ঈদে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে চলবে সরকারী দুই নতুন নৌ-যান

রুবেল খান॥ আসন্ন ঈদ উল ফিতরে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে বরিশাল-ঢাকা নৌ বহরে সংযোজন হচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ এবং বিআইডব্লিউটিসি’র নতুন নৌ যান। ইতোমধ্যে এ রুটে একটি নৌ যান চলাচল শুরু করলেও উদ্বোধনের অপেক্ষায় জাহাজ মধুমতি। সেই সাথে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে প্রথম বারের ন্যায় চালু করা হয়েছে অনলাইন পদ্ধতিতে টিকেট বিক্রি কার্যক্রম।
এদিকে এই রুটে নতুন নৌ যান সংযোজনের পাশাপাশি বহর থেকে সরিয়ে নেয়া হতে পারে এমভি বাঙ্গালী। নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে জাহাজটিকে মাওয়া রুটে স্থানান্তর করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসি’র বরিশাল কার্যালয়ের মহা-ব্যবস্থাপক গোপাল চন্দ্র মজুমদার।
তিনি জানান, ঈদ বা কোরবানীতে নৌ রুটে যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পায়। ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লাখ লাখ যাত্রী দক্ষিণাঞ্চলে ফেরে। এ কারনে যাত্রীদের নির্বিঘেœ বাড়ি ফেরার লক্ষে বিআইডব্লিউটিসি’র নৌ বহরে যুক্ত হচ্ছে একটি আধুনীক নৌ যান। সাড়ে ৮শ ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন এমভি মধুমতি নামের নৌ যানটি এমভি বাঙ্গালী জাহাজের ন্যায় নির্মান করা হলেও ভেতরগত ভাবে আনা হয়েছে নানা পরিবর্তন। বিশেষ করে এয়ারকন্ডিশন কেবিনের পাশাপাশি চেয়ার সিটিং ব্যবস্থা।
গোপাল চন্দ্র মজুমদার বলেন, এই জাহাজটি আসন্ন ঈদে যাত্রী পরিবহন শুরু করবে। ভাড়ার দিক থেকেও এমভি বাঙ্গালীর থেকে কোন প্রকার পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে কবে নাগাদ লঞ্চটি বহরে যোগ দিবে সে বিষয়ে মন্ত্রনালয় থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়নি। ঈদের আগেই প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাহাজটির উদ্বোধন করবেন বলে জানান তিনি।
এদিকে বরিশাল আঞ্চলিক মহা-ব্যবস্থাপক গোপাল চন্দ্র মজুমদার বলেন, বিআইডব্লিউটিসি’র নৌ বহরে ৬টি জাহাজা নিয়মিত চলচে। তবে ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ধারনা করা হচ্ছে হুলারহাট টু ঢাকা ভায়া বরিশাল এবং বরিশাল টু ঢাকা এবং খুলনা টু ঢাকা ভায়া বরিশাল ও চাদপুর রুটে একটি করে বার্তি জাহাজ চলাচল করবে।
ঈদ সার্ভিসে বিআইডব্লিউটিসি’র নৌ বহরে যেসব জাহাজ যাত্রী সেবা দিবে সেগুলো হলো- এমভি মধুমতি, এমভি শেলা, পিএস অস্ট্রিজ, পিএস মাসুদ, বিএস লেপছা, পিএস টার্ন। এর মধ্যে পিএস মাসুদ বর্তমানে নারায়নগঞ্জ ডক ইয়ার্ডে রয়েছে। সেটিতে উন্নয়ন মূলক কাজ চলছে। এছাড়া এমভি বাঙ্গালী জাহাজটি এখনো বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে চলাচল করছে। তবে এই জাহাজটি ঈদ উপলক্ষে বরিশাল থেকে স্থানান্তর করে মাওয়া-টু- চর জানাজা রুটে যাত্রী পরিবহন করতে পারে। এই রুটটি ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে জাহাজটি সেখানে স্থানান্তরের বিষয়ে মন্ত্রনালয়ে আলোচনা চলছে।
এর বাইরে বরিশালের আভ্যন্তরিন রুটে নিয়মিত চলাচল করবে খিজির জাহাজ। এর মধ্যে বরিশাল- মজুচৌধুরীর হাট রুটে খিজির-৮, ইলিশা টু মজুচৌধুরীর হাট খিজির-৭ এবং মনপুরা শশীগঞ্জ রুটে এসটি শেখ জামাল চলাচল করবে বলে নিশ্চিত করেছেন গোপাল চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, যাত্রীদের সুবিধার্তে এই প্রথম বারের ন্যায় অনলাইনে টিকেট বিক্রয় শুরু করা হয়েছে। গত ১ জুন নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় এই পদ্ধতি চালু করে। অনলাইনে টিকেট পেতে িি.িংযড়যড়ু.পড়স
অথবা ০১৬৩৭৪-০১৭৭৭৭৫২৪১০ নম্বরে যোগাযোগের জন্য বলা হয়েছে।
এদিকে বিআইডব্লিউটিসি ছাড়াও বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ বহরে ইতোমধ্যে যোগ হয়েছে সুরভী-৭ লঞ্চ। সম্প্রতি বরিশাল-ঢাকা রুটের বিলাশবহুল এই লঞ্চের উদ্বোধন করা হয় বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল বাশার মজুমদার।
তিনি বলেন, আগামী ৮ জুলাই ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে স্পেশাল সার্ভিসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে। তবে এবার যাত্রী ভোগান্তি দূর করতে বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌ পুলিশের যৌথ উদ্যোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি থাকবে গোয়েন্দা পুলিশের টিম। অতিরিক্ত নৌযান যাত্রী ধারন বা শৃঙ্খলা রক্ষায় ভ্রাম্যমান আদালত কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।