ইউএনও’র বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আগেলঝাড়ার সাবেক ও বর্তমানে বরগুনা সদরের ইউএনও’র বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকা মানহানির অভিযোগে করা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল রোববার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বাদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ ওবায়দুল্লাহ সাজু মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন। অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট অমিত কুমার দে ওই আবেদন গ্রহন করে মামলা খারিজ করার আদেশ দিয়েছেন। আদালত সুত্র জানায়, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মসুচী উল্লেখ করে ছাপানো আমন্ত্রন পত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতি’র অভিযোগ এনে গত ৭ জুন ওই মামলা করেছিলেন তিনি। চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই মামলা করার পর ইউএনও গাজী তারিক সালমনকে সমন দেয়া হয়। গত ১৭ জুলাই মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিনের প্রার্থনা করেন ইউএনও। চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইন তার জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করেন। প্রায় দুই ঘন্টা পর জামিন দেয়া হয়। এ নিয়ে দেশব্যাপি প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

গতকাল ধার্য্য দিনে বাদী ভুল বুঝে মামলা করা হয়েছে স্বীকার করে প্রত্যাহার করার আবেদন দাখিল করেন। ইউএনও গাজী তারিক সালমন’র অনুপস্থিতিতে খারিজ’র আদেশ দিয়েছে আদালত।

এ বিষয়ে মামলার বাদি অ্যাডভোকেট সৈয়দ ওবায়েদ উল¬াহ সাজু বলেন, আমি ভুল বুঝে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলাম। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। তাই আওয়ামী লীগের জেষ্ঠ্য নেতৃবৃন্দ এবং কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়।

ইউএনও’র মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী মোখলেছুর রহমান বলেন, এটি একটি হয়রানিমুলক মামলা ছিলো। তাই বাদী নিজের ভুল বুঝতে পেরে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তা আমলে নিয়ে মামল খারিজ’র আদেশ দেন।

এ বিষয়ে ইউএনও গাজী তারিক সালমন’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে রাজি হননি। তবে জানিয়েছেন সময় হলে এ নিয়ে গনমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবেন।