ইলিশে ভরপুর বাজার পাইকারীতে কম খুচরায় দাম বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বরিশালের বাজারে ইলিশের মূল্য আরো কমেছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ইলিশের মন প্রতি প্রকার ভেদে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা কমেছে। এর পরেও ইলিশের মূল্য উর্ধ্বমুখী বলে দাবী মৎস ব্যবসায়ীদের। ভরা মৌসুমে সাগর থেকে ইলিশ পাঁচার বন্ধ হলে মূল্য আরো কয়েক দফা কমে যাবে বলেও দাবী করেছেন তারা।
এদিকে পাইকারী বাজারে ইলিশের মূল্য কমলেও খুজরা বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। বাজার গুলোতে ইলিশের খুচরা মূল্য উর্ধ্বমুখী বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। যে কারনে খুচরা বাজারে প্রশাসনের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারের দাবীও জানান তারা।
সূত্রমতে, গত ৯ অক্টোবর রাত ১২টার পর নদী এবং সাগরে মা ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সরকার। টানা ১৫ দিন সাধারণ জেলেরা সাগর এবং নদীতে ইলিশ শিকার করতে না পারায় ইলিশ শূন্য হয়ে পড়ে বরিশালের প্রতিটি বাজার। তবে গত ৯ অক্টোবর ভোর রাত থেকেই বরিশালের বাজারগুলোতে ইলিশ আসতে শুরু করে। তবে এসব ইলিশের বেশির ভাগই ডিমওয়ালা মা ইলিশ। সরকারের নির্ধারিত প্রজনন সময়ের মধ্যে মা ইলিশগুলো ডিম ছাড়তে পারেনি। যে কারনে ঐসব ডিমওয়ালা ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার পর গত ১০ অক্টোবর থেকে নগরীর সর্ববৃহৎ পোর্ট রোডের ইলিশ মোকামে রূপালী ইলিশের ব্যাপক সমারহ ঘটে। তবে গত ১০ অক্টোবরের থেকে গতকাল ১১ অক্টোবর রবিবার পোর্ট রোডে ইলিশের আমদানী অনেক বেশি ছিলো। যে কারনে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ইলিশের মন প্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা মূল্য কমে গেছে। আগামী এক সপ্তাহে ইলিশের মূল্য বৃদ্ধি না পেলেও আমাবশ্যার কারনে ইলিশের মূল্য আরো কমতে পারে বলে জানিয়েছেন মৎস ব্যবসায়ীরা।
নগরীর পোর্ট রোডের ব্যবসায়ী এবং জেলা মৎস আড়ৎদার সমিতির সভাপতি অজিৎ কুমার দাস বলেন, প্রথম দিনের তুলনায় গতকাল রবিবার ইলিশের মূল্য দুই থেকে তিন হাজার টাকা কমেছে। তিনি বলেন, শনিবার দিন ব্যাপী নগরীর পোর্ট রোড ইলিশ মোকামে প্রায় ৬শত মন ইলিশ আমদানী হয়েছিলো। যে কারনে এলসি সাইজের প্রতিমন ইলিশের মূল্য ছিলো ২৯ হাজার টাকা। মাঝারী সাইজের প্রতিমন ইলিশের মূল্য ছিলো ২৫ হাজার, আড়াইশ থেকে তিনশ গ্রামের প্রতিমন ১৫ হাজার এবং জাটকা প্রতিমন বিক্রি হয়েছে ১০ হাজার টাকায়।
তবে গতকাল ইলিশ মোকামে ইলিশের আমদানী বেশি হয়েছে। দিন শুধুমাত্র বরিশাল আড়তেই প্রায় এক হাজার মন ইলিশ আমদানী হয়েছে। যে কারনে শণিবারের থেকে মূল্যও অনেক কম ছিলো। এর মধ্যে এলসি সাইজের প্রতিমন ইলিশ গতকাল রবিবার বিক্রি হয়েছে ২৭ হাজার টাকায়, মাঝারী সাইজের (ভ্যালকা) প্রতিমন ইলিশ ২২ হাজার টাকা, আড়াই থেকে তিনশ গ্রাম ওজনের প্রতিমন ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১০ হাজার এবং ঝাটকা মনপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার টাকায়। এতে করে এলসি সাইজের প্রতিমন ইলিশে কমেছে ২ হাজার, মাঝারী সাইজে কমেছে ৩ হাজার টাকা, ডাবল এম সাইস প্রতিমনে কমেছে ৫ হাজার এবং জাটকা মনপ্রতি দুই হাজার টাকা মূল্য কমেছে।
জেলা মৎস আড়তদার সমিতির সভাপতি অজিত কুমার দাস জানান, আপাতত ইলিশের মূল্য বৃদ্ধির কোন সুযোগ নেই। কেননা দিনে দিনে ইলিশের আমদানী বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখনো অনেক ট্রলার সাগরে রয়েছে। যেগুলো এখন পর্যন্ত মাছ নিয়ে ঘাটে পৌছতে পারেনি। এসব মাছ ধরা ট্রলার ঘাটে পৌছলে ইলিশের মূল্য আরো কমে যাবে। তাছাড়া সামনে আমাবশ্যা। এসময় জেলেদের জালে ইলিশ বেশি ধরা পড়ে। তাই আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ইলিশ আমদানী বৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যও কমবে।
মৎস আড়ৎদার সমিতির এই নেতা জানান, এখন যে পরিমান ইলিশ ধরা পড়ছে তাতে ইলিশের মূল্য আরো কম হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু যে ইলিশ ধরা পড়ছে তা ঘাটে পৌছায় না। বেশিরভাগ ইলিশ ক্ষমতাসীনরা সাগর থেকেই দেশের বাইরে অবৈধ ভাবে পাঁচার করে দিচ্ছে। যে কারনে আমরা দাদন দাতারা লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়েও ভরা মৌসুমে ইলিশ পাচ্ছি না। আর সেই সাথে বরিশালের বাজারে ইলিশের মূল্যও এক প্রকার উর্ধ্বমুখী। ইলিশের মূল্য কমিয়ে আনতে পাঁচার রোধ করা খুবই জরুরী বলেও মন্তব্য করেন এই মৎস ব্যবসায়ী।