ইউপি নির্বাচন মহাজোট-জোট অস্তিত্বহীন

রুবেল খান ॥ পৌরসভা নির্বাচনের মত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও বরিশাল অঞ্চলে জোটের অস্তিত্ব নেই। তবে পৌর নির্বাচনে জোট-মহাজোটের পৃথক প্রার্থী না থাকলেও ইউনিয়ন নির্বাচনে হয়েছে ব্যতিক্রম। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে শরিক দলের পৃথক পৃথক প্রার্থী রয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উৎসবমুখর এবং নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমন ব্যতিক্রম পন্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জানাগেছে, প্রথম বারের মত স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২২ মার্চ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় বরিশাল অঞ্চলেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তবে ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে স্ব স্ব রাজনৈতিক দলগুলো।
এদিকে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দক্ষিণাঞ্চলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট কিংবা বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জোটের শরিক যে দলই হোক তাদের ভিন্ন ভিন্ন প্রার্থী ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তা নির্বাচন কমিশনে দাখিল করেছেন। এমনকি জমাকৃত মনোনয়নপত্র বাছাই সম্পন্ন হয়েছে।
তবে প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী ঠিক করলেও তাদের নেতৃত্বাধীন শরিক দলের কোন প্রার্থী নেই। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের ভাষ্য মতে শরিক দল থেকে কেউ প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ না করায় বিএনপি’র বাইরে অন্য দল থেকে কাউকে প্রার্থী করা হয়নি।
তবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহা জোটের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। আওয়ামী লীগের অন্যতম শরিক দল আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টি (জেপি)। এই দলটির কার্যক্রম বেশিরভাগ পিরোজপুর জেলা তথা ভান্ডারিয়া উপজেলা কেন্দ্রিক হয়ে থাকছে। অন্যান্য জেলা উপজেলায় জেপি’র কমিটি থাকলেও তাদের কার্যক্রম অনেকটা নেই বললেই চলে।
অপরদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরিক দল হওয়া সত্ত্বেও ভান্ডারিয়া উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে জেপি’র সাইকেল প্রতীকের পৃথক প্রার্থী রয়েছেন। জেপি’র আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নিজ বাড়ি ভান্ডারিয়া। এই উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচটি ইউনিয়নের প্রতিটিতেই জেপি’র সাইকেল প্রতীকের প্রার্থী রয়েছেন। ঐ পাঁচটি ইউনিয়নেই আবার দলটির নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগেরও ৫ জন প্রার্থী রয়েছেন।
একই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলায়। এই উপজেলাটি আওয়ামী লীগের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেনন’র নিজ এলাকা। উপজেলাটিতে মোট ৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যে কারণে ৬টিতেই ওয়ার্কার্স পার্টির হাতুড়ি প্রতীকের পৃথক পৃথক প্রার্থী দেয়া হয়েছে। শুধু ওয়ার্কার্স পার্টিই নয়, এই ইউনিয়ন ৬টিতে নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগও পৃথক পৃথক প্রার্থী দিয়েছেন। যে কারণে ভোট যুদ্ধে শরিক দলের প্রার্থীরা অনেকটা দো’টানায় পড়েছেন। আর এ দিক থেকে বিএনপি মনোনিত প্রার্থীরা অনেকটা ক্লিন ইমেজে রয়েছেন।
এদিকে বর্তমান জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি কিন্তু সংসদের বিরোধী দল হওয়া সত্বেও গেলো পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দেননি তারা। অথচ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কিছু কিছু ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী দেয়া হয়েছে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের অন্য কোন জেলা কিংবা উপজেলা না হলেও বাকেরগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় পার্টির নির্বাচনী হাক ডাক অনেকটা বেশি। অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এখানকার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টিতে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী রয়েছে। এমনকি পার্টির মহাসচবি রুহুল আমিন হাওলাদারের নিজ এলাকা হওয়ায় ৮টি ইউনিয়নেই জাতীয় পার্টির জয় নিশ্চিত বলে দাবী করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শরিক দলের পৃথক পৃথক প্রার্থী থাকার বিষয়ে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস এমপি’র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু’র জাতীয় পার্টির ভান্ডারিয়া উপজেলার সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান টুলু বলেন, আমরা শুধুমাত্র জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে জোট বদ্ধ থাকি। যে কারণে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে জোটের কোন প্রভাব থাকছে না। সেই স্থান থেকেই আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জেপি থেকেও প্রার্থী দেয়া হয়েছে।
ওয়ার্কার্স পার্টি বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. টিপু সুলতান-এমপি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন জোটগত নির্বাচন নয়। সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। আশা করি উৎসবমুখর পরিবেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হবে।