আল্লাহ্ মেঘ দে পানি দে………

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আচমকা মেঘ ও দুই এক পশলা বৃষ্টি দাবাতে পারছেনা প্রচন্ড তাপদাহ। রোদের প্রখরতায় অসহ্য গরম বাড়ছে তীব্র গতিতে। বিগত সপ্তাহের তাপদাহ দু একটি কালবৈশাখীতে কিছুটা নিয়ন্ত্রনে এলেও গত ২/৩ দিনে তা ফের বেড়েছে রেকর্ড পরিমান। তাপমাত্রার গড়ে এবছরের তীব্রতা স্মরণীয় বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এমনটি কিছুটা ঋতুর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও তা এতটা হওয়ার কথা নয় বলে জানিয়েছে তারা। এটিকে বড় ধরনের কালশৈাখীর আশংকা হিসেবে দেখে তাপদাহ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়ার এই নিষ্ঠুরতায় নিদারুন কষ্টে দিন কাটাচ্ছে নগরীর বাসিন্দারা। বিশেষ করে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত প্রায়। তারা প্রতিনিয়ত বৃষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাচ্ছে। অন্যদিকে অসহ্য গরম থেকে স্বস্তি পেতে অসাবধনতাবশত যেমন তেমন পানীয় গ্রহণ করে প্রতিদিন বাড়ছে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত বিভিন্ন বয়সি রোগির সংখ্যা। এক্ষেত্রে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে নানাবিধ রোগে। শুধু পানিবাহিত রোগই নয় প্রচন্ড রোদের তাপে প্রতিদিনই হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক মোঃ পলাশ চৌধুরি জানান, এ বছরের গড় তাপমাত্রা স্মরণ কালের সর্বোচ্চ। বরিশালে এবছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কালবৈশাখীর পরে তিব্রতা কমলেও গত ৫ দিনে তা বেড়েছে আগের মতই। গত ৮ মে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি এবং সর্বনি¤œ ২৩.৪ ডিগি সেলসিয়াস, ৯ মে সর্বোচ্চ ৩৪ এবং সর্বনি¤œ ২৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১০ মে সর্বোচ্চ ৩৫.৮ এবং সর্বনি¤œ ২৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১১ মে সর্বোচ্চ ৩৭.১ এবং সর্বনি¤œ ২৭.৭ এবং গতকাল সর্বোচ্চ ৩৭.২ এবং সর্বনি¤œ ২৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কালবৈশাখীর পূর্ব লক্ষণ হিসেবে এই তীব্র গরম বলে উচ্চ পর্যবেক্ষক পলাশ চৌধুরি আরও জানান, কালবৈশাখীর লক্ষণ হিসেবের গরম তারা পূর্বেও দেখেছেন তবে তার তীব্রতা এবছরই সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে এমন গরম পাল্টে দিয়েছে নগরীর জীবনযাত্রা। সূর্যাস্তের পর থেকে তাপ বৃদ্ধি পেয়ে তা ভর দুপুরে নগরীকে দেয় মরুভূমির সাদৃশ্যতা। রোদের তাপ ও অসহ্য গরমে দুপুর নামতেই ফাঁকা হয়ে যায় নগরীর রাস্তা ঘাট। ধর্ণাঢ্যরা শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের মাধ্যমে স্বস্তিতে থাকলেও বেহাল দশায় পরতে হয় খেটে খাওয়াদের। সমান সমস্যায় পরতে হয় নগরীর বিভিন্ন স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীদের। প্রচন্ড গরমে তাই একটু স্বস্তির আশায় গাছের ছায়ায় বা কোন শীতল স্থানে জমে বিশ্রাম নিতে আসাদের ভীড়। এই গরমে তৃষ্ণা মেটাতে সল্পমূল্যে প্রাপ্ত রাস্তার পাশের বিভিন্ন ধরনের শরবত বিক্রেতাদের দোকানে দেখা গেছে পথচারিদের ভীড়। এছাড়া মৌসুমি ফল পানি তাল, ডাব সহ পানি জাতীয় খাবারগুলো অস্বাস্থ্যকর ভাবেই গ্রহণ করছে পথচারী সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এ কারণে পানিবাহীত রোগ যেমন ডায়রিয়া, কলেরা, পেটে পিরা ইত্যাদি রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যাদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সহ চিকিৎসকদের। শুধু পানিবাহিতই নয়, প্রচন্ড তাপে সব বয়সি বিশেষ করে বয়স্করা পায়সই আক্রান্ত হচ্ছে হিটস্ট্রোক ও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগে। প্রচন্ড এই গরমে অতিষ্ঠ নগরবাসী এখন মুক্তির জন্য বৃষ্টির বিকল্প নেই বলে জানিয়েছে। তা না হলে ধনীদের অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলেও শ্রমজীবীদের অবস্থা করুন হবে বলেও জানিয়েছে তারা।
এমন গরমে করনীয় বিষয়ে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, পানিবাহিত রোগের বিষয়ে সচেতনতাই মূল বিষয়। ডায়রিয়া ,কলেরা যেহেতু দূষিত পানির মাধ্যমে ছড়ায় তাই সব সময় বিষুদ্ধ পানি গ্রহণ করা উচিৎ বলেন তিনি। এছাড়া বুঝে শুনে খাবার গ্রহণের বিষয়েও সচেতন হওয়া ও যথাসম্ভব পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দেন তিনি। এর পরেও যদি কেউ আক্রান্ত হয় প্রাথমিক ভাবে বেশি বেশি পানি জাতীয় খাবার গ্রহণ ও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ এর কথাও জানান ডা. দেলোয়ার হোসেন।
একই বিষয়ে শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. ভাস্কর সাহা বলেন, প্রচন্ড গরমে হিটস্ট্রোক হওয়া একটি স্বাভাবিক ঘটনা । আক্রান্ত ব্যক্তিকে তাৎক্ষনিক চিকিৎসা দেয়া না হলে মৃত্যুও হতে পারে। তাই হিটস্ট্রোকের লক্ষণদেখা দেয়া মাত্রই যথাসম্ভব শীতল স্থানে যেতে হবে। অতঃপর শরীর শীতল করার জন্য রোগির ঘাড় ও মাথায় পানি দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। আক্রান্ত ব্যক্তি কিছুটা স্বাভাবিক হলে চিকিৎকের পরামর্শ নেয়ার কথাও জানান তিনি। এছাড়াও এই ঋতুতে বেশি পরিমান তরল খাবার ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শও দেন ডা. ভাস্কর সাহা।