আ’লীগের প্রার্থী মইদুলের সমর্থনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করছেন হোসেন চৌধুরী ও গোলাম ফারুক

রুবেল খান ॥ বরিশাল জেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং মেয়রদের সমর্থন পেলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মইদুল ইসলাম। গতকাল শুক্রবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরী সভার মাধ্যমে তাকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী মইদুল ইসলামকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাড়াচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী এবং বানারীপাড়া উপজেলার সদ্য পদত্যাগী চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক। আজ শনিবার সকালে তারা দু’জন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিবেন। তবে এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মইদুল ইসলাম এর নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আলহাজ্ব গোলাম ফারুক। ফলে বরিশাল জেলা পরিষদ নির্বাচনে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন এ্যাড. খান আলতাফ হোসেন ভুলু। যদিও তিনি নিজেকে এখনো দলের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে দাবী করে আসছেন।
সূত্রমতে, আগামী ২৮ ডিসেম্বর দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে জেলা পরিষদ নির্বাচন। ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র যাচাই, বাছাই এবং আপিল এর সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১১ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।
এদিকে বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রথম দিকে আওয়ামী লীগের সমর্থন দেয়া হয় জেলা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও কৃষক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাড. খান আলতাফ হোসেন ভুলুকে। দলের এমন সিদ্ধান্তে উৎকন্ঠা দেখা দেয় তৃনমুল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাঝে। তারই অংশ হিসেবে দল সমর্থিত প্রার্থী খান আলতাফ হোসেন ভুলুর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জেলা আওয়ামী লীগের তিন নেতা। এরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা’র সভাপতি ও সাবেক এমপি মইদুল ইসলাম এবং বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম ফারুক। এর মধ্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার আশায় গোলাম ফারুক উপজেলা চেয়ারম্যান এর পদ হতে পদত্যাগ করে মনোনয়নপত্র জমা দেন। ফলে বরিশাল জেলা পরিষদ নির্বাচন অনেকটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে আশংকা করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে দলের একাধিক প্রার্থী নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় ভোটারদের। তাই তৃনমুলের দাবীর বিষয়টি পূণঃবিবেচনায় এনে খান আলতাফ হোসেন ভুলুকে দেয়া সমর্থন বাতিল করে বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা মইদুল ইসলামকে সমর্থন জানান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। এরপরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর করা দলের সমর্থনপত্র তুলে দেন মইদুল ইসলামের হাতে। এরপরই পাল্টে যায় বরিশাল জেলা পরিষদ নির্বাচনের হালচাল। আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র পূর্ণ সমর্থন পেয়ে জেলা, মহানগর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ তৎপর হয়ে ওঠে। তবে সমর্থন পরিবর্তন হলেও বিদ্রোহী দমাতে পারছিলোনা দলের হাইকমান্ড।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় জেলা পরিষদ নির্বাচনের বিষয় নিয়ে ঢাকায় বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এমপি’র বাসভবনে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস-এমপি, বরিশাল জেলার ১০ উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ৬ পৌর মেয়র ছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারন সম্পাদক এড. এ.কে.এম জাহাঙ্গীর সহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভা প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান এড. মুনসুর আহম্মেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, খান আলতাফ হোসেন ভুলুকে বাদ দিয়ে মইদুল ইসলামকে দলের সমর্থন দেয়ায় আ’লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। সভানেত্রীর সিদ্ধান্তকে বাস্তবসম্মত আখ্যা দিয়ে দলের একক প্রার্থী মো. মইদুল ইসলামকে বিজয়ী করতে বরিশালবাসীর প্রতি আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ। একই সাথে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী এবং গোলাম ফারুক এর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ সভার মাধ্যমে সকলের উপস্থিতি এবং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আ’লীগের প্রার্থী মো. মইদুল ইসলাম এর নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে গোলাম ফারুককে। সে অনুযায়ী আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র উপস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং সদর উপজেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট দুই প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার পত্র জমা দিবেন।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাবেক এমপি মইদুল ইসলাম এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমর্থনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার সময়সীমা অর্থাৎ ১১ ডিসেম্বরের পূর্বে গনমাধ্যমকে তার নির্বাচনের বিষয়ে কিছু জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।
সদ্য উপজেলা চেয়ারম্যান পদ হতে পদত্যাগকারী বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম ফারুক পরিবর্তনকে বলেন, দল থেকে খান আলতাফ হোসেন ভুলুকে সমর্থনের বিষয়টি তৃনমূলের কেউ মেনে নিতে পারেনি। আর তাই আলতাফ হোসেন ভুলুকে ঠেকাতেই আমরা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। নেত্রী পূর্বে সমর্থন বাতিল করে মইদুল ইসলামকে সমর্থন দিয়েছেন। যে কারনে নেত্রী এবং দলের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা মেনে আমি (গোলাম ফারুক) এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী আজ সকাল সাড়ে ৯টায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিবো। পাশাপাশি সকলের দাবী এবং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের একক প্রার্থী মইদুল ইসলামকে বিজয় করতে তার নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।