ইনসেপটার ডিপোতে ডাকাতি জড়িত ডাকাত নেতার জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীতে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালসের আঞ্চলিক ডিপোতে ডাকাতি করার ঘটনা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ডাকাত দলটির নেতা।
গতকাল রোববার বরিশাল মুখ্য মহানগর বিচারবিভাগীয় হাকিমের আদালতে ওই জবান দিয়েছে ডাকাত নেতা শেখ শহীদুল ইসলাম সেন্টু। জবানবন্দি গ্রহণ করেন ভারপ্রাপ্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. রফিকুল ইসলাম।
শনিবার গভীর রাতে ডাকাত নেতা সেন্টুকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে কোতয়ালী মডেল থানার এসআই সাইদুল হক। সেন্টু নগরীর হাসপাতাল রোডের মৃত. হাবিবুর রহমানের ছেলে। বাবার মৃত্যুর পর সে হাসপাতাল রোডের বাড়ি বিক্রি করে কাশীপুর ফিসারী রোড এলাকায় বাড়ি করে। ওই বাড়িও বিক্রি করে বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বাস করছে সে।
এসআই সাইদুল জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ডাকাতিতে সেন্টু জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে তার অবস্থান ও সকল তথ্য সংগ্রহের জন্য সোর্স নিয়োজিত করা হয়। সোর্সের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যর ভিত্তিতে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আরসি কলেজের পেছনে শ্বশুর বাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআই সাইদুল আরো জানান, গত ৫ মার্চ দিবাগত মধ্যরাতে নগরীর সিএ্যান্ডবি সড়কে ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালসের ডিপোতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতির ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা করা হয়। মামলার আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। বিচারকের কাছে ডাকাতি করার কথা স্বীকার করে সেন্টু স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার এসআই সাইদুল হক জানান, শহিদুল হক পিন্টু পেশাদার ডাকাত। সে ডাকাতি মামলায় ১১ বছর ৬ মাস কারাভোগ করে এক বছর আগে মুক্তি পেয়েছে। ঝালকাঠি কারাগারে কারাভোগের সময় ইনসেপটায় ডাকাতিতে জড়িতদের সাথে তার পরিচয় হয়। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তারা আবার ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়ে।
তারা ইনসেপটায় ডাকাতির পরিকল্পনা করে সেন্টু খুলনার অপর আট সদস্যকে খবর দেয়। পরে কাশিপুর বাজার এলাকার একটি বাসা ভাড়া নেয়। ডাকাতির ১৫ দিন পূর্বে সেই বাসায় উঠে। সেখান থেকে তারা নগরীর কলেজ এভিনিউ এলাকার সিএন্ডবি সড়কের প্রবেশ মুখে ইনসেপটার ডিপোতে নজরদারী শুরু করে। পরে তারা ডাকাতি করে।
ডাকাতি সম্পন্নের পর সকলে চট্টগ্রাম পালিয়ে যায়।
এসআই সাইদুল জানান, ডিপো থেকে ডাকাতরা ৩২ লাখ টাকা লুট করার কথা স্বীকার করেছে। সেই টাকা ডাকাত দলের একজনের কাছে জমা রাখা হয়েছে। খরচের জন্য ৫০ হাজার টাকা রেখে দেয় সেন্টু।
চট্টগ্রাম থেকে সে ঢাকায় অবস্থান নেয় এবং শনিবার মেহেন্দিগঞ্জের শ্বশুর বাড়িতে আসে। সেন্টু অন্যান্য ডাকাত সদস্যদের নাম পরিচয় দিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও এসআই সাইদুল হক জানিয়েছেন।