ঈদ না যেতেই ইলিশ মোকামে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পবিত্র ঈদ উল আযহা অর্থাৎ কোরবানীর ঈদের প্রথম দিনে মানুষের কর্মব্যস্ত ছিলো পশু কোরবানী নিয়ে। যে কারনে বরিশালের ইলিশ মোকাম ছিলো জনশূন্য। তবে কোরবানীর দ্বিতীয় দিন থেকেই বরিশালের ইলিশের মোকাম ফের কর্মব্যস্ততা শুরু হয়েছে। ঐদিন সকাল থেকেই নগরীর পোর্ট রোডের মৎস্য অবতরন কেন্দ্রে প্রচুর ইলিশ মাছ আসতে শুরু করেছে। যা অব্যাহত ছিলো গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। জেলেরা সাগর ও নদী থেকে মাছ শিকার করে গত দু’দিন ধরে মোকামে নিয়ে হাজির হয় । যা অবতরন কেন্দ্র কিংবা মোকাম ঘুরে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। জেলে-শ্রমিক, দাদনদার-বেপারী, ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভীড়ে ইলিশের বাজার কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ঈদের আগের চেয়ে পরে কিছুটা দামও কমেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। দাম ২/১ দিনের মধ্যে আরো কমে যাবে বলে দাবি করেছেন তারা। নগরীর পোর্ট রোডের অবতরন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, কীর্তনখোলা নদী ধরে যে খালটি অবতরন কেন্দ্রের পাশ দিয়ে নগরীর মধ্যে বয়ে গেছে. সে খালে ছোট-বড় ইঞ্চিন চালিত মাছ ধরার ট্রলার বাধা রয়েছে। যা থেকে শ্রমিকরা ইলিশ ওঠানোর কাজ করছেন। এরপর সে সব মাছ পাল্লায় মেপে বরফ দিয়ে প্যাকেট জাত করে পোর্টরোডে থাকা ট্রাকে সাজানো হচ্ছে। অনেকে দাম কমের খবর ও তাজা মাছের স্বাদ নিতে এ মোকামে এসে ইলিশ কিনছেন। জেলে ও ইলিশ ব্যবসায়ীরা জানান, গভীর বঙ্গোপসাগরে এবং দক্ষিণের নদ-নদীগুলোয় প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। ঈদের জন্য মাছ একটু কম রয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে মাছের পরিমান আরো বেড়ে যাবে এবং দামও কমে যাবে। বর্তমানে ঈদের আগের চেয়ে দাম অনেকটাই কমে গেছে। অবতরন কেন্দ্রের আড়ৎদার নাসির উদ্দিন জানান, ঈদের আগে ৪-৫ শত গ্রাম (ভ্যালকা) ইলিশের দাম ছিলো ১৮ হাজার টাকা। আজ সে মাছ সাড়ে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকায় মন প্রতি বেচা-বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে এলসি (সাড়ে ৬-সাড়ে ৯ শত গ্রাম) সাইজের মাছ ২৮ হাজার টাকায় বেচা- বিক্রি হলেও আজ বিক্রি হচ্ছে ২৫-২৬ হাজার টাকার মধ্যে, ১ কেজির মাছ আগে বিক্রি হয়েছে ৪০ হাজার টাকায় তা এখন হচ্ছে ৩৮ হাজার হাজার টাকায়।
তিনি জানান, অপরিবর্তিত রয়েছে ১ কেজি ২ শত গ্রাম ও দেড় কেজি সাইজের ইলিশের দাম। ১ কেজি ২ শত গ্রামের মাছের দর ঈদের আগে ও পরে ৪২ হাজার টাকা এবং দেড়কেজি সাইজের ইলিশ ৭০ হাজার টাকায় বেচা-বিক্রি হচ্ছে। পোর্ট রোডস্থ মৎস অবতরন কেন্দ্রের ব্যবসায়ী মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, আগে বহু জেলে বরিশালের এই অবতরন কেন্দ্রে আসতো, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বেশি লাভের আশায় এখন বরিশালের মাছ যাচ্ছে চাঁদপুর, ভোলা ও পটুয়াখালির মহিপুরে। তারপরও যা আসছে তা নিয়েই বেশ খুশিই ব্যবসায়ীরা। বরিশাল মৎস আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নীরব হোসেন টুটুল জানান, ঈদের কারনে জেলেরা নদী বা সাগরে তেমন একটা যায়নি। তবে সময় যতো যাবে অবতরন কেন্দ্রে ততো মাছ আসবে, ঈদের পরের দিন যেভাবে মোকামে কাজ শুরু হয়েছে তাতে আজ এ অবতরন কেন্দ্র থেকে ৫ শত মনের বেশী মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানের রফতানি করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। এদিকে মৌসুমের শুরুতে ইলিশ না থাকলেও মধ্যখানে হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় ধাক্কা সামলাতে এখনো হিমশিম খাচ্ছেন বরিশালের বরফ কলগুলোর মালিকরা। বরফ কল ব্যবসায়ী মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, এখন পুরোদমে বরফ কলে কাজ করতে হচ্ছে শ্রমিকদের। তাই মৌসুমের শেষটাও ভালো যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।