ঈদ-উল-আজহায় যাত্রী ভোগান্তি বরদাস্ত করা হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আসন্ন ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে লঞ্চ, বাস মালিক- শ্রমিক এবং সুধিজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্মকর্তারা। গতকাল রোববার বেলা ১১টায় নগরীর পুলিশ লাইনের ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন।
মতবিনিময়কালে পুলিশ কমিশনার বলেন, ঈদ উল আজহায় লঞ্চ ও বাস যাত্রীদের কোন ধরনের ভোগান্তি বরদাস্ত করা হবে না। যাত্রী ও গরুর হাটে ক্রেতাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিবে পুলিশ। সেই সঙ্গে বাস ও লঞ্চ মালিক এবং শ্রমিকদের সতর্ক থাকতে হবে। যাতে করে যাত্রীরা কোন ভাবে হয়রানি কিংবা জিম্মি না হয়ে পড়ে। যাত্রীদের জিম্মি করার কোন অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া ঈদে নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের সর্বোচ্চ হয়রানির হাত থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও দায়িত্বে থাকা প্রশাসনকে নির্দেশনাও দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন।
তিনি আরো বলেন, ঈদ আসলেই বাস এবং লঞ্চ শ্রমিকদের খামখেয়ালীর কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে উঠে। যা এবার করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মলম বা অজ্ঞান পার্টি ঠেকাতে ঈদের আগে পরে ১৪ দিন লঞ্চ ও বাসে হকার প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। এ বিষয়ে লঞ্চ ও বাস মালিক এবং শ্রমিকদের দিক নির্দেশনা দেওয়া হয় সভায়।
পুলিশ কমিশনার আরো বলেন, গভীর রাতে লঞ্চ ঘাটে পৌছাবার পরে যাত্রীদের নৌ বন্দরে কিংবা রাস্তার পাশে অপেক্ষা করতে হয়। কারন ঐ সময় বাস চলাচল করে না। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মাহেন্দ্র যোগে তারা দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে যাত্রা করলেও বাস মালিকরা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতুতে যাত্রী নিয়ে প্রবেশ করতে দেয়না মাহিন্দ্র শ্রমিকদের। ঈদ উপলক্ষে বাস মালিকদের এমন নিয়ম পরিবর্তন করে মাহেন্দ্রতে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, নয়তো গভীর রাত থেকে বাস চলাচলের মাধ্যমে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌছে দেয়ার জন্য বাস মালিকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যাত্রীদেরকে হয়রানি রোধে লঞ্চ ও বাস মালিকদের সকল ধরনের সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে পুলিশ। এছাড়া যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের আগে পরে ১৪ দিন এবং ঈদের তিন দিন টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে নগরবাসী এবং ঈদে ঘরমুখো ও পরে কর্মস্থল মুখো যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। এজন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ৬২১ জন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সায়েদুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) হাবিবুর রহমান খান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আবু রায়হান মো. সালেহ, উপ-পরিচালক (গোয়েন্দা) উত্তম কুমার পাল, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) গোলাম আব্দুর রউফ খান, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) কামরুল আমিন, বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কারুন নাহার, র‌্যাব-৮ এর লেফট্যানেন্ট ক্যাপ্টেন রুহুল আমিন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বরিশালের উপ-পরিচালক ফারুক হোসেন, জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আফতাব হোসেন, বরিশাল-পটুয়াখালী মিনি বাস মালিক সমিতির সভাপতি আজিজুর রহমান শাহীন, সুরভী নেভিগেশন কোম্পানির পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম সহ প্রমুখ।