ঈদ ছুটিতে শেবাচিমের ৬০০ চিকিৎসক ও নার্স

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ঈদ উপলক্ষে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক সেবা কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। আট শতাধিক চিকিৎসক-নার্স এর স্থলে ঈদের তিন দিন সহ¯্রাধিক রোগীর চিকিৎসা সেবা প্রদানে দায়িত্ব পালন করবেন মাত্র দুই’শ জন চিকিৎসক এবং নার্স। যার মধ্যে চিকিৎসক থাকবেন মাত্র ৫১ জন।
এদিকে আগামী কাল থেকে ঈদের ছুটি শুরু হলেও ইতোমধ্যে ফাঁকা হয়ে গেছে হাসপাতাল। গতকাল বুধবার হাসপাতাল বন্ধের সুবাধে ছুটির একদিন আগেই কর্মস্থল থেকে চলে গেছে অনেক চিকিৎসক।
অপরদিকে ঈদে হাসপাতালে রোগীর চাপ কমাতে শুরু হয়েছে রোগীদের নাম কাটার প্রতিযোগিতা। প্রায় প্রতিদিনই গড়ে আড়াইশ’র মত রোগীর নাম কেটে বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে কর্তৃপক্ষের দাবী যেসব রোগীরা সুস্থ শুধু মাত্র তাদের নাম কাটা হচ্ছে। তাছাড়া অনেক রোগীই পরিবারের সাথে ঈদ করার সুবাধে স্বেচ্ছায় নাম কাটিয়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছে।
হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, ঈদ উপলক্ষে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক এবং নার্সদের ডিউটি রোস্টার করা হয়েছে। ঈদের তিন দিন হাসপাতালের রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য ২০১ জন চিকিৎসক ও নার্স দায়িত্ব পালন করবেন। তবে এটা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল বলে বাদী করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশাসনিক বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঈদের তিন দিন রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য ২০ জনের বেশি রেজিষ্ট্রারের মধ্যে দায়িত্বে থাকবেন মাত্র ৪ জন রেজিষ্ট্রার। দেড়শ জনের বেশি সহকারী রেজিষ্ট্রার, ইন্ডোর মেডিকেল অফিসার এবং ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসারদের মধ্যে থাকবেন মাত্র ৩২ জন এবং ১৭৭ জন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের মধ্যে থাকবেন মাত্র ১৫ জন। এছাড়া চার শতাধিক নার্সের মাঝে দায়িত্বে থাকবেন বিভিন্ন ধর্মের মাত্র ১৫০ জন। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক ও চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম মনিটরিং এর জন্য শুধু মাত্র হাসপাতালের পরিচালক ডা. মু. কামরুল হাসান সেলিম একাই দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে হাসপাতালের সহ¯্রাধিক রোগীর জন্য অল্প সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স দিয়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব নয় বলে দাবী করেছেন হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা। তাই ঈদের মধ্যে রোগীর চিকিৎসা কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়বে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
তারা জানান, ঈদ দেখে রোগ থেমে থাকে না। তাই ঈদের মৌসুমেও প্রতিদিন প্রায় দুইশর মত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন এক হাজারের মত রোগী হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা গ্রহন করবে। তাই চিকিৎসক এবং নার্স এর সংখ্যা আরো বাড়ানো উচিৎ ছিলো।
এদিকে সরেজমিনে দেখাগেছে, ঈদকে সামনে রেখে হাসপাতালে চলছে রোগীর ছাড়পত্র দেয়ার প্রতিযোগিতা। প্রতিদিন দুইশর বেশি রোগীর ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এদের সকলকেই ঈদের এক সপ্তাহ পরে পূনরায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য শুপারিশ করছেন চিকিৎসকদের। এখন রোগীকে ছাড়পত্র দিয়ে বিদায় করা হলে ঈদে রোগীর চাপ কম থাকবে। আর সীমিত চিকিৎসক দিয়ে অল্প সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা দিতে সমস্যা হবে না। এমনটি ভেবেই বিদায় করা হচ্ছে রোগীদের।
জানতে চাইলে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মু. কামরুল হাসান সেলিম জানান, হিন্দু এবং অন্যান্য ধর্মের চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি অনেক মুসলমান চিকিৎসকদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। এদের ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পরে ছুটি দেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, যাদের ছুটি দেয়া হয়েছে তার মধ্যে নগরীর মধ্যে যেসব চিকিৎসকের বাড়ি তাদেরকে কমপক্ষে একবার হলেও হাসপাতালে এসে রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য নির্দেশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকদের ঈদের ছুটিতে একবার করে হলেও ওয়ার্ডে রাউন্ড দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তাই ঈদের ছুটিতে রোগীদের চিকিৎসা সেবায় কোন প্রকার সমস্যায় পড়তে হবে না বলেও দাবী করেন পরিচালক।