ইলিশ বিহীন মেঘনা তজুমদ্দিনের জেলেরা হতাশায়

শরীফ আল-আমীন,তজুমদ্দিন  ॥ মৌসুম প্রায় শেষ তবুও জেলেদের জালে দেখা মিলছেনা রুপালী ইলিশের। শুধু ইলিশ নয় অন্য মাছেরও তেমন দেখা মিলছেনা তাদের জালে। তবুও  দু’মুঠো অন্ন জোগাতে তাদের চেষ্টার কমতি নেই। ইতিমধ্যে অনেক জেলেরা এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশাও খুুজছে। যদিও এক সময় উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন হাট বাজার ও গ্রামগঞ্জ গুলোতে থাকতো ইলিশের রাজত্ব। জেলে পল্লীগুলোতে ধুম পড়তো ইলিশ মাছ ভাজা ও ইলিশ খিচুড়ি খাওয়া। বাজার থেকে যাওয়ার সময় এক হালি কিংবা এক জোড়া ইলিশ হাতে করে নেওয়া ছিল এখানকার একটি সু-পরিচিত দৃশ্য। এখন আর চোঁখে পড়ে না এসব দৃশ্য। দিনভর বি¯র্তৃণ মেঘনায় জেলেরা জাল ফেলেও ৩-৪ টির বেশী ইলিশ না পাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে এখানকার  জেলে পরিবার গুলো।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, জৈষ্ঠ মাস থেকে পুরো দমে ইলিশ মৌসুম শুরু। এসময়ে জেলেদের জালে ধরা পড়তো ঝাকে ঝাকে রুপালী ইলিশ । ক্রেতা বিক্রেতাদের পদচারনায় জমজমাট হয়ে উঠতো উপজেলায় ১০/১৫ মাছ ঘাট সহ বিভিন্ন হাট বাজারগুলো। জেলেরা যে পরিমান মাছ পেত তা দিয়ে দাদন ব্যবসায়ীদের দাদনের টাকা পরিশোধ করার পর সাচ্ছন্দে জীবন যাপন করতো জেলে পরিবার গুলো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাছ রপ্তানী করার পরও স্থানীয় হাট বাজার গুলোতে বিক্রি হত প্রচুর পরিমান ইলিশ। এবছর আশ্বিন মাস চলছে এখন পর্যন্ত জেলেদের জালে ধরা পড়ছেনা রুপালী ইলিশ । প্রধান প্রধান মৎস্য ঘাটগুলোতে বিরাজ করছে নিরবতা। জাহাঙ্গির মাঝি,মহিউদ্দিন মাঝি,আলম মাঝি সহ একাদিক জেলেরা জানান,এবছর মৌসুমের শুরু থেকেই চলছে মাছের আকাল। দিনভর মেঘনায় জাল ফেলে ৩-৪টির বেশী মাছ পাওয়া যায় না । বড় সাইজের প্রতি হালি ইলিশের দাম আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা এতে দৈনিক যে পরিমান খরচ হয় তাতে লাভের পরিবর্তে গুনতে হয় লোকসান। তবে মেঘনায় মাছ না পাওয়ার কারণ হিসেবে জলবায়ুর প্রভাবেই প্রধান কারণ মনে করছে উপজেলা মৎস্য অফিস।
মৎস্য ব্যবসায় রফিক সাদী বলেন,জৈষ্ঠ মাসের শুরু থেকেই চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন । আশ্বিন মাস চলছে তবু জেলেদের জালে ইলিশ মাছ ধরা না পড়ায় বেকার হয়ে পড়েছে জেলে সহ এখানকার মৎস্য পেশার সাথে জড়িত প্রায় অর্ধলক্ষাধীক মানুষ ।
এদিকে মৎস্য অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায়  প্রায় ১২  হাজার জেলে রয়েছে। এসব জেলেদের একমাত্র আয়ের উৎস্য মেঘনায় মাছ ধরা ও বিক্রি করা। এ উপরেই চলে তাদের পরিবার।  কিন্তু বছরের শুরু থেকেই জেলেদের জালে মাছ ধরা না হতাশা হয়ে পড়ে জেলেরা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আমির হোসেন  বলেন,জলবায়ুর প্রভাব ও সময়মত ঝাটকা নিধন রোধ করতে,টানা জড় বৃষ্টি সহ পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় মেঘনায় মাছ ধরা পড়ছেনা।