আ’লীগের শায়েস্তাবাদ ইউপি শাখার সম্মেলনে গোলযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ হামলা, সংঘর্ষ ও পুলিশের লাঠি পেটার মধ্য দিয়ে শেষ হলো সদর উপজেলার সায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন। গতকাল রবিবার দুপুরে সম্মেলন চলাকালে দুই সভাপতি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষ ও পুলিশের লাঠি পেটায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এসময় মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। তাছাড়া আহতদের স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক কাউন্সিলর জানান, দীর্ঘ ১২ বছর পরে বরিশাল সদর উপজেলার সায়েস্তাবাদ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুর দেড়টায় ইউনিয়নের সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন মাধ্যমিক বদ্যিালয়ে এ সম্মেলন শুরু হয়।
এদিকে কাউন্সিলকে ঘিরে বেশ কদিন ধরেই ইউনিয়নে ব্যাপক উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এমনকি এই কাউন্সিল নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগায়। সে অনুযায়ী সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি আরিফ হোসেন মুন্না, সুলতান হোসেন মাস্টার ও রুবেল হোসেন মামুন তালুকদার প্রার্থী ছিলেন।
সম্মেলন চলাকালে রুবেল হোসেন মামুন তালুকদারে সমর্থকরা তার নাম নিয়ে শ্লোগান ধরে। এসময় সুলতান হোসেন মাস্টারের পক্ষ নিয়ে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শামসুদ্দিন আবেদ তার বাহিনী নিয়ে রুবেল হোসেন মামুন তালুকদারের সমর্থকদের উপরে লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। এক পর্যায় দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে।
খবর পেয়ে কাউনিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে দুই গ্রুপের বিশৃঙ্খলাকারীদের উপর এলোপাথারী লাঠি চার্জ করে। সংঘর্ষ ও লাঠি চার্জে দুই পক্ষের কমপক্ষের জাহিদ হোসেন, নুরু ও লাভলুসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয় বলে দাবী করেছেন উভয়পক্ষ।
এদিকে পুলিশের লাঠিচার্জের ফলে দু’গ্রুপের মধ্যে আরো ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে বাইরে চলে যায়। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে আসে। ফলে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে রক্ষা পায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহ তাদের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
জানতে চাইলে রুবেল হোসেন মামুন তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সুলতান মাস্টার নির্বাচন ছাড়াই সভাপতি হতে চেয়েছিলো। এজন্য সম্মেলনে তিনি বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া করে নিয়ে আসে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্মেলন চলাকালে তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী আমার কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা চালায়।
তবে তার এ অভিযোগ অস্বীকার করে সভাপতি প্রার্থী সুলতান হোসেন মাস্টার জানান, তার কোন বাহিনী নেই। তাছাড়া যে ঘটনা ঘটেছে তা নিজেদের মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝির জন্য হয়েছে। এমনকি আ’লীগ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ সহ উপস্থিত নেতা-কর্মীরা বিরোধ মিটিয়ে দিয়েছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম ছবি বলেন, শ্লোগান দেয়া নিয়ে নিজেদের মধ্যে একটু উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে উপস্থিত মহানগর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পরিস্থিতি শান্ত করেছে। এছাড়া বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
জানতে চাইলে মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবর রহমান পরিবর্তনকে জানান, নগরীর ভাটিখানা এলাকা থেকে কিছু যুবক সায়েস্তাবাদে সম্মেলন স্থলে যায়। তারাই সম্মেলন চলাকালে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এসময় পুলিশ লাঠি চার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এতে কেউ আহত হয়নি। তবে দুই যুবক দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে পায়ে একটু ব্যাথা পেয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।