ইউপি নির্বাচনে জেলার ৪৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ইউপি নির্বাচনের জমা দেয়া ৪৮ প্রার্থীর মনোনয়পত্র বাতিল করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বাছাইয়ের শেষ দিনে তাদের মনোনয়পত্র বাতিল করা হয় বলে জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে। বাতিল হওয়াদের মধ্যে ৭ জন্য চেয়ারম্যান সংরক্ষিত সদস্য পদের ৯ ও সাধারণ সদস্য পদের ৩২ প্রার্থী রয়েছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র ৪, বিএনপির ২ ও চরমেনাই পীরের দলের এক প্রার্থী রয়েছে। তবে তাদের নামসহ বিস্তারিত দিতে পারেনি নির্বাচন অফিস।
জেলায় ইউপি নির্বাচনে ৪ হাজার ২১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল। প্রথমধাপে জেলার ১০টি উপজেলার ৮৭ টির মধ্যে ৭৪ টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হচ্ছে।
দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মতো ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন মনোনীত প্রার্থীরা ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। জেলায় চেয়ারম্যান পদে জমা দেয়া ৩৮০ জন প্রার্থী থেকে সংখ্যা এখন হয়েছে ৩৭৩ জন। সংরক্ষিত সদস্য পদের ৭৯৮ থেকে কমে এখন রয়েছে ৭৮৯ প্রার্থী। সাধারণ সদস্য পদের বর্তমান প্রার্থীর সংখ্যা হলো- ২ হাজার ৮১১ জন। জমা দিয়েছিল ২ হাজার ৮৪৩ জন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে, জেলায় সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ, বানারীপাড়ায় ৮টি, উজিরপুরে ৭টি, আগৈলঝাড়ায় ৫টি, গৌরনদীতে ৭টি, বাবুগঞ্জে ৬টি, মেহেন্দীগঞ্জে ৮টি, হিজলায় ৪টি, মুলাদীতে ৬টি এবং বাকেরগঞ্জের ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রথম ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গৌরনদী উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৫টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাঁদশী ইউনিয়নে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ জিয়াউর রহমান ও সাধারণ সদস্য পদের ২টি মনোনয়নপত্র এবং প্রার্থীর স্বাক্ষর না থাকায় শরিকল ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা (৪,৫,৬) নং আসনের পদপ্রার্থী মোসাৎ মোর্শেদা, ঋণ খেলাপীর দায়ে ২নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থী আবদুর রহমান বিশ^াসের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
বাবুগঞ্জ প্রতিবেদক জানান, বাবুগঞ্জের দেহেরগতি ইউনিয়নের বিএনপি দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী কাজী নজরুল ইসলাম মিরনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। কৃষি ব্যাংকের মৎস্য ঋণের বিপরীতে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা খেলাপি হওয়ার অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এদিকে উপজেলার ৬ ইউনিয়নে ঋণখেলাপি, বয়স কম ও ভুল ট্রেজারি চালানে জামানতের টাকা প্রদানের কারণে আরো ৭ জন ইউপি সদস্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। গতকাল বুধবার বাছাই শেষে উপজেলা রিটার্নিং অফিসার আবদুল হাই আল হাদী, মোঃ খোর্শেদ আলম ও মোঃ কামাল হোসেন অভিযুক্ত ৮ প্রার্থী বাদে দাখিলকৃত সব মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেন। বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন থেকে ২৬ জন দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী, ১৫ জন বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৬২ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদে মোট ২২৮ জন প্রার্থী বৈধ ঘোষিত হন। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষিত হয় তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, আওয়ামী লীগের এস.এম তারিকুল ইসলাম তারেক (জাহাঙ্গীর নগর), নুরে আলম বেপারি (কেদারপুর), কাজী জসিম উদ্দিন শুভ (দেহেরগতি), মোঃ মকবুল হোসেন (চাঁদপাশা), মৃধা আকতারুজ্জামান মিলন (রহমতপুর), জয়নাল আবেদিন হাওলাদার (মাধবপাশা)। বিএনপি থেকে কামরুল আহসান হিমু (জাহাঙ্গীর নগর), অহিদুল ইসলাম খান (মাধবপাশা), মোঃ মনিরুজ্জামান মিল্টন (কেদারপুর), আলমগীর হোসেন স্বপন (চাঁদপাশা), ও মোঃ জাকির হোসেন হাওলাদার (রহমতপুর)। ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে দেহেরগতি ইউপিতে মোঃ মশিউর রহমান, রহমতপুরে শাহিন হোসেন, চাঁদপাশায় আনিসুর রহমান সবুজ, কেদারপুর আতাউর রহমান বিশ্বাস, মাধবপাশায় এ্যাড. নজরুল ইসলাম মল্লিক ও জাহাঙ্গীর নগরে মোঃ কামাল হোসেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র হিসেবে বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, রহমতপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল সিকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন আকন, উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি কাজী মহিদুল ইসলাম লিটন, কুয়েত-বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান খান মোশারফ প্রমুখ।