ঈদে বাড়ী ও কর্মে ফেরা যাত্রীরা লঞ্চে টিকিট না পাওয়ার শংকা

রুবেল খান ॥ ঈদে নাড়ীর টানে বাড়ী ফেরা ও পরে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে নৌ-পথের যাত্রার সাধারন যাত্রীরা লঞ্চের টিকিট না পাওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে। কারন ঢাকা থেকে বরিশাল ও বরিশাল থেকে ঢাকা যাত্রার লঞ্চের টিকিট এবারো কৌশলে বাগিয়ে নিতে তৎপরতা শুরু করেছে দালালরা। এতে সাধারন যাত্রীদের মাঝে টিকিট দেয়ার জন্য লঞ্চ কতৃপক্ষের আবেদন আহবান প্রক্রিয়ার সুফল বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নির্ভরযোগ্য সুত্র জানিয়েছে, দালালরা সাধারন যাত্রীদের জিম্মি করে ফায়দা লুটতে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি, বিশিষ্ট জন ও খ্যাতনামা সাংবাদিকদের নামে টিকিটের জন্য আবেদন জমা দিয়েছে।
বরিশাল ঢাকা-নৌ রুটের বিভিন্ন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদ বা কোরবানীতে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে শেষ মুহুর্তে লঞ্চের টিকেট পেতে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তাদের জিম্মি করে ফেলে লঞ্চের দালালরা। লঞ্চের কিছু কর্মচারীদের সাথে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর যাত্রীদের টিকিট অধিক মূল্যে বিক্রি করে। এ থেকে দালালরা হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিলেও ক্ষতিগ্রস্থ এবং ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। কিন্তু এজন্য দালালদের অপকর্মের পুরো দায় দায়িত্ব নিতে হয় লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষকে। এমন অবস্থা থেকে নিস্তার পেতে ঈদ বিশেষ সার্ভিসে প্রথম শ্রেনীতে (কেবিন) যাত্রার টিকেট পেতে আবেদনপত্র গ্রহনের পদ্ধতি চালু করে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।
তবে গেলো ঈদেও এই পদ্ধতি কয়েকটি লঞ্চে চালু ছিলো। তাই ঐসব লঞ্চের টিকেট যাত্রীরা নির্বিঘেœ হাতে পেলেও বাকি লঞ্চের প্রথম শ্রেনীতে যাত্রার টিকেট চলে যায় দালালদের মাধ্যমে কালোবাজারে। যে কারনে এ বছর লঞ্চ মালিকপক্ষ একক সিদ্ধান্তে সকল লঞ্চেই আবেদন পদ্ধতি চালু করেছে। সে অনুযায়ী গত ৩০ জুন থেকে আবেদন গ্রহন শুরু হয়েছে। আজ ২ জুন বৃহস্পতিবার আবেদন গ্রহন শেষ হবে। ইতোমধ্যে গতকাল দ্বিতীয় দিনের মধ্যেই কেবিনের টিকেট পেতে আবেদনের স্তুপ জমা হয়েছে। আজ শেষ দিনে আরো বহু আবেদন জমা পড়বে বলেও দাবী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পরবর্তীতে লটারীর মাধ্যমে আবেদনকারীদের মাঝে টিকেট বিক্রি করা হবে বলেও নিশ্চিত করেছেন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। তবে কবে নাগাদ টিকেট বিক্রি শুরু হবে তা এখন পর্যন্ত নির্ধারন করা হয়নি। আগামী ৮ জুলাই লঞ্চ মালিক, প্রশাসন এবং নৌ বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ সভার মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবেও নৌ বন্দর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এদিকে লঞ্চের চিহ্নিত দালালদের মাঝে একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, প্রথম শ্রেনীতে যাত্রার টিকেট কালোবাজারে বিক্রি করে সেই টাকা দিয়েই আমরা চলি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন লঞ্চে কল ম্যান হিসেবে কাজ করে কয়েকটি টাকা রোজগার করি। এছাড়া আমাদের আর বাড়তি কোন আয়ের উৎস নেই। কিন্তু লঞ্চ কর্তৃপক্ষ টিকেট পেতে যে আবেদন পদ্ধতি চালু করেছে তাতে করে আমাদের সংসার পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে। এজন্যই তারাও একটু ভিন্ন কৌশল গ্রহন করেছেন।
সোহেল নামের এক কল ম্যান জানায়, লঞ্চের কেবিনের টিকেট পেতে দালালরা বিভিন্ন ভুয়া নাম পরিচয় ব্যবহার করে আবেদন করছে। এখন পর্যন্ত যে পরিমান আবেদন জমা পড়েছে তার মধ্যে দালালদের আবেদনের সংখ্যাই বেশি হবে বলে মন্তব্য করে এই কলম্যান।
মানিক নামের দালাল, জানায়, দালালরা কেবিনের টিকেট পেতে বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনের উপরস্থ কর্মকর্তা এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের নাম ব্যবহার করে আবেদন করছে। এর মধ্যে থেকে প্রতিদিন ২/১টি করে হলেও টিকেট তাদের ভাগ্যে জোটবে বলেও মন্তব্য করে একাধিক দালাল চক্র। আর এ জন্য লঞ্চের কতিপয় অসাধু স্টাফ তাদের সহযোগিতা করছে বলেও জানালের তাদের নাম প্রকাশে অপরাগতা প্রকাশ করে দালাল সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
তবে লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন, আবেদন পেলেই টিকেট দেয়া হবে না। তার মধ্যে জাচাই বছাই’র বিষয় আছে। যারা লঞ্চের নিয়মিত যাত্রী টিকেট প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তাছাড়া জাচাই বাছাইতে দালালদের দেয়া আবেদন পেলে তা বাতিল করা হবে। এমনকি লটারীতে যে কেবিনের টিকেট পাবে তাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানোর পাশাপাশি তার নাম পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। এবারের ঈদে দালালদের খপ্পর থেকে যাত্রীদের রক্ষা দিতে যা কিছু প্রয়োজন সবই লঞ্চ কর্তৃপক্ষ করবে বলেও জানিয়েছেন তারা।