ঈদে নগরীতে তিনস্তরে নিরাপত্তা দেবে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ঈদে নগরবাসী, নৌ-সড়কসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীদের তিন স্তরের নিরাপত্তা দেবে মহানগর পুলিশ। পূর্বের যে কোন উৎসবের চেয়ে এবার দুই গুন পুলিশ নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে। মহানগর পুলিশের আইনশৃংখলা বিষয়ক সভায় ওই তথ্য জানানো হয়েছে। গতকাল রোববার মহানগর পুলিশের নগরীর আমতলা মোড়ের পুলিশ কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন সভায় সভাপতিত্ব করেন। এছাড়াও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, সরকারি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিল। মহানগর পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন সভায় জানান, ঈদে লঞ্চ এবং বাসে যাত্রীদের ভির বাড়ে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে প্রতারক এবং মলম পার্টি যাত্রীবেসে যানবাহন উঠে যাত্রীদের নিশ্ব করে পালিয়ে যায়। এ বিষয়টির দিকে বাস এবং লঞ্চ মালিক ও কর্তৃপক্ষে সজাগ থাকতে বলেন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, লঞ্চ এবং বাসে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে আসা যাত্রীদের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তাদেরকে গন্তব্যে পৌছে দেয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা দেয়াটা বাস ও লঞ্চ কর্তৃপক্ষের নৈতিক দায়িত্ব। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করার আহ্বান জানান কমিশনার। পাশাপাশি যাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লঞ্চ কিংবা বাসে ওঠা যাবে না। অপরিচিত কোন ব্যক্তির খাবার না জিজ্ঞাসা করে খাওয়া যাবে না।
ঘর মুখো এবং ঈদ শেষে কর্মে ফেরা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নগরীর নথুল¬াবাদ ও রূপাতলী বাস টার্মিনাল, বরিশাল নৌ-বন্দর এলাকার প্রবেশ পথ এবং অভ্যন্তরে সিসি ক্যামেরা চালু রাখতে হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় নগরীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি জানান, লঞ্চ ও বাসে ছিনতাইকারী-মলমপাটি প্রতিরোধে সচেতনতার জন্য ঈদের আগে-পরের ৭ দিন ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে। যানবাহন’র অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও হয়রানি থেকে যাত্রীদের মুক্ত করতে বিকল্প যানবাহন রাখার সিদ্বান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় পরিবহন মালিকদের যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও নৌ ও বাসষ্ট্যান্ডে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, গন্তব্যে রওনার পূর্বে যাত্রীদের স্থিরচিত্র ধারন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মহাসড়ক থেকে নছিমন, করিমন, ভটভটি, টমটম, থ্রি হুইলার, নৌ-পথে ট্রলারসহ সকল অবৈধ যান রোধে প্রশাসনের কঠোর হওয়ার আহবান জানানো হয়েছে।