ইউপি নির্বাচনে হানাহানি বাড়ছে

জুবায়ের হোসেন ॥ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে হানাহানি বেড়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু না সময়টুকু প্রতিপক্ষকে ঘায়েল ও প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা হানাহানিতে জড়িয়ে পড়েছে। গত ৮ দিনে বিভাগের বিভিন্ন ইউপিতে সংঘর্ষে বিভিন্ন দলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতর তালিকায় বেশ কয়েকজন প্রার্থীও রয়েছেন।
সূত্রমতে, দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মতো ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন’র মনোনীত প্রার্থীরা ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেয়া হয়েছে। বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় মোট ৩৫৭ ইউপির মধ্যে ২৪৭ টিতে প্রথম ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী নানা কৌশলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হেয় প্রতিপন্ন ও ঘায়েল করতে সংঘর্ষ হচ্ছে। প্রথম দিকে প্রভাবশালীরা নানাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও কর্মীদের নির্বাচনী কর্মকান্ড থেকে বিরত বা সরে যাওয়ার জন্য কৌশলে হুমকিসহ হানা দিয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পাথরঘাটার চরদুয়ানি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত নেতার বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সমাবেশ করে বুধবার তারা হরতালের ডাক দেয়। ২২ ফেব্রুয়ারি মঠবাড়িয়ার টিকিকাটা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হোসাইন মোশাররফ সাকুকে অপহরণের অভিযোগ উঠে। অভিযোগ রয়েছে সরকার দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রিপন জমাদ্দারের সমর্থকরা অপহরণ করে। একই দিনে কাঠালিয়ার আওরাবুনিয়ার চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থক ছাত্রলীগ নেতা সিব্বিরকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষরা। ২৩ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর বাউফলের একটি ইউনিয়নে আ’লীগ ও বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও সহ-সভাপতি সহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। যাদের মধ্যে তিনজন মুমূর্ষু অবস্থায় শেবাচিমে ভর্তি রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ভোলায় উত্তর দীঘলদী ইউনিয়নের রাড়িরহাট ও কমড় উদ্দিন বাজারে আ’লীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি মেহেন্দিগঞ্জের ভাষাণচর ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের আ’লীগের মনোনীত মেম্বার প্রার্থী মোঃ কবির হোসেনকে (ছবি খাঁ) হাতুড়ি পেটা করেছে বিদ্রোহী প্রার্থী সাহাবুদ্দিন ফকিরের সমর্থকরা। সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য ও বর্তমান ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি আহত ছবি খাঁ বর্তমানে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মনোনয়নপত্র বাছাই পর্বে অংশ নিতে গেলে বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চুন্নুর সামনে হামলার ঘটনা ঘটে। আহতের মেজ ভাই জাহাঙ্গির হোসেন জানান, সাহাবুদ্দিন ফকির ৫ বছর পূর্বে বিএনপি থেকে যোগদান করে আ’লীগে। নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত সাহাবুদ্দিন টাকার জোড়ে ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়। এবার তিনি প্রথমে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নিজেকে জাহির করে ব্যর্থ হয়ে মেম্বার প্রার্থী হয়। সেখানেও দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ সাহাবুদ্দিন ফকির, সিদ্দিক, হুমায়ুন ফকির, জসিম ফকির, কামাল ফকির, আরিফ ফকির, সবুজ ফকির সহ ২০/২২ জন তার ভাইয়ের উপর হামলা করে। তাদের বাধা দিতে গিয়ে চেয়ারম্যানও লাঞ্ছিত হয় বলে জানান তিনি।