আল কায়দার সদস্যর সন্ত্রাসী কর্মে অতিষ্ট পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ঘর পুড়িয়ে দেয়ার পর এবার ঘরের মালিককে হত্যার পরিকল্পনা আটছে আল কায়দার সদস্য সাজু ওরফে মঞ্জু বেগম ও তার সহযোগিরা। ঘর পোড়ানোর ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করায় গভির রাতে বাদীর ছেলে ফারুক’র উপর বিক্ষিপ্ত হামলার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। গত ১৭ আগস্ট রাতে নগরীর পলাশপুর এলাকার গুচ্ছ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি জেনেও রহস্যজনক কারনে চুপষে আছেন কাউনিয়া থানা পুলিশ।
মামলার বাদী মনোয়ারা বেগমের ছেলে ফারুক জানান, তার ফুফু সাজু ওরফে মঞ্জু বেগম জন্মের পর থেকে ভারতের কাশ্মিরে বসবাস করে আসছিলো। সাজু বেগম আল কায়দা’র সদস্য হিসেবে কাজ করত। এর পাশাপাশি তার মেয়ে শিল্পি বেগম ভারত এবং বাংলাদেশে মাদক চোরা কারবারী চক্রের সদস্য ছিলো।
ফারুক আরো জানায়, বেশ কয়েক বছর পূর্বে তার বাবা হানিফ সরদার অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসময় তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান। তখন তার ফুফু সাজু বেগম মঞ্জু, ফুফাত বোন শিল্পি এবং সিমা সহ অন্যান্যরা মিলে তার বাবার সাথে প্রতারনা করে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাত করে। যে কারনে চিকিৎসা না করিয়েই মুমূর্ষু অবস্থায় দেশে ফিরে আসতে হয় তার বাবাকে। এমনকি দেশে ফেরার ১০ দিনের মাথায় মৃত্যু হয় তার বাবা হানিফ সরদারের।
ফারুক আরো জানায়, তাদের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে কিছুদিন পূর্বে তারা বাড়ি নির্মান কাজ শুরু করে। ঠিক সেই মুহূর্তে তাদের ফুফু সাজু, ফুফাত বোন শিল্পি এবং সিমা পলাশপুর গুচ্ছ গ্রাম এলাকায় হাজির হয়ে পৈতৃক সম্পত্তি তাদের বলে দাবী করে। এমনকি জমি দখলের জন্য একটি দলিল নিয়ে আসে। প্রথম পর্যায়ে কাউনিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় ঘর নির্মান কাজ বন্ধ করে দেয় আল কায়দা সদস্য মঞ্জু বেগম এবং তার ভাড়াটিয়া বাহিনী। এরপর গত ৫ আগস্ট রাতে ফারুকের সৎ এবং পালিত বোন রুজি আক্তার বোন জামাতা চিহ্নিত ফেন্সি বিক্রেতা শাহীন হাওলাদারকে নিয়ে নির্মাণাধিক ঘরে আগুন দেয় ফুফু সাজু ওরফে মঞ্জু বেগম ও তার সহযোগিরা।
এই ঘটনায় গত ১৭ আগস্ট বরিশাল আদালতে মঞ্জু বেগমকে আল কায়দার সদস্য চিহ্নিত করে একটি মামলা দায়ের করেন ফারুকের মা আনোয়ারা বেগম। আদালত থেকে মামলাটি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এদিকে মামলার বিষয়টি প্রকাশ পেলে বেপরোয়া হয়ে যায় আসামীরা। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৭ আগস্ট রাতে বাদির ছেলে ফারুক ঘরে ফেরার পথে তার উপর বিক্ষিপ্ত হামলা চালায়। এসময় তার গায়ে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। বিষয়টি থানায় জানানোর পরেও অদৃশ্য কারনে নিরাবতা পালন করছে থানা পুলিশ। এমনটি অভিযোগ করেছেন বাদী এবং তার ছেলেরা। তারা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে বলেও দাবী করেছেন।