ঈদের বাড়ী ফেরা যাত্রীদের বিড়ম্বনা আর ভোগান্তিতে নৌ-সড়ক পথে যাত্রা

রুবেল খান ॥ ঈদ উদযাপনে নারীর টানে বাড়ি ফেরা যাত্রীরা লঞ্চ এবং বাসে শত বিড়ম্বনা উপেক্ষা করে কর্মে যোগ দিতে ছুটছেন। বৈরী আবহাওয়ায় নিষেধাজ্ঞায় ঝুকি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার হাজার হাজার যাত্রী ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে। যাত্রীদের ঝুকিমুক্ত যাত্রার জন্য তদারকিতে থাকা সংশ্লিষ্টদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে বাড়তি আয়ে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ছুটছে সকল অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করে।
সূত্রমতে, গত ১৭ জুলাই পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। এ উপলক্ষে ঢাকা সহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাকুরীজীবি মানুষ পরিবারের সাথে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আসে। ঈদের পর দিন থেকেই কর্মজীবীরা বরিশাল ত্যাগ করতে শুরু করলেও গত দু’দিন লঞ্চ এবং বাস টার্মিনালে ছিলো যাত্রীদের উপছে পড়া ভিড়। নৌ এবং সড়ক পথে কয়েক লাখ মানুষ কর্মস্থলে ফেরার যুদ্ধে মেতে উঠেছে। বাড়ি ফেরার মত করে লঞ্চ এবং বাসে শত বিড়ম্বনা আর অনিয়মের সাথে নিয়ে পূনরায় কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
বরিশাল নৌ বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক (ইনচার্জ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গতকাল মঙ্গলবার বরিশাল থেকে স্টিমার ও ভায়া রুটের লঞ্চ সহ মোট ১২ নৌ-যান যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে লঞ্চ ছিলো ১০টি। বাকি দুটি বিআইডব্লিউটিসি’র স্টিমার। তবে বরিশাল থেকে যে লঞ্চ ঢাকায় গেছে তার মধ্যে ভায়া লঞ্চ রয়েছে দুটি।
তিনি জানান, গত সোমবার থেকেই লঞ্চে কর্মস্থল মুখো যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। তাই ওই দিন বরিশাল থেকে সব মিলিয়ে ১২টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। ওই লঞ্চগুলো ডাবল ট্রিপ দেয়ার জন্য ঢাকা ঘাটে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে বিকালের মধ্যে পূনরায় বরিশালে পৌছে।
অপরদিকে নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালেও দেখা গেছে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাদুর ঝোলা হয়ে যাত্রীরা ছুটছে নিজ নিজ গন্তব্যে। বাসের পাশাপাশি সড়ক পথে মাইক্রোবাস সহ গন পরিবহনেও ঝুকি নিয়ে ছুটছেন তারা।
জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক জানান, ঈদের যাত্রীদের চাপ একটু বেশি থাকে। তাই কোন প্রকার রোটেশন পদ্ধতি ছাড়াই বাস ও যাত্রী পরিবহন চলাচল করছে। তার পরেও অনেক যাত্রীকে বাসে উঠানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই তারা মাইক্রোবাস সহ অন্যকোন উপায়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হচ্ছে। এছাড়া প্রতি ৩০ মিনিটি পর পরই বরিশাল থেকে মাওয়া রুটের বিআরটিসি বাস যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিআরটিসি বরিশাল ডিপোর ম্যানেজার।
এদিকে বাস ও লঞ্চ ঘাট পরিদর্শনে গিয়ে যাত্রীদের সাথে আলাপকালে তাদের মুখ থেকে ফুটে উঠে নানা অভিযোগ। ঢাকার একটি পোশাক কারখানার সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আজমীর আলম তানজিল বলেন, ঈদে লঞ্চের কেবিনের ফিরতি টিকেট বিক্রি কবে থেকে শুরু হয় তা জানিনা। তবে ঈদের দিন খোঁজ নিয়েও শুনেছি কেবিন খালি নেই। অবশ্য প্রতিটি লঞ্চ কাউন্টার থেকেই দু’দিন অপেক্ষা করতে বলা হয়। কিন্তু অপেক্ষা করেও শেষ পর্যন্ত প্রথম শ্রেনীর কেবিনের টিকেট পাইনি।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে বাসের টিকেটের জন্য নথুল্লাবাদে গেলাম। কিন্তু সেখানে গিয়েও পাইনি টিকেট। তাই বাধ্য হয়েই লঞ্চের ডেকে ঢাকায় যাচ্ছি। তার মধ্যে আবার পাচ্ছি না ডেকের যায়গা। লঞ্চের এক স্টাফকে দুইশ টাকা দিয়ে কোন রকম বসার জন্য একটু স্থান কিনে ঢাকা যাচ্ছি।
একই ভাবে অভিযোগ করেন, ঢাকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সহকারী খাজা দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, লঞ্চ বা বাসে যেখানেই যাই কোথাও একটি কেবিন বা সিট পাইনি। কিন্তু টার্মিনালে অল্প সময় ঘুরেই দালালের মাধ্যমে একটি লঞ্চের টিকেট পেয়েছিলাম। সিঙ্গেল ওই কেবিনের মূল্য চেয়েছে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। যে কারনে উপায় না পেয়ে নথুল্লাবাদ থেকে মাইক্রোবাসে মাওয়া হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছি। লঞ্চ ও বাসের টিকেট কালোবাজারে বিক্রি এবং অতিরিক্ত টাকা আদায় ও লঞ্চের ডেকের স্থান বিক্রির একাধিক অভিযোগ করেন যাত্রীরা। কিন্তু তাদের কোন অভিযোগ কর্ণপাত হচ্ছে না লঞ্চ মালিক কিংবা প্রশাসনের। তারা নামে মাত্র চেক পোষ্ট আর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব পালন করছে বলেও অভিযোগ যাত্রীদের।