ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চরকাউয়ায় পোষ্টার আছে প্রার্থী নাই

জুবায়ের হোসেন ॥ সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পোষ্টার ব্যানারের মাধ্যমে প্রচারনা চললেও হদিস নেই প্রার্থীদের। ইউপির প্রতিটি ওয়ার্ড এবং রাস্তা-ঘাট প্রার্থীদের পোষ্টারে মোড়ানো থাকলেও দু-একজন বাদে বাকি চেয়ারম্যান প্রার্থীরা রয়েছেন আত্মগোপনে। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের মাঠ গরম করে রেখেছেন মেম্বর প্রার্থীরা। তাদের প্রচারনায় এক প্রকার চরকাউয়া ইউপি’র নির্বাচন জমে উঠেছে।
ভোটাররা জানিয়েছে, চেয়ারম্যান পদে শুধুমাত্র সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সমর্থকদের প্রচারনায় দেখা যাচ্ছে। অথচ জাতীয় পার্টি, দুই স্বতন্ত্র ও বিএনপি প্রার্থীদের হাজারো পোষ্টার চোখে পড়লেও মিলছে না তাদের দেখা।
ভোটের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ইউনিয়নের একাধিক ভোটার বলেন, ক্ষমতাসীন বাদে অন্যারা এমনিতেই মাঠে স্থান পাচ্ছে না। তাই ভোট কেমন হবে বা ফলাফল কি হবে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন ভোটাররা। তা ভোটারদের চোখের আড়ালে থেকেও বিজয়ী হওয়ার আশা বিএনপি, জাতীয় পার্টি সহ সতন্ত্র প্রার্থীদের।
সূত্রমতে ৭ নং চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদে আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ প্রার্থী। আ’লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন সহ দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী। আ’লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মনিরুল ইসলাম ছবি, বিএনপি’র রিয়াজুল ইসলাম সবুজ, জাপা’র জয়নুল আবেদীন, ইসলামী আন্দোলনের আহম্মেদ আলী তালুকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস মার্কায় মোঃ হাদিসুর রহমান বিশ^াস (পান্না) ও অটোরিক্সা মার্কায় শাহজাহান ভূইয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাছাড়া ইউপির ৯ ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী রয়েছেন আরো প্রায় ৩০ জন।
ইউপির নির্বাচনী পরিস্থিতি জানতে পর্যবেক্ষনে গতকাল শুক্রবার সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। এসময় ভোটারদের কাছ থেকে জানা যায় নির্বাচন নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীর অবস্থান এবং জনপ্রিয়তার নানা কথা। তাছাড়া লক্ষ করা গেছে, মনোনয়ন পাওয়ার আগ থেকেই ইউপির পরিবেশে লেগে আছে উৎসবের আমেজ। ঐ সময়ে প্রচারণা হাট বাজার পর্যন্ত সিমাবন্ধ থাকলে তা এখন ছাপিয়ে গেছে গ্রামের প্রতিটি অলিগলি এমনকি খাবার টেবিল পর্যন্ত। ভোটারদের আলোচনায় প্রার্থীদের নাম তর্জমা হলেও নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছাড়া অন্যদের দেখা মিলছে না। তবে তাদের প্রতীক এবং ছবি সম্বলিত ব্যানার পোষ্টারে ছেয়ে গেছে গোটা ইউনিয়ন।
প্রার্থীদের অদৃশ্য থাকার কারন খোঁজতে গিয়ে জানাগেছে, বিএনপি মনোনীত রিয়াজুল ইসলাম মুরুজ একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী। গ্রেফতার এড়াতে নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এমনকি বন্ধ রেখেছেন তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরও। তবে প্রচার কাজ চালাচ্ছেন সমর্থকদের দিয়ে।
স্বতন্ত্র, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা কেউ ঘরে বসে কেউবা নিজের কর্মস্থলে বসে মুঠোফোনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন সমর্থকদের সাথে। দু-একটি নির্বাচনী কার্যালয় খুলে ভাড়া করা লোক দিয়ে চালাচ্ছেন প্রচারণা।
তবে প্রার্থীদের দাবী ভিন্ন। তাদের অভিযোগ ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর সমর্থকদের হুমকি ধামকি এবং হয়রানির কারনে প্রচারনা চালাতে পারছেন না তারা। নির্বাচনী মাঠ দখলে নিতে তাদের ওপরে পরোক্ষভাবে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে ক্ষমতাসিন দলের প্রার্থী। সুষ্ঠ ভাবে ভোট হলে আত্মগোপনে থেকে প্রচারণাই জলের লক্ষে পৌছে দিবে দাবী বিএনপি, জাতীয় পাটিং সহ অন্যান্য দলীয় এবং সতন্ত্র প্রার্থীদের।
ক্ষমতাসীন দল আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী মনিরুল ইসলাম ছবি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যারা অভিযোগ করছেন তাদের ঘনিষ্ঠজনরাই আমার হয়ে প্রচারনা চালাচ্ছেন। তাছাড়া বিএনপি’র প্রার্থী ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী তাই তার পালিয়ে থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। চরকাউয়া ইউনিয়নে সুষ্ঠ ও শান্তি পূর্ণ ভাবেই ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। আর এই ভোটে বিজয় শতভাগ নিশ্চিত বলেও আশাব্যক্ত করেন তিনি।