আ’লীগ কর্মী প্রবাসী পরিবার নিয়ে বাড়ি ছাড়া

রহিম রেজা, রাজাপুর॥ রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক রেজাউল ইসলাম রাসেলসহ ক্ষমতাসীন দলের ৪০ জনের বিরুদ্ধে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের মামলা করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বাদী সৌদি প্রবাসী আ’লীগ কর্মী। গত ১৫ দিন ধরে ওই পরিবারের শিশুদের স্কুলে যাওয়া ও লেখাপড়া বন্ধ রয়েছে। এমনকি হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। হুমকির ঘটনায় আদালতে আরো একটি মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মধ্য বড়ইয়া গ্রামের মোঃ আলমগীর হোসেন হাওলাদার। তিনি জানান, ইলিশ ধরা বন্ধের অভিযানে বড়ইয়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ ও প্রশাসনকে ইলিশ শিকারের তথ্য জানিয়েছে।্ এ অভিযোগে গত ৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২ টার দিকে বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এ হামলা চালানো হয়। দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহত হয় আ’লীগ কর্মী মোঃ আলমগীর হোসেন ও তার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম। তারা রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন। ওই হামলার পর পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান জাহিদ আবেদিনের বাড়িতে রেখে যায়। সেই থেকে তারা বাড়িছাড়া হয়ে ১৫ দিন ধরে ওখানেই রয়েছেন। বন্ধ রয়েছে ৩য় শ্রেণির ছাত্রী সুমির লেখাপড়া। এদিকে এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে হামলাকারীরা। পরে নিরুপায় হয়ে ঝালকাঠি আদালতে ৭ ধারার আরও একটি মামলা করেন আলমীগর। অপরদিকে এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য উল্টো মাছ ধরার নৌকায় লুটপাট চালানোর অভিযোগে আলমগীরসহ ওই এলাকার নিরীহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলাও করেছে হামলাকারীরা। রাজাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকরা ও জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটির নেতৃবৃন্দরা সরেজমিনে দিয়ে দেখেছেন, আলমগীরের বাড়ির ভাঙচুরকৃত বসতঘরটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়রা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না। এ বিষয়ে আলমগীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বড়ইয়া উপ নির্বাচনে চাচাতো ভাই আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থী জাহিদ আবেদিনের নির্বাচন করেছি। ওই নির্বাচনের জেরে উদ্দেশ্যমূলকভাবে উপজেলা চেয়ারম্যানের আর্শিবাদপুষ্ট ইউনিয়ন ছাত্রলীগ আহবায়ক রাসেলের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীনদলের মতিন, বাদলা, দেলোয়ার ও সুজনসহ ৩০/৪০ জন। উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরউজ্জামান বলেন, মূলত ওই বাড়িতে হামলা করেছে জেলেরা। যাদের নামে মামলা হয়েছে তারা ওই ঘটনার সাথে জড়িত নয় এবং স্পটেও ছিল না। এ ছাড়া আলমগীররা ইচ্ছা করেই বাড়িতে আসছে না, কেহই তাদের বাঁধা ও হুমিক দিচ্ছে কিনা তা আমার জানা নেই। আমি কখনই অন্যায় বা অন্যাকারীকে প্রশ্রয় দেইনি। হামলার বিষয়টি রাজনৈতিক ছিল না, কিন্তু এখন রাজনৈতিক হয়ে গেছে। পাল্টাপাল্টি মামলা হওয়ায় বিষয়টি মিমাংসার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।