ইলিশের আমদানী বৃদ্ধিতে কমেছে মুল্য ॥ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বরফ কলে ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ হঠাৎ করেই নগরীসহ দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশ মোকাম গুলোতে বেড়েছে রূপালী ইলিশের আমদানী। কদিন আগে যেখানে ভরা মৌসুমেও ছিলো ইলিশের আকাল এখন সেখানে ইলিশের অভয়ারন্ন সৃষ্টি হয়েচ্ছে। গ্রেড থেকে বিভিন্ন সাইজের ইলিশ মিলছে মোকামগুলোতে। এতে করে বিগত কয়েক দিনের তুলনায় ইলিশের মুল্যও কমেছে অনেক। মোকামের পাইকারী ব্যবসায়ীরা মনে করছেন ইলিশের আমদানী আরো বৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যও কমবে। এদিকে ইলিশের আমদানী বৃদ্ধির সাথে সাথে পাইকার ও জেলেদের দুঃশ্চিন্তাও বেড়েছে দিগুন। ঘন ঘন লোড শেডিং বরফ কলে উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে। যার ফলে মাছ ভালো রাখতে ফ্রিজিং করতে গিয়ে এমন দুশ্চিন্তায় পড়ছেন তারা।
সরেজমিনে গতকাল সোমবার নগরীর অন্যতম পোর্ট রোডের ইলিশ মোকাম ঘুরে দেখাগেছে, বিগত দিনের তুলনায় বর্তমান সময়ে এই মোকামে ইলিশেল অভয়ারন্য বেড়েছে। অনেক দিন আগেই ইলিশ মৌসুম শুরু হলেও মোকামে ইলিশের খোঁজ ছিলো না। অল্পকিছু আমদানী থাকলেও তা ছিলো চাহিদার তুলনায় কয়েক গুন কম। এতে করে মোকামের শত শত শ্রমিককে ইলিশের অপেক্ষায় বেকার দিন কাটাতে হচ্ছিলো। তবে বর্তমান সময়ে ইলিশের আমদানী বাড়ার সাথে সাথে পোর্ট রোডের ইলিশ মোকামে বেড়েছে কর্মব্যস্ততাও। গত ৪/৫ দিন ধরেই সাগরে থাকা ফিশিং বোর্ডগুলো নগরীর মৎস্য অবতরন কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছে। সাগর থেকে আসা প্রত্যেকটি মাছ ধরা বোর্ডেই গ্রেড থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাইজের ইলিশ আসছে। তবে গ্রেড এবং মিডিয়াম সাইজের ইলিশের পরিমানই বেশি।
মৎস্য অবতরন কেন্দ্র ঘুরে জানাগেছে, আমদানী বৃদ্ধির ফলে ইলিশের পাইকারী মূল্য অনেকটা কম। গতকাল সোমবার গ্রেড (কেজি) সাইজের প্রতি মন ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৬০ হাজার টাকায়। এছাড়া ছয় থেকে নয়শ গ্রাম ওজনের এলসি সাইজের ইলিশ মন প্রতি বিক্রি হয়েছে ৩৩ থেকে ৩৪ হাজার টাকায়। চারশ থেকে ছয়শ গ্রামের ভেলকা ইলিশ প্রতি মন বিক্রি হয়েছে ১৯ থেকে ২৩ হাজার টাকা দরে। তাছাড়া চারশ গ্রামের গোটলা ইলিশ প্রতি মন বিক্রি হয়েছে সাড়ে ১৩ হাজার টাকায় মধ্যে। গত জুলাই’র শেষ দিকেও প্রকার ভেদে প্রত্যেক সাইজের ইলিশের মূল্য পাঁ থেকে ১০ হাজার টাকা বেশি দরে বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাইকাররা।
তারা বলছেন, যে পরিমান ইলিশ আসছে তা মৌসুমের বর্তমান সময়ের সাথে আশানুরুপ নয়। কেননা গত মৌসুমের এই সময়ে পোর্ট রোডের ইলিশ মোকাম ইলিশের অভয়ারন্য ছিলো। আগামী কয়েক দিনে ইলিশের আমদানী আরো বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন তারা।
মৎস অবতরন কেন্দ্রের ইজারাদার ও মৎস্য আড়ৎদার এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নীরব হোসেন টুটুল বলেন, গত বছরের এই সময়ে ৪ হাজার মন ইলিশের আমদানী ছিলো পোর্ট রোডের মৎস অবতরণ কেন্দ্রে। কিন্তু চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত এক থেকে দেড় হাজার মন ইলিশ আমদানী হয়েছে।
তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ইলিশ ধরা পড়ছে। তবে অবতরন কেন্দ্রে যে ইলিশ আসছে তা সবই সাগরের। নদীতে এখনো জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে না। নদীতে ইলিশ ধরা পড়লে আমদানী আরো বাড়বে উল্লেখ করে নিরব হোসেন টুটুল বলেন, এখন যেটুকু ইলিশ ধরা পড়ছে সেটাই আমাদের জন্য ভালো লক্ষন। কেননা কদিন আগেতো তাও ধরা পড়েনি। তাছাড়া ইলিশের উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে বলেও আশাব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়ৎতদাররা ইলিশ নিয়ে জানিয়েছেন তাদের আশংকার কথা। তারা বলেন, ইলিশ বাড়ার সাথে সাথে বরফ এর চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু এখনই যে পরিমান বরফ এর প্রয়োজন হচ্ছে তাই ঠিক ভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। কেননা এক সময় ২০টির মত বরফকল থাকলেও তা কমে দাড়িয়েছে মাত্র ৫টিতে। কল মালিকরা ব্যবসা মন্দা দেখে অন্য পেশায় ঝুকছে। তাছাড়া যে কটি বরফ কল রয়েছে তাতে চেষ্টা করেও পর্যাপ্ত বরফ উৎপাদনের মাধ্যমে চাহিদা পুরন করতে পারছে না। কেননা বিদ্যুৎ এর অসহনিয় এবং ঘন ঘন লোড শেডিং এর কারনে কল গুলোতে বরফ উৎপাদনে বিঘœ ঘটছে বলেও জানিয়েছেন তারা।