ইন্দো-বাংলা থেকে বিপুল পরিমান নিষিদ্ধ ঔষধ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর প্রতিষ্ঠিত ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড থেকে বিপুল পরিমান নিষিদ্ধ ঘোষিত ওষুধ উদ্ধার করেছে র‌্যাব। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় র‌্যাব-৮ এর সিপিএসসি কোম্পানির উপ-অধিনায়ক এএসপি নিজাম উদ্দিন’র নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে উদ্ধারকৃত ব্যাথা নিরাময়কারী সাড়ে ৭ হাজার প্যাকেটের বেশি ডাইক্লোফেনাক ১৫০ এমজি নিষিদ্ধ ট্যাবলেট জব্দ করেছে ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষ।
বরিশাল র‌্যাব-৮ এর সিপিএসসি কোম্পানির উপ-অধিনায়ক এএসপি নিজাম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রতি ওষুধ প্রশাসন কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে কিছু সংখক ওষুধ নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করা ওষুদের তালিকা র‌্যাব’র বরিশাল দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানাতে পারেন নগরীর বিএম কলেজ রোড ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে বিপুল পরিমান নিষিদ্ধ ওষুধ বাজার জাতের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি থেকে ব্যবহার নিষিদ্ধ ব্যাথা নিরাময়কারী ডাইক্লোফেনাক গ্রুপের ৭ হাজার ৬৪১ প্যাকেট ইন্দোফেনাক ট্যাবলেট উদ্ধার করেছেন। যার প্রতিটি প্যাকেটে ১০ পাতায় ১০০ পিস করে ট্যাবলেট রয়েছে। সে অনুযায়ী জব্দ করা ট্যাবলেটের সংখ্যা ৭ লক্ষ ৬৪ হাজার ১০০পিস।
উপ-অধিনায়ক নিজাম উদ্দিন আরো জানান, উদ্ধারের পর বিষয়টি তারা ওষুধ প্রশাসনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে তাদের কাছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ওষুধ গুলো তুলে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তারাই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
জানতে চাইলে অভিযানে উপস্থিত থাকা ওষুধ প্রশাসন বরিশাল কার্যালয়ের ওষুধ পরিদর্শক বিথি রানী মন্ডল জানান, র‌্যাবের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন ইন্দো বাংলা থেকে কিছু পরিমান নিষিদ্ধ ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে র‌্যাবের কাছে থাকা কাগজের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ ঐ ওষুধ গুলো জব্দ করেছেন।
তিনি আরো বলেন, আপাতত এ বিষয়ে তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। আগে ওষুধের কাগজপত্র যাচাই বাছাই করা হবে। পরবর্তীতে যদি অবৈধ প্রমানিত হয় তাহলে এ বিষয়ে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান ওষুধ পরিদর্শক বিথি রানী মন্ডল।
এদিকে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এফ.এম আনোয়ারুল হক সাব্বির বলেন, আমাদের কোম্পানিতে ১২০ প্রকারের ওষুধ রয়েছে। তার মধ্যে থেকে শুধুমাত্র ডাইক্লোফেনাক গ্রুপের ইন্দোফেনাক ট্যাবলেট জব্দ করেছে।
তিনি বলেন, যে ওষুধ জব্দ করা হয়েছে তা আমাদের জানা নেই। ওষুধ প্রশাসন থেকে এ বিষয়ে আমাদের কোন নোটিশ দেয়নি। যে কারনে তারা ঐ ওষুধগুলো উৎপাদন করেছেন। এজন্য ওষুধ প্রশাসন বরিশাল কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের দায়ি করেন কোম্পানির এই কর্মকর্তা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওষুধ প্রশাসন বরিশাল এর ওষুধ পরিদর্শক বিথি রানী মন্ডল বলেন, এ বিষয়ে কাগপত্র না দেখে কিছু বলা সম্ভব নয়।