ঈদেও দর্জিদের মাঝে ব্যস্ততা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ঈদে পোষাক বাজারের পাশাপাশি দর্জি বাজারেও মন্দা দেখা দিয়েছে। গতবারের তুলনায় এবার দর্জিদের কাজ অনেক কম বলে জানিয়েছেন একাধিক দর্জি। তবে তদের কাজের মন্দার কারনে বিভিন্ন দর্জি বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কথা জানান। তবে এর মধ্যে মূল কারন হিসেবে তারা বর্ষার কথা উল্লেখ করেন। অতিরিক্ত বর্ষণের ফলে গ্রাহরা বাজারমুখী হতে পারছে না। যদিও বা কেউ কেউ কেনাকাটার জন্য আসছে তাদের তৈরি পোষাকের উপর আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও সমস্যার কথা উল্লেখ করে ক্লাসিক টেইলার্সের সত্ত্বাধিকারী শমির কর্মকার জানান, নগরীতে জুয়া ও লটারির কারনে পুরুষদের হাতে টাকা কম। অধিক পরিমাণে টাকা ওই দিকে খরচ করার কারনে অবশিষ্ট টাকা দিয়ে তাদের সন্তানদের চাহিদা পূরনের চেষ্টা করছেন। সৃষ্টি টেইলার্সের সত্ত্বাধিকারী জানান, অনেকেই এখনও বেতন ও বোনাস পাননি যার ফলে বাজারমুখি হতে পারছে না। তাছাড়াও কিছুদিন আগে মূল্যহ্রাসের কারনে অনেকেই তখনই জামাকাপড় তৈরি করে নিয়েছেন যার ফলে এখন কাজের চাপ অনেক কম। দর্জি বাজার সূত্রে আরও জানাগেছে, এবারের লেডিস টেইলার্সগুলোতে গ্রাহক কম তবে এর মধ্যে যা আছে তাদের ইন্ডিয়ান পোষাকের প্রতি আগ্রহ বেশি। এর মধ্যে কিরণমালা, ফ্লোরটাচ, কটকটি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও লংফ্রক, গাউন, কটি, থ্রীপিচ সহ অন্যান্য পোষাকও তৈরি করা হচ্ছে। এসব তৈরীতে মজুরী গতবারের মতই রয়েছে বলে জানান তারা। তবে কিরনমালা, ফ্লোরটাচ ও কটকটি পোষাক তৈরিতে ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত মজুরী নেয়া হচ্ছে। নরমাল পোষাকগুলোতে ২৫০ থেকে ৩’শ টাকা মজুরী নেয়া হয়। ঈদ উপলক্ষে তারা পোষাকের উপর নির্ভর করে ৫০ থেকে ১’শ টাকা বেশি নিচ্ছেন। এছাড়া মজুরী পূর্বের মতই রয়েছে কোন পরিবর্তন হয়নি। লেডিস টেইলার্সের ক্ষেত্রে দর্জি মালিক সমিতির পূর্বের নির্ধারন মূল্যেই এখন কাজ করা হচ্ছে। জেন্টস টেইলার্স সূত্রে জানাগেছে, তারাও দর্জি ইউনিয়নের দেয়া মজুরি তালিকা অনুযায়ী কাজ করছে। এবারের ঈদে তাদেরও গ্রাহক কম। যুবকদের প্রধান আকর্ষনই হচ্ছে জিন্স ও গ্যাবাড্রিন এর প্যান্ট আর পাঞ্জাবী বা টিশার্ট। এর মধ্যেও যারা আসছেন শার্টের মজুরী রাখা হচ্ছে ৩৫০ এবং প্যান্ট ৪৫০টাকা। এবার বাজার মন্দা থাকার কারনে এখনও জামা কাপরের অর্ডার নিচ্ছে দর্জিরা। যেখানে গত ঈদে ১০ থেকে ১৫ রোযার পর আর কোন কাজের অর্ডার নেয়া হয়নি।