ঈদে ঘরে ফেরাদের কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ঈদে ঘরমুখো দক্ষিণার মানুষের কর্মে ফেরা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে এখনো নৌ এবং সড়ক পথে মানুষ কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে। গতকাল শনিবারও বরিশাল থেকে লঞ্চ, বাস এবং স্টিমারে প্রায় ৫০ হাজার যাত্রী কর্মস্থলে ফিরেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। যাত্রীদের ভীড় এখনো অনেক বেশি থাকায় গতকালও ঈদের বিশেষ সেবায় ১৮টি লঞ্চ ও স্টিমার ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। তবে আজ থেকে ঈদ স্পেশার সার্ভিসে নৌ যানের সংখ্যা কমানো হবে বলে নিশ্চিত করেছেন লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ।
সূত্রমতে গতকাল শনিবার ছিলো ঈদ শেষে নবম দিন। নবম দিনেও হাজার হাজার মানুষ কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। নবম দিনেও সকাল থেকেই লঞ্চ এবং বাস টার্মিনালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভীড় ছিলো। বিশেষ করে সকাল থেকে নগরীর কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে যাত্রীদের ভীড় বেশি থাকলেও সন্ধ্যায় যাত্রীদের পদচারনা বৃদ্ধি পায় লঞ্চ ও স্টিমার ঘাটে।
বরিশাল ঢাকা রুটের একাধিক লঞ্চ মালিক জানান, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ঈদের ৭ম দিন অর্থাৎ ২৪ জুলাই পর্যন্ত তাদের লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস চলার কথা ছিলো। কিন্তু শুক্রবার কয়েক হাজার যাত্রী ঢাকায় যেতে পারেনি। তাই যাত্রীদের কথা ভেবে গতকাল শনিবারও বিশেষ সার্ভিস চালু করা হয়। এ জন্য বরিশাল নৌ বন্দর থেকে বড় ছোট মিলিয়ে ১৪টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। এছাড়া ভায়া রুটের আরো দুটি লঞ্চ বরিশাল থেকে যাত্রী বহন করেছে। এর পাশাপাশি ছিলো এমভি মধুমতি সহ দুটি স্টিমার। তবে আজ রবিবার স্পেশাল সার্ভিসের লঞ্চ বহর থেকে কয়েকটি লঞ্চ কমানো হবে। কম হলেও ৭টির মত লঞ্চ আজ বরিশাল ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে যাবে।
এদিকে গতকাল ঈদ সার্ভিসের ৯ম দিনে বরিশাল নৌ বন্দরে দেখা গেছে ব্যতিক্রম চিত্র। তা হলো ইতোপূর্বে লঞ্চের একটি কেবিনের জন্য মানুষ হণ্যে হয়ে ঘুরলেও গতকাল শনিবার লঞ্চ টার্মিনালে দাড়িয়েই ডেকে ডেকে কেবিনের টিকেট দেয়ার বিড়ল চিত্র উপলব্ধি করেছে যাত্রীরা। এর কারন হিসেবে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গতকাল বিশেষ সার্ভিস চলার কথা না থাকায় অনেক লঞ্চের কেবিন আগে থেকে বুকিং দেয়া হয়নি। যে কারনে ঘাটে দাড়িয়েই যাত্রীদের ডেকে ডেকে কেবিন দেয়া হয়েছে। তবে ডেকের পরিস্থিতি সেই পূর্বের মতোই রয়েছে। দালাল এবং শ্রমিক, কুলি এবং ডিন্ডিকেটের দখলে ছিলো বেশিরভাগ লঞ্চের ডেক। তাই গতকালও টাকা দিয়ে ডেকের যায়গা কিনতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।