ঈদে সড়ক পথে যাত্রায়াত ঝুকিপূর্ন নৌপথই প্রধান অবলম্বন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ অস্বাভাবিক প্রবল বর্ষনের পাশাপাশি নিয়মিত মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষনে তহবিল সংকটে দক্ষিনাঞ্চলমুখি সড়কÑমহাসড়কগুলোর দূর্বল ও নাজুক অবস্থার মধ্যে নৌপথই এবারের ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের অন্যতম প্রধান অবলম্বন হলেও সেখানেও রয়েছে নানা ধরনের ঝুকি। এমনকি এবারের ঈদেও চট্টগ্রামÑবরিশাল নৌপথে নিরাপদ উপকুলীয় স্টিমার সার্ভিসটি চালু করতে পারছেনা বিআইডব্লিউটিসি। তবে বেসরকারী নৌযান মালিকগন ২৮ আগষ্ট থেকেই ঢাকার সাথে বরিশাল সহ দক্ষিনাঞ্চলের বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু করছে। এবার শুধু ঢাকাÑবরিশাল নৌপথে ঈদের আগে পরে প্রতিদিন ১৮টি নৌযান প্রতি ২৪ঘন্টায় দুটি করে ট্রিপে যাত্রী পরিবহন করবে। ফলে রজাধানীর সাথে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বরিশাল নদী বন্দরে প্রতিদিন ৩৬টি নৌযান ছাড়াও ২টি ক্যাটামেরন যাত্রী পরিবহন করবে। এসব নৌযানে প্রতিদিন লক্ষাধীক যাত্রী চলাচল করার কথা রয়েছে। এর বাইরেও রাষ্ট্রীয় জাহাজ চলাচল প্রতিষ্ঠান-বিআইডব্লিউটিসি’র নিয়মিত রকেট স্টিমারের পাশাপাশি প্রতিদিন অতিরিক্ত ১টি বিশেষ নৌযান ঢাকাÑবরিশাল নৌপথে চালানোর কথা রয়েছে। তবে গতকাল পর্যন্ত সংস্থাটির ৬টি নৌযানের একটি বিকল ছিল। অপর দুটি প্যডেল জাহাজের অবস্থাও যথেষ্ঠ নাজুক। গতকাল ‘এমভি বাঙালী’ জাহাজটি আনডক করে ঢাকা ঘাটে পৌছলেও ‘এমভি মধুমতি’র প্রপেলার ও তার স্যাফট-এর বুস ’এর মেরামত কাজ শেষ হয়নি।
ঈদকে সামনে রেখে সরকারী-বেসরকারী নৌযানগুলোতে কেবিন টিকেটের জন্য হাহাকার চলছে বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিনাঞ্চলে। গত এক দশকে নৌযানের সংখ্যা তিনগুন বাড়লেও কেবিন টিকেটের সংকট এখনো কাটেনি। ঈদকে সামনে রেখে বেসরকারী নৌযান মালিকগন ডেক শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণী ও ভিআইপি কেবিনের ভাড়া বৃদ্ধি করছে। যাত্রীগন তা মেনে নিলেও টিকেট মিলছে না। একটি কেবিন টিকেটের জন্য তারা হণ্যে হয়ে ঘুরছেন এক নৌযানের অফিস থেকে অন্য অফিসে। এরই মধ্যে বিআইডব্লিউটিসি অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঈদের পরদিন বরিশালÑঢাকা রুটে বিশেষ সার্ভিস পরিচালনা করে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে তা বন্ধ করে দিচ্ছে। অথচ দক্ষিনাঞ্চল থেকে ঈদ পরবর্তি কর্মস্থলমুখি মূল জনশ্রোত অব্যাহত থাকবে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
তবে এবার নৌপথও যথেষ্ঠ সমস্যা শংকুল। উত্তরাঞ্চলের প্রবল বণ্যার শ্রোত মেঘনা হয়ে সাগরমুখি হবার মুখে মেঘনা ও এর ভাটির শাখা নদ-নদীগুলোতে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি করছে। বণ্যার বহমান অতিরিক্ত বালু মিশ্রিত পানির শ্রোতে অনেক নৌপথেই নিত্য নতুন ডুবো চড়ারও সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়গুলো মাথায় রেখেই চালকদের নৌযান পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ’র দায়িত্বশীল মহল। নৌযানের চালকগনও সুষ্ঠু হাইড্রোগ্রাফী জরিপের মাধ্যমে অবিলম্বে রাজধানীর সাথে দক্ষিনাঞ্চলের প্রতিটি নৌপথেই বয়া-বাতি সহ নৌ সংকেত ব্যবস্থা নিশ্চিত করনের দাবী জানিয়েছেন।
তবে এসবের পরেও নৌপথই এবারের ঈদেও দক্ষিনাঞ্চলের ঘরমুখি মানুষের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। আসন্ন ঈদ উল আজহার আগে পরে অন্তত দশ লাখ মানুষ রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশ থেকে দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করবে। যার সিংহভাগই নৌপথে চলাচল করবেবলে আশা করা যাচ্ছে। সে নৌপথ ও নৌযানে নিরাপদ ভ্রমন নিশ্চিত করনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় সহ আইনÑশৃংখলা বাহিনী এবং বিআইডব্লিউটিএ’কে সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ওয়াকিবাহাল মহল।
সড়ক পথে ঢাকার সাথে বরিশাল সহ দক্ষিনাঞ্চলের ৬টি জেলায় ঈদের আগে পরে প্রতিদিন দিন ও রাতে অন্তত ৩শ যাত্রীবাহী বাস চলাচল করবে। এছাড়াও মওয়ার শিমুলিয়ার অপর পাড়ের কাঠালবাড়ী থেকে প্রতিদিন আরো শতাধীক বাস বরিশাল সহ দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ সহ বরিশালÑখুলনা রুটেও প্রতিদিন আরো প্রায় অর্ধশত বাস চলাচল করবে । তবে সময়মত রক্ষনাবেক্ষনের অভাবের পাশাপাশি এবারের প্রবল বর্ষন ও বণ্যায় বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা মহাসড়ক সহ উত্তরবঙ্গ মুখি বিভিন্ন মহাসড়কে যানবহন চলাচল খুব একটা নির্বিঘœ নাও হতে পারে। সড়ক ও জনপথ অধিদফ্তর প্রতিটি মহাসড়কে জরুরী রক্ষনাবেক্ষন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ঈদের তিন দিন আগেই সবগুলো মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নিরাপদ করার কথা জানিয়েছে।
এদিকে আসন্ন ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীর সাথে দক্ষিনাঞ্চলের একমাত্র বিমান বন্দর বরিশালের আকাশ পথে বেসরকারী ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স ৩১ আগষ্ট ও ১ সেপ্টেম্বর দুটি বিশষ ফ্লাইট সহ ঈদের আগের ৫ দিনের সবগুলো ফ্লাইটের টিকেট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। সরকারী এয়ারলইন্সের ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে বেসরকারী এ আকাশ পরিবহন সংস্থাটি ঢাকাÑবরিশাল ৬৭ এ্যারোনটিক্যাল মাইলের আকাশ পথে ৩ হাজার ২শ টাকা থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকায়ও টিকেট বিক্রি করেছে। তবে যথারিতি জাতীয় পতাকাবাহী রাষ্ট্রীয় আকাশ পরিবহন সংস্থাটি বরিশাল সেক্টরে কোন বিশেষ ফ্লাইট রাখছেনা এবারের ঈদেও। বিমান ঢাকা থেকে সৈয়দপুর ও যশোর সহ দেশের অন্য সব সেক্টরেই বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করছে ঈদের আগে পরে।