আ’লীগ নেতা ও কাউন্সিলরের বিকাশ মাল্টিপারপাস কার্যালয় ঘেরাও করেছে গ্রাহকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর বিএম কলেজ এলাকায় আ’লীগ নেতা ও কাউন্সিলরের বিকাশ মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডে সঞ্চিত অর্থ ফেরত পেতে কার্যালয় ঘেরাও করেছে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। গতকাল মঙ্গলবার কার্যালয়ে ঘেরাওকালে বিক্ষুব্ধরা বিকাশ মাল্টিপারপাসের পরিচালনাকারী আ’লীগ নেতা ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর দম্পত্তির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছে। কিন্তু পরিচালনাকারী আ’লীগ নেতার দাবী সাময়িক ত্রুটির কারণে গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে দেরি হচ্ছে। গ্রাহকরা জানায়, বিএম কলেজের পাশে বিকাশ মাল্টিপারপাসের পরিচালনা করে আ’লীগ নেতা ভিপি আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৯, ২০ ও ২১ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর সালমা আক্তার শিলা। ওই মাল্টিপারপাসের প্রায় ৮০০ গ্রাহক রয়েছে। সকলে দিনমজুরসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তারা বিভিন্ন সময় ঋণ নেয়া ছাড়াও সঞ্চয় জমা করেছেন। সকল গ্রাহকদের সঞ্চয় জমার পরিমান কোটি টাকার বেশি। কিন্তু প্রতিষ্ঠান মাত্র ৮ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে। গ্রাহক সঞ্জিব কর্মকার ও কানাই কর্মকার জানান, তারা সেখানে গত তিন বছর ধরে মাসিক ৪০০ টাকা হারে প্রায় ৩০ হাজার টাকা সঞ্চয় করেছেন। ওই টাকা ফের চাইলে না দিয়ে আ’লীগ নেতা তার শ্যালক মনিরকে দিয়ে হুমকি দিয়েছে। দিলিপ দাস নামে আরেক গ্রাহক বলেন, তিনি ৩ নামে ৩ বছর মেয়াদে দৈনিক ১০ টাকা হারে ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় করেছেন। মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে ১৪ হাজার ৮০০ টাকা দেয়ার কথা। কিন্তু তারা সেই টাকা দিচ্ছে না। দিলিপ টাকা ফেরত না পাওয়ার শংকায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-৩ শরীফ তাছলিমা কালাম পলি এই প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক। তিনিও ঘেরাওকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, এই এনজিওতে তার ২টি ডিপিএস বই রয়েছে। ১০ বছর মেয়াদী ডিপিএসটিতে বিগত ৮বছর ধরে ২টি বইতে মাসিক ২৪০০ টাকা হারে জমা করেছেন। যার মোট জমা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৮০০ টাকা। তার দাবি টাকা চাইলে দেই দিচ্ছি বলে শুধু আশ্বাস দিচ্ছে। সকাল-সন্ধ্যা সুইটস্’র মালিক বিশ্বজিৎ ঘোষ বিষু অভিযোগ করে বলেন এই এনজিওর মাঠকর্মী কাজলের মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা জমা করেছেন। ওই টাকা ফেরত চাইতে গেলে তার বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিষু ঘোষ। বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা টাকা ফেরত পেতে নানা কর্মসূচি পালনের কথাও জানিয়েছেন। এর মধ্যে মানববন্ধনসহ সমবায় অফিস ঘেরাও করার কর্মসূচিও রয়েছে। গ্রাহকের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিচালনকারী আ’লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, মাঠকর্মী কাজল আনুমানিক ১৫ লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। যার ফলে গ্রাহকদের টাকা দিতে এই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি দাবী করেন বেশ কয়েকজন গ্রাহকের কাছে ঋণ বাবদ প্রায় ৯লক্ষ খেলাপী রয়েছে। তারা টাকা পরিশোধ করার তাগাদা দিলে মাঠ কর্মীদের হুমকি দেয়। টাকা চাইতে গেলে তাদেরকে হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। যাতে ঋণের টাকা দিতে না আসে। সমবায় অফিসে প্রতিষ্ঠানের অডিট করার আবেদন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভিপি আনোয়ার। এছাড়াও বিষু ঘোষের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে তিনি বলেন, যে মাঠকর্মীর কাছে টাকা দিয়েছেন তিনি তা জমা দেননি।