ঈদকে সামনে রেখে বাই ও মোটর সাইকেল চুরি বেড়েছে

জুবায়ের হোসেন ॥ ঈদ বাজারে নগরবাসীর ব্যস্ততার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চোরাই চক্র। দিনে দুুপুরে জনবহুল স্থানেও ঘটছে এ সকল চুরির ঘটনা। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকলেও হঠাৎ করেই সক্রিয় হয়েছে চক্রটি। প্রায় গত এক মাস ধরে মোটর বাইক চালকদের মনে আতংক তৈরি করে রেখেছে তারা। চুরি হওয়ার সাথে সাথে থানায় সাধারণ ডায়েরী হলেও এপর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে মাত্র ১টি মোটর সাইকেল। অন্যদিকে যাদের জিনিস খোয়া যাচ্ছে তারা পড়ছে অপর এক প্রতারক চক্রের কবলে। দরবেশ ও ফকির বেশি এ সকল প্রতারকরা সুযোগ নিয়ে করছে এমন প্রতারণা। আর হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। কোতোয়ালী মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মাসের মধ্যে মোটর সাইকেল চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে ১টি, সাধারন ডায়েরী হয়েছে ২টি। থানা পুলিশ উদ্ধার করেছে ১টি চোরাই মোটরসাইকেল। গত ৫ জুন ও ৯ জুন সাধারন ডায়েরী দুটি গ্রহণ করেছে থানা পুলিশ। অন্যদিকে ১৬ জুন রাতে আলিকো এজেন্সি ব্যবস্থাপকের মোটর সাইকেলটি নৌ-বন্দর থেকে চুরি হয়। জনবহুল নৌ-বন্দর থেকে চোখের পলকে মোটর সাইকেলটি চুরি হয়ে যায় বলে জানায় আলিকোর এজেন্সি ব্যবস্থাপক আবু সাইদ খান। এ ঘটনায় তিনি কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারন ডায়েরিও করেছেন। তবে এই ডায়েরির তথ্যটি থানা থেকে তথ্য সংগ্রহকালে জানানো হয়নি। সর্বশেষ গত ৫ জুলাই রাতে আমতলার মোড় থেকে আরেকটি মোটর সাইকেল চুরি হয়। সেই চুরির ঘটনায়ও সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে। তবে সেটিও জানায়নি থানা সূত্র। অন্যদিকে মোটর সাইকেলের সাথে একই সাথে বেড়েছে বাই সাইকেল এর চুরি। একাধিক তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা এই বাইসাইকেল গুলোও চুরি হচ্ছে খুবই সহজে। সাইকেল চুরির ঘটনাও মডেল থানায় ডায়েরী করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার প্যারাগান কোচিং সেন্টারের সামনে থেকে ছাত্রের সাইকেল চুরির ঘটনায় ডায়েরীটি করেন কোচিং সেন্টারের পরিচালক আবু ইউসুফ। এছাড়াও নগরীর অক্সফোর্ড মিশন রোড, সদর রোড এর মত জনবহুল এলাকাগুলোতে প্রতিনিয়তই ঘটছে এমন চুরির ঘটনা। অপরদিকে চুরির সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে নগর ও শহরতলীতে থাকা অসংখ্য ভন্ড ফকির ও দরবেশরা। এরা তাদের দালালদের মাধ্যমে যোগাযোগ করছে যাদের মাল চুরি হচ্ছে তাদের সাথে। অলৌকিক ক্ষমতার মাধ্যমে উদ্ধারের বাহানায় হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। তবে আজ পর্যন্ত তাদের মাধ্যমে একটি চোরাই মোটর সাইকেলও উদ্ধার হয়েছে বলে নিশ্চিত করতে পারেনি কেউই। এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন বলেন, মালিকের দায়িত্বহীনতার কারনে মটর সাইকেল চুরি হচ্ছে। তারা লাখ লাখ টাকা দামের মটর সাইকেল নিরাপদ স্থানে না রেখে যেখানে খুশি সেখানে ফেলে রেখে চলে যাচ্ছে। সেই সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে চোরচক্র। তবে বাসাবাড়িতে যেসব চুরির ঘটনা ঘটছে, সেসব ঘটনার বেশির ভাগ চুরি যাওয়া মটর সাইকেল উদ্ধার ও চোরচক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি তাদের সহযোগি চোরাই সিন্ডিকেট সদস্যদের গ্রেপ্তারের তৎপরোতা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি দাবী করে বলেন, গতকয়েক দিনে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় নগরীতে মটর সাইকেল ছিনতাই বা চুরি একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবী জানিয়ে ওসি বলেন, চলতি ঈদ মৌসুমে সকল ধরনের চুরি, ছিনতাইসহ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের মোবাইল টিম বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে গোয়েন্দা ও সাদা পোষাকধারী পুলিশের বিশেষ টিম।