তাদের। সন্তানদের ঈদ পোষাকের আবদার পূরন তো দূরের কথা দুবেলা খাবার জোটানোই এখন চ্যলেঞ্জে পরিণত হয়েছে বরিশাল এর যুবদল, শ্রমিকদল, সেচ্ছাসেবকদল এর মত অংগ সংগঠনের নেতা কর্মীদের কাছে।